ঢাকা ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৫টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতে বিশ্বমঞ্চে প্রশংসিত কাতারি সিনেমা ‘সনদ’

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৬:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দুই ভাইয়ের খুনসুটি, প্রতিযোগিতা এবং গভীর ভালোবাসার গল্প নিয়ে নির্মিত কাতারি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সনদ’ (SANAD) আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। নির্মাতা নূর আল-নাসরের পরিচালনায় এই ছবিটি এখন পর্যন্ত বিশ্বের ৫০টি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়ে ২৫টি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করেছে। আরবি ‘সনদ’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো ভরসা বা আস্থার জায়গা, যা প্রতিকূল সময়ে একজনের পাশে এসে দাঁড়ায়। ছবির কাহিনি আলী ও জসিম নামের দুই ভাইকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে।

চলচ্চিত্রটিতে দেখানো হয়েছে, একটি সাধারণ ও নির্দোষ কৌতুক বা প্র্যাংক কীভাবে ধীরে ধীরে প্রতিশোধের খেলায় রূপ নেয়। এই ঘটনা শেষপর্যন্ত তাদের রক্তের সম্পর্কের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে। হাস্যরস, উত্তেজনা এবং আবেগঘন অনুভূতির সমন্বয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি দর্শকদের এই বার্তাই দেয় যে, ভাইয়ে-ভাইয়ে যতই দ্বন্দ্ব বা প্রতিযোগিতা থাকুক না কেন, বিপদের মুহূর্তে একে অপরের নিরাপত্তায় এগিয়ে আসাই হলো সম্পর্কের মূল ভিত্তি।

ছবিটি লন্ডন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস এবং সুইডেন ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডসে সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের খেতাব জিতেছে। এছাড়া ইতালির মিলানো ইন্ডি মুভি অ্যাওয়ার্ডস থেকে এটি সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার অর্জন করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসব যেমন সারায়েভো ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এবং ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়ে এটি সমাদৃত হয়েছে। কাতারের জনপ্রিয় আজয়াল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও ছবিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শিত হয়েছে।

পরিচালক নূর আল-নাসর বলেন, “আমি সবসময় সাধারণ মানুষের জীবনের গল্পগুলোকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে পছন্দ করি। ‘সনদ’-এর মাধ্যমে আমি ভাই-বোনের পারস্পরিক রাগ-অনুরাগ ও প্রতিযোগিতার পাশাপাশি একে অপরকে রক্ষা করার সুপ্ত মানসিকতাটি ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি।” তিনি আরও জানান যে, এই সাফল্য পুরো টিমের কঠোর পরিশ্রমের ফসল। পাশাপাশি দোহা ফিল্ম ইনস্টিটিউটের (DFI) অসামান্য সমর্থন ও উৎসাহের কারণেই এই গল্পটি বিশ্বজুড়ে এত মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পেরেছে। ‘সনদ’-এর এই অর্জন কাতারি চলচ্চিত্র শিল্পকে বিশ্বমঞ্চে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করেছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

২৫টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতে বিশ্বমঞ্চে প্রশংসিত কাতারি সিনেমা ‘সনদ’

আপডেট সময় : ০২:৪৬:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

দুই ভাইয়ের খুনসুটি, প্রতিযোগিতা এবং গভীর ভালোবাসার গল্প নিয়ে নির্মিত কাতারি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সনদ’ (SANAD) আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। নির্মাতা নূর আল-নাসরের পরিচালনায় এই ছবিটি এখন পর্যন্ত বিশ্বের ৫০টি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়ে ২৫টি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করেছে। আরবি ‘সনদ’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো ভরসা বা আস্থার জায়গা, যা প্রতিকূল সময়ে একজনের পাশে এসে দাঁড়ায়। ছবির কাহিনি আলী ও জসিম নামের দুই ভাইকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে।

চলচ্চিত্রটিতে দেখানো হয়েছে, একটি সাধারণ ও নির্দোষ কৌতুক বা প্র্যাংক কীভাবে ধীরে ধীরে প্রতিশোধের খেলায় রূপ নেয়। এই ঘটনা শেষপর্যন্ত তাদের রক্তের সম্পর্কের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে। হাস্যরস, উত্তেজনা এবং আবেগঘন অনুভূতির সমন্বয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি দর্শকদের এই বার্তাই দেয় যে, ভাইয়ে-ভাইয়ে যতই দ্বন্দ্ব বা প্রতিযোগিতা থাকুক না কেন, বিপদের মুহূর্তে একে অপরের নিরাপত্তায় এগিয়ে আসাই হলো সম্পর্কের মূল ভিত্তি।

ছবিটি লন্ডন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস এবং সুইডেন ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডসে সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের খেতাব জিতেছে। এছাড়া ইতালির মিলানো ইন্ডি মুভি অ্যাওয়ার্ডস থেকে এটি সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার অর্জন করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসব যেমন সারায়েভো ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এবং ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়ে এটি সমাদৃত হয়েছে। কাতারের জনপ্রিয় আজয়াল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও ছবিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শিত হয়েছে।

পরিচালক নূর আল-নাসর বলেন, “আমি সবসময় সাধারণ মানুষের জীবনের গল্পগুলোকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে পছন্দ করি। ‘সনদ’-এর মাধ্যমে আমি ভাই-বোনের পারস্পরিক রাগ-অনুরাগ ও প্রতিযোগিতার পাশাপাশি একে অপরকে রক্ষা করার সুপ্ত মানসিকতাটি ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি।” তিনি আরও জানান যে, এই সাফল্য পুরো টিমের কঠোর পরিশ্রমের ফসল। পাশাপাশি দোহা ফিল্ম ইনস্টিটিউটের (DFI) অসামান্য সমর্থন ও উৎসাহের কারণেই এই গল্পটি বিশ্বজুড়ে এত মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পেরেছে। ‘সনদ’-এর এই অর্জন কাতারি চলচ্চিত্র শিল্পকে বিশ্বমঞ্চে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করেছে।

Facebook Comments Box