অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদারে একমত বাংলাদেশ-জাপান
- আপডেট সময় : ১০:৫৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
বাণিজ্য, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্র বন্দর এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার লক্ষ্যে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন বাংলাদেশ ও জাপান। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এক বৈঠকে এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বৈঠকের পর দুই রাষ্ট্রপ্রধান যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের কথা জানান। তিনি আরও বলেন, আজকের বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং আমি দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি।
জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাষ্ট্রীয় প্রথা অনুযায়ী গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। সম্মাননা শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী একান্ত ও শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন। জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চস্তরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতার যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
দুই নেতা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে সম্পর্কটিকে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ স্তরে উন্নীত করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। সানায়ে তাকাইচি বলেন, গত ৫০ বছরে দুই দেশের সম্পর্ক উত্তরোত্তর সুদৃঢ় হয়েছে। জাপান বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে সবসময় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। তার মতে, এই কৌশলগত রূপান্তর দুই দেশের বন্ধুত্বের নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর দ্রুত স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম। গত পাঁচ দশকে অবকাঠামো ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জাপানের অবদান অসামান্য। বর্তমান বৈঠকে শক্তি (এনার্জি), আইসিটি, বাণিজ্য এবং গভীর সমুদ্র বন্দরের মতো বিশেষ খাতগুলোতে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তরেক রহমান বলেন, বাংলাদেশি জনগণের হৃদয়ে জাপান একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
সফরের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে, যা যৌথ বিবৃতিতে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে আমাদের এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শক্তিশালী ইঞ্জিনে রূপান্তর করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের বন্ধুত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমরা এই স্থায়ী বন্ধুত্বকে গভীরভাবে উপলব্ধি করি।
জাপানি ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আপনাদের প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপের অংশীদার হতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দুই দেশ আরও স্থিতিস্থাপক ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে পারে। আমরা এমন একটি অংশীদারিত্বের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি, যা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার সৃষ্টি করবে।
বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কৌশলগত অংশীদারত্বের এই নতুন যাত্রা দুই দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে উভয় নেতা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সূত্র: যুগান্তর
























