ঢাকা ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভূরুঙ্গামারীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় সমবায় দিবস পালন ভূরুঙ্গামারীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত নীলফামারীতে পৃথক দুই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ৪ বিরলে বিএনপির আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন নওগাঁয় ডিসি গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের পর্দা উঠছে ১০ নভেম্বর নাগেশ্বরীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল নওগাঁয় ইট প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো র‍্যাগিং চলবে না-উপাচার্য হাসানাত আলী কাউনিয়ায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও র‍্যালি সরিষাবাড়ীতে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

১৩ বছর বয়সে বাল্যবিবাহ রুখে দিয়ে আজ উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে সুচিত্রা রাণী

কুড়িগ্রাম থেকে বিপুল রায়
  • আপডেট সময় : ১০:৩৫:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৪৮ বার পড়া হয়েছে

১৩ বছর বয়সে বাল্যবিবাহ রুখে দিয়ে আজ উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে সুচিত্রা রাণী

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

১৩ বছর বয়সে বাল্যবিবাহ রুখে দিয়ে আজ উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে সুচিত্রা রাণী

১৩ বছর বয়সে বাল্যবিবাহ রুখে দিয়ে আজ উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে সুচিত্রা রাণী
সবেমাত্র কৈশোরে পা দিয়েছে সুচিএা রাণী। এমন এক সময়ে পারিবারিক প্রথা মেনে নিয়ে শিশুবিয়েতে রাজি হবে নাকি নিজের স্বপ্নপূরণে পা বাড়াবে- এই দোটানায় পড়ে সে। চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। বিশেষ করে আবাদি জমির সংকট এবং বিয়ের মাধ্যমে মেয়ের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার প্রচলিত বিশ্বাস তার পরিবারকে, সাথে তার ভবিষ্যতকেও সংকটে ফেলে দেয়।

পড়ুন>>নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের গাড়ির ধাক্কায় নিহত ১

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর বেরুবাড়ি ইউনিয়নের ফরাসকুড়া গ্রামে সুশিল চন্দ্রের কন্যা সুচিত্রা রাণী বলেন, আমি যখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি তখন আমার বিয়ের আলাপ আসে।
বাবা মা রাজি থাকলেও আমি রাজি ছিলাম না!
আমার প্রচেষ্টা এবং ভগবানের কৃপায় বিয়ে বন্ধ করি।
এভাবে অনেক বাধা-বিপত্তির মধ্যে দিয়ে এস.এস.সি ও এইচ এস সি পাশ করি।

আমার পরিবারের অবস্থা ছিল অসচ্ছল।  বাবা-মা সব সময় আমাকে নিয়ে চিন্তা করত কিভাবে আমার লেখাপড়ার খরচ চালাবে। আমরা তিন বোন এক ভাই, আমি সবার ছোট।

বড় দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেলেও আমাকে নিয়ে সবাই সমালোচনা করে, কিন্তু আমি সব সময় সমালোচনা মোকাবেলা করার জন্য বিভিন্ন ধরনের সংগঠনের সাথে জড়িত হই।

এই সংগঠনগুলো থেকে বিভিন্ন ধরনের ট্রেনিং পাই ট্রেনিংয়ে যে টাকা দেয় এই টাকাগুলো দিয়ে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালাই। এমন করেই চলতে থাকে আমার ছোট্ট জীবন।

এভাবে আমি এসএসসি পাশ করলাম। বেড়ে গেল সমালোচনা। তবু আমি সব বাধা অতিক্রম করে কলেজে ভর্তি হলাম, ভর্তি হওয়ার পর বেড়ে গেল পড়াশোনার খরচ! জীবনে নেমে এলো দুশ্চিন্তা হতাশার ছাপ।

আমি তবুও থেমে গেলাম না। দুশ্চিন্তা হতাশা থেকে বেরিয়ে এসে শুরু করলাম টিউশনি। টিউশনির টাকা দিয়ে আমার লেখা পড়ার খরচ ভালো চলছে। তবুও প্রতিনিয়ত শিকার হতে হয় সমালোচনার।

পরিশেষে এত বাঁধা এত বিপত্তি পাড়িয়ে পাড়ি দিয়ে
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে ইংরেজি বিষয় নিয়ে অনার্স পড়িতেছি। আমার স্বপ্ন হচ্ছে আমি লেখাপড়া করে, শিক্ষা ক্যাডার হতে। মানুষের মত মানুষ হবো। আদর্শ দেশ ও সমাজ গড়বো।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

১৩ বছর বয়সে বাল্যবিবাহ রুখে দিয়ে আজ উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে সুচিত্রা রাণী

আপডেট সময় : ১০:৩৫:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৪

 

১৩ বছর বয়সে বাল্যবিবাহ রুখে দিয়ে আজ উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে সুচিত্রা রাণী

১৩ বছর বয়সে বাল্যবিবাহ রুখে দিয়ে আজ উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে সুচিত্রা রাণী
সবেমাত্র কৈশোরে পা দিয়েছে সুচিএা রাণী। এমন এক সময়ে পারিবারিক প্রথা মেনে নিয়ে শিশুবিয়েতে রাজি হবে নাকি নিজের স্বপ্নপূরণে পা বাড়াবে- এই দোটানায় পড়ে সে। চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। বিশেষ করে আবাদি জমির সংকট এবং বিয়ের মাধ্যমে মেয়ের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার প্রচলিত বিশ্বাস তার পরিবারকে, সাথে তার ভবিষ্যতকেও সংকটে ফেলে দেয়।

পড়ুন>>নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের গাড়ির ধাক্কায় নিহত ১

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর বেরুবাড়ি ইউনিয়নের ফরাসকুড়া গ্রামে সুশিল চন্দ্রের কন্যা সুচিত্রা রাণী বলেন, আমি যখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি তখন আমার বিয়ের আলাপ আসে।
বাবা মা রাজি থাকলেও আমি রাজি ছিলাম না!
আমার প্রচেষ্টা এবং ভগবানের কৃপায় বিয়ে বন্ধ করি।
এভাবে অনেক বাধা-বিপত্তির মধ্যে দিয়ে এস.এস.সি ও এইচ এস সি পাশ করি।

আমার পরিবারের অবস্থা ছিল অসচ্ছল।  বাবা-মা সব সময় আমাকে নিয়ে চিন্তা করত কিভাবে আমার লেখাপড়ার খরচ চালাবে। আমরা তিন বোন এক ভাই, আমি সবার ছোট।

বড় দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেলেও আমাকে নিয়ে সবাই সমালোচনা করে, কিন্তু আমি সব সময় সমালোচনা মোকাবেলা করার জন্য বিভিন্ন ধরনের সংগঠনের সাথে জড়িত হই।

এই সংগঠনগুলো থেকে বিভিন্ন ধরনের ট্রেনিং পাই ট্রেনিংয়ে যে টাকা দেয় এই টাকাগুলো দিয়ে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালাই। এমন করেই চলতে থাকে আমার ছোট্ট জীবন।

এভাবে আমি এসএসসি পাশ করলাম। বেড়ে গেল সমালোচনা। তবু আমি সব বাধা অতিক্রম করে কলেজে ভর্তি হলাম, ভর্তি হওয়ার পর বেড়ে গেল পড়াশোনার খরচ! জীবনে নেমে এলো দুশ্চিন্তা হতাশার ছাপ।

আমি তবুও থেমে গেলাম না। দুশ্চিন্তা হতাশা থেকে বেরিয়ে এসে শুরু করলাম টিউশনি। টিউশনির টাকা দিয়ে আমার লেখা পড়ার খরচ ভালো চলছে। তবুও প্রতিনিয়ত শিকার হতে হয় সমালোচনার।

পরিশেষে এত বাঁধা এত বিপত্তি পাড়িয়ে পাড়ি দিয়ে
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে ইংরেজি বিষয় নিয়ে অনার্স পড়িতেছি। আমার স্বপ্ন হচ্ছে আমি লেখাপড়া করে, শিক্ষা ক্যাডার হতে। মানুষের মত মানুষ হবো। আদর্শ দেশ ও সমাজ গড়বো।

 

Facebook Comments Box