ঢাকা ১১:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সুযোগ নেই প্রধানমন্ত্রীর: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জাপানে টাইফুন দুজুয়ানের আঘাত: নিহত ২, বিদ্যুৎহীন হাজারো পরিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে ২২০ পদে বড় নিয়োগ, আবেদন করুন অনলাইনে জাপানে টাইফুন দুজুয়ানের আঘাত: প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এইচএসসি পাসে চাকরির বড় সুযোগ: সরকারি-বেসরকারি খাতে হাজারো পদ ইরানে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবকে ‘ভূমিকম্প’ বললেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী মাদারগঞ্জে কিশোরী মেয়েকে নির্যাতনের অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার সাবেক এমপি গাজী নজরুলের স্ত্রীর শেষকৃত্য সম্পন্ন প্রতিবেশী দেশে জ্বালানি তেলের দাম কত? দেখুন সর্বশেষ তালিকা মাদকের আখড়া নয়-হরিকেশ হোক নিরাপদ আবাসভূমি, মাদক নির্মূলে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ চায় এলাকাবাসী

ঘুরে আসুন ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন মসজিদ (People from both countries worship in the same mosque)

সৃষ্টি বিনোদন
  • আপডেট সময় : ০২:২৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ মে ২০২১ ৭৫৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঘুরে আসুন ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন মসজিদ (People from both countries worship in the same mosque)।

কিভাবে যাবেন?

দেশের যেকোনো জায়গা থেকে বাসে কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আসতে। তারপর ভূরুঙ্গামারী থেকে অটোরিকশায় যেতে হবে পাথরডুবি ইউনিয়নের বাঁশজানি। বাঁশজানি সীমান্তে রয়েছে দুই দেশের এক মসজিদ।

পাথরডুবি ইউনিয়নের বাঁশজানি সীমান্তে রয়েছে দুই দেশের এক মসজিদ। বাংলাদেশ আর ভারতের পশ্চিম বঙ্গের মানুষের মসজিদ এটি। ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষা এই মসজিদটি দুই দেশের মানুষকে এক সেতুবন্ধনে আবদ্ধ করে রেখেছে।

জেনে নিন>> ভূরুঙ্গামারীর মীর জুমলা (অতিপ্রাচীন) মসজিদ

ভারত ও বাংলাদেশ দুই দেশের মুসলমানরা একই মসজিদে নামাজ পড়েন। বাংলাদেশ ও ভারত সীমানার আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯৭৮ এর সাব পিলার ৯ এর পাশে এই মসজিদটি অবস্থিত। উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার ঝাকুয়াটারী গ্রাম, দক্ষিণে কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের দক্ষিণ বাঁশজানি গ্রাম।

মসজিদটি দুই সীমান্তের শূন্য রেখায় বাংলাদেশের ভূখণ্ডে নির্মিত। এ মসজিদের নাম ‘ঝাকুয়াটারী সীমান্ত জামে মসজিদ’। এই মসজিদটি ১৮২০ সালে স্থাপনে করা হয়।  স্থাপনের সময় থেকেই মসজিদটি দাঁড়িয়ে আছে মুসলিম সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে। দেশভাগের আগে আত্মীয়-স্বজন নিয়ে এখানকার সমাজ গড়ে উঠেছিল।

১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্ত হলে গ্রামটির উত্তর অংশ ভারতের এবং দক্ষিণ অংশ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থেকে যায়। ভারতীয় অংশের নাম হয় ঝাকুয়াটারী, আর  বাংলাদেশের অংশ নামকরণ হয় বাঁশজানি গ্রাম। পরবর্তীতে ভারত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করলে ভারতের অংশটি বেড়ার বাইরে পড়ে যায়।

পড়ুন>>মীর জুমলা মসজিদে প্রাপ্ত নিদর্শন  গ্রামটি আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার দিয়ে দুটি দেশে বিভক্ত হলেও ভাগ হয়নি তাদের সামাজিক বন্ধন। প্রতিবেশীর মতোই তাদের বসবাস। ভিন্ন সংস্কৃতি ভিন্ন দেশ হওয়া সত্ত্বেও তারা একই সমাজের বাসিন্দা, একই মসজিদের মুসল্লি। মসজিদের মুয়াজ্জিনের আজানের ধ্বনিতে দুই বাংলার মুসল্লিরা ছুটে আসেন মসজিদে।

একসাথে নামাজ আদায় করে একে অপরের প্রীতি আর ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়ে দুই বাংলার সীমান্তবাসীর দুঃখ, বেদনা ও সুখের কথা আদান প্রদান করেন। একই সমাজভুক্ত হওয়ায় আলাদা দেশের অধিবাসী হয়েও একে অপরের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ায়।


ঐতিহ্যবাহী সীমান্ত এই মসজিদটি দেখতে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা আসে। সীমান্ত মসজিদটি দুইশ বছরের পুরনো হলেও সীমান্তে অবকাঠামো নির্মাণে আন্তর্জাতিক আইনে বিধি নিষেধ থাকায় অবকাঠামোগত কোনো উন্নতি হয়নি।

দুই বাংলার মানুষের আর্থিক সহায়তা দিয়ে মসজিদটির অস্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ ও মেরামত করা হয়। সীমান্তে অবকাঠামো নির্মাণে আন্তর্জাতিক আইনে বিধি নিষেধ শিথিল করে দুইদেশ যৌথ ভাবে মসজিদের অবকাঠামোর উন্নয়ন করলে দুই দেশের সম্প্রতি ও ভ্রাতৃত্বতা নিদর্শন হয়ে থাকবে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

7 thoughts on “ঘুরে আসুন ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন মসজিদ (People from both countries worship in the same mosque)

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঘুরে আসুন ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন মসজিদ (People from both countries worship in the same mosque)

আপডেট সময় : ০২:২৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ মে ২০২১

ঘুরে আসুন ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন মসজিদ (People from both countries worship in the same mosque)।

কিভাবে যাবেন?

দেশের যেকোনো জায়গা থেকে বাসে কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আসতে। তারপর ভূরুঙ্গামারী থেকে অটোরিকশায় যেতে হবে পাথরডুবি ইউনিয়নের বাঁশজানি। বাঁশজানি সীমান্তে রয়েছে দুই দেশের এক মসজিদ।

পাথরডুবি ইউনিয়নের বাঁশজানি সীমান্তে রয়েছে দুই দেশের এক মসজিদ। বাংলাদেশ আর ভারতের পশ্চিম বঙ্গের মানুষের মসজিদ এটি। ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষা এই মসজিদটি দুই দেশের মানুষকে এক সেতুবন্ধনে আবদ্ধ করে রেখেছে।

জেনে নিন>> ভূরুঙ্গামারীর মীর জুমলা (অতিপ্রাচীন) মসজিদ

ভারত ও বাংলাদেশ দুই দেশের মুসলমানরা একই মসজিদে নামাজ পড়েন। বাংলাদেশ ও ভারত সীমানার আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯৭৮ এর সাব পিলার ৯ এর পাশে এই মসজিদটি অবস্থিত। উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার ঝাকুয়াটারী গ্রাম, দক্ষিণে কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের দক্ষিণ বাঁশজানি গ্রাম।

মসজিদটি দুই সীমান্তের শূন্য রেখায় বাংলাদেশের ভূখণ্ডে নির্মিত। এ মসজিদের নাম ‘ঝাকুয়াটারী সীমান্ত জামে মসজিদ’। এই মসজিদটি ১৮২০ সালে স্থাপনে করা হয়।  স্থাপনের সময় থেকেই মসজিদটি দাঁড়িয়ে আছে মুসলিম সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে। দেশভাগের আগে আত্মীয়-স্বজন নিয়ে এখানকার সমাজ গড়ে উঠেছিল।

১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্ত হলে গ্রামটির উত্তর অংশ ভারতের এবং দক্ষিণ অংশ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থেকে যায়। ভারতীয় অংশের নাম হয় ঝাকুয়াটারী, আর  বাংলাদেশের অংশ নামকরণ হয় বাঁশজানি গ্রাম। পরবর্তীতে ভারত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করলে ভারতের অংশটি বেড়ার বাইরে পড়ে যায়।

পড়ুন>>মীর জুমলা মসজিদে প্রাপ্ত নিদর্শন  গ্রামটি আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার দিয়ে দুটি দেশে বিভক্ত হলেও ভাগ হয়নি তাদের সামাজিক বন্ধন। প্রতিবেশীর মতোই তাদের বসবাস। ভিন্ন সংস্কৃতি ভিন্ন দেশ হওয়া সত্ত্বেও তারা একই সমাজের বাসিন্দা, একই মসজিদের মুসল্লি। মসজিদের মুয়াজ্জিনের আজানের ধ্বনিতে দুই বাংলার মুসল্লিরা ছুটে আসেন মসজিদে।

একসাথে নামাজ আদায় করে একে অপরের প্রীতি আর ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়ে দুই বাংলার সীমান্তবাসীর দুঃখ, বেদনা ও সুখের কথা আদান প্রদান করেন। একই সমাজভুক্ত হওয়ায় আলাদা দেশের অধিবাসী হয়েও একে অপরের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ায়।


ঐতিহ্যবাহী সীমান্ত এই মসজিদটি দেখতে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা আসে। সীমান্ত মসজিদটি দুইশ বছরের পুরনো হলেও সীমান্তে অবকাঠামো নির্মাণে আন্তর্জাতিক আইনে বিধি নিষেধ থাকায় অবকাঠামোগত কোনো উন্নতি হয়নি।

দুই বাংলার মানুষের আর্থিক সহায়তা দিয়ে মসজিদটির অস্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ ও মেরামত করা হয়। সীমান্তে অবকাঠামো নির্মাণে আন্তর্জাতিক আইনে বিধি নিষেধ শিথিল করে দুইদেশ যৌথ ভাবে মসজিদের অবকাঠামোর উন্নয়ন করলে দুই দেশের সম্প্রতি ও ভ্রাতৃত্বতা নিদর্শন হয়ে থাকবে।

Facebook Comments Box