ঢাকা ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাউনিয়া বাসস্ট্যান্ড শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন কমিটি অনুমোদন টুপামারীতে কিসামত দোগাছি প্রিমিয়ার লীগ ২০২৬-এর উদ্বোধন তিব্র শিক্ষক সংকটে চলছে তাহিরপুরে হাওরাঞ্চলের দুর্গম এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সুন্দরগঞ্জে ১৩৫ মণ্ডপে হবে শারদীয় দুর্গোৎসব ঠাকুরগাঁওয়ে নাগর নদীতে গোসল করতে নেমে প্রাণ গেল ১৬ বছরের রকিরের মদিনার বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ড্রোন হামলা: দায় অস্বীকার হুতিদের ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনায় ইরান জড়িত থাকলে কঠোর হামলা: ট্রাম্প দেশে হাম ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১১৪ ইসরায়েলি নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিতে ট্রাম্পের অনীহা মিরপুরে সরকারি ভবনের লিফট ছিঁড়ে শিশুসহ আহত তিন

সোনাহাট স্থলবন্দর সড়ক চলাচলের অনুপযোগী ভোগান্তিতে দুই দেশের  আমদানী রপ্তানীকারকরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১০:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২০ ৫৮২ বার পড়া হয়েছে

সোনাহাট স্থল বন্দর

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভূরুঙ্গামারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধিঃ ভূরুঙ্গামারী থেকে সোনাহাট স্থলবন্দরগামী এ্যাপ্রোচ সড়কের  সোনাহাট ব্রীজ থেকে স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়ক চলাচলের অনুপোযোগী।ভোগান্তিতে পড়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের পণ্য আমদানী রপ্তানীকারকরা। দেশের ১৮তম স্থলবন্দটির সড়ক সংস্কারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ধীরগতি ও অনিয়মের কারণে ভরা বর্ষায় খানা-খন্দে ভরে গেছে। এতে বাংলাদেশ ও ভারতের পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলে একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সড়কটি।

জানা গেছে, এডিপি’র অর্থায়নে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে ৪৪ কোটি ৬২লক্ষ ৮হাজার ৮২৪ টাকা ব্যয়ে ৩ দশমিক ৪৩ কিঃ মিঃ দীর্ঘ সোনাহাট ব্রীজ থেকে স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়কের কাজ শুরু করা হয় ৫ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীঃ। সড়কটি বাস্তবায়ন করছে কুড়িগ্রাম রোডস এন্ড হাইওয়ের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টার প্রাইজ প্রাঃ লিঃ।

বন্দর ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সড়ক সংস্কারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ধীর গতি ও চরম গাফিলাতির কারণে স্থলবন্দরগামী সড়কের বিভিন্ন স্থানে তৈরী হয়েছে বড় বড় গর্ত । একটু বৃষ্টি হলেই পণ্যবাহী  ট্রাক গর্তে ফেসে যাচ্ছে। এতে বিকল হয়ে যাচ্ছে পণ্যবাহী ট্রাক।

তারা আরো জানায়, স্থলবন্দরগামী এই সড়কে প্রতিদিন প্রায় ২০০ ভারতীয় গাড়ী বাংলাদেশে প্রবেশ করত কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে গাড়ী আসছে ২০ থেকে ৩০টি এতে একদিকে যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার অপরদিকে বন্দর ব্যবসায়ীদের লোকসানের পাল্লাও ভারী হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়েও রাস্তার এই বেহাল দশা দেখা গেছে।

 

ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভার আবুল হোসেন ও খলিল শেখ বলেন, পণ্য বোঝাই ট্রাক কাদা কিংবা খানা-খন্দে ফেঁসে গেলে গাড়ীর অনেক যন্ত্র-পাতি বিকল ও ভেঙ্গে যায় ,এগুলো মেরামত করতে দুই চার দিন সময় লেগে যায়। ফলে আমরা বাংলাদেশে ট্রাক নিয়ে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি।

আমদানী ও রপ্তানীকারক ব্যাবসায়ী এরশাদুল হক ক্ষোভের সাথে জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের কারণে রাস্তার এই বেহাল দশা। সড়কের ডাইভারশনের কাজ শুরু করলেও খোয়ার পরিমান কম দিয়ে বেশির ভাগ রাবিশ দিয়ে কাজ করায় রাস্তার এই দূরবস্থা। এতে আমরা ক্ষাতিগ্রস্থ হচ্ছি।

আমদানী ও রপ্তানীকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে সড়কের এই অবস্থা আমরা বারবার সংশ্লিষ্টদের অবগত করলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেননি। ব্যবসায়ীরা এল সি করলেও রাস্তার দূরবস্থার কারণে আনতে পারছে না মালামাল। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ব্যবসায়ীরা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার ।

বন্দর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর কিবরিয়া জলিল তুহিন এ প্রসঙ্গে বলেন, বর্তমানে সংক্ষুদ্ধ আসাম বেল্টের কারণে এ বন্দরটি বেশির ভাগ সময়ই বন্ধ থাকে উপরোন্তু সড়ক খারাপ হওয়ার কারণে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০টি গাড়ী খানাখন্দে ফেসে যাওয়ায় ভারত থেকে গাড়ী কম আসছে। এতে বন্দর ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

রোডস এন্ড হাইওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আলী নুরায়ইন এর কাছে সোনাহাট স্থলবন্দরগামী সড়কটির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হয়ে  ঠিকাদারের সাথে কথা বলেছি তারা শীঘ্রই বন্দরগামী  সড়কটির কাজ শুরু করবে।২৪.০৭.২০২০

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সোনাহাট স্থলবন্দর সড়ক চলাচলের অনুপযোগী ভোগান্তিতে দুই দেশের  আমদানী রপ্তানীকারকরা

আপডেট সময় : ০৮:১০:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২০

ভূরুঙ্গামারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধিঃ ভূরুঙ্গামারী থেকে সোনাহাট স্থলবন্দরগামী এ্যাপ্রোচ সড়কের  সোনাহাট ব্রীজ থেকে স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়ক চলাচলের অনুপোযোগী।ভোগান্তিতে পড়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের পণ্য আমদানী রপ্তানীকারকরা। দেশের ১৮তম স্থলবন্দটির সড়ক সংস্কারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ধীরগতি ও অনিয়মের কারণে ভরা বর্ষায় খানা-খন্দে ভরে গেছে। এতে বাংলাদেশ ও ভারতের পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলে একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সড়কটি।

জানা গেছে, এডিপি’র অর্থায়নে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে ৪৪ কোটি ৬২লক্ষ ৮হাজার ৮২৪ টাকা ব্যয়ে ৩ দশমিক ৪৩ কিঃ মিঃ দীর্ঘ সোনাহাট ব্রীজ থেকে স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়কের কাজ শুরু করা হয় ৫ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীঃ। সড়কটি বাস্তবায়ন করছে কুড়িগ্রাম রোডস এন্ড হাইওয়ের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টার প্রাইজ প্রাঃ লিঃ।

বন্দর ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সড়ক সংস্কারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ধীর গতি ও চরম গাফিলাতির কারণে স্থলবন্দরগামী সড়কের বিভিন্ন স্থানে তৈরী হয়েছে বড় বড় গর্ত । একটু বৃষ্টি হলেই পণ্যবাহী  ট্রাক গর্তে ফেসে যাচ্ছে। এতে বিকল হয়ে যাচ্ছে পণ্যবাহী ট্রাক।

তারা আরো জানায়, স্থলবন্দরগামী এই সড়কে প্রতিদিন প্রায় ২০০ ভারতীয় গাড়ী বাংলাদেশে প্রবেশ করত কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে গাড়ী আসছে ২০ থেকে ৩০টি এতে একদিকে যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার অপরদিকে বন্দর ব্যবসায়ীদের লোকসানের পাল্লাও ভারী হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়েও রাস্তার এই বেহাল দশা দেখা গেছে।

 

ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভার আবুল হোসেন ও খলিল শেখ বলেন, পণ্য বোঝাই ট্রাক কাদা কিংবা খানা-খন্দে ফেঁসে গেলে গাড়ীর অনেক যন্ত্র-পাতি বিকল ও ভেঙ্গে যায় ,এগুলো মেরামত করতে দুই চার দিন সময় লেগে যায়। ফলে আমরা বাংলাদেশে ট্রাক নিয়ে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি।

আমদানী ও রপ্তানীকারক ব্যাবসায়ী এরশাদুল হক ক্ষোভের সাথে জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের কারণে রাস্তার এই বেহাল দশা। সড়কের ডাইভারশনের কাজ শুরু করলেও খোয়ার পরিমান কম দিয়ে বেশির ভাগ রাবিশ দিয়ে কাজ করায় রাস্তার এই দূরবস্থা। এতে আমরা ক্ষাতিগ্রস্থ হচ্ছি।

আমদানী ও রপ্তানীকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে সড়কের এই অবস্থা আমরা বারবার সংশ্লিষ্টদের অবগত করলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেননি। ব্যবসায়ীরা এল সি করলেও রাস্তার দূরবস্থার কারণে আনতে পারছে না মালামাল। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ব্যবসায়ীরা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার ।

বন্দর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর কিবরিয়া জলিল তুহিন এ প্রসঙ্গে বলেন, বর্তমানে সংক্ষুদ্ধ আসাম বেল্টের কারণে এ বন্দরটি বেশির ভাগ সময়ই বন্ধ থাকে উপরোন্তু সড়ক খারাপ হওয়ার কারণে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০টি গাড়ী খানাখন্দে ফেসে যাওয়ায় ভারত থেকে গাড়ী কম আসছে। এতে বন্দর ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

রোডস এন্ড হাইওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আলী নুরায়ইন এর কাছে সোনাহাট স্থলবন্দরগামী সড়কটির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হয়ে  ঠিকাদারের সাথে কথা বলেছি তারা শীঘ্রই বন্দরগামী  সড়কটির কাজ শুরু করবে।২৪.০৭.২০২০

 

 

 

Facebook Comments Box