ঢাকা ১১:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সৌদি আরবে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কড়া নিন্দা কাতারের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে হুথি বিদ্রোহীদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় কড়া নিন্দা জানিয়েছে কাতার। দোহার পক্ষ থেকে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বেসামরিক নাগরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতির মাধ্যমে সৌদি আরবের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি নিজেদের পূর্ণ সংহতি ও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে কাতার জানিয়েছে, রিয়াদের পাশাপাশি বিশ, তাইফ, ফারাসান ও ইয়ানবু শহরের বেসামরিক মানুষ ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হুথিদের এই হামলার প্রচেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর আগে, শনিবার ভোরে রিয়াদের দিকে হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শনাক্ত করে আকাশে ধ্বংস করে দেয়। একই সময়ে বিশ, তাইফ, ফারাসান ও ইয়ানবুতেও অনুরূপ হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন জোট। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে, হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়ি দাবি করেছেন যে, তারা রিয়াদের ‘সংবেদনশীল’ স্থাপনা এবং ইয়ানবুতে সৌদি তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছেন। তবে এসব হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে কোনো নিরপেক্ষ তথ্য পাওয়া যায়নি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার রিয়াদ ও আল-খারজ এলাকায় আকাশপথে সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ‘অল ক্লিয়ার’ ঘোষণা করা হয়। রিয়াদের কাছে ওই সময় বড় আকারের ধোঁয়ার কুণ্ডলীও দেখা গিয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত ১৫ সেপ্টেম্বরও খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফে একই ধরনের হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছিল কাতার। জুলাই মাস থেকে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাতের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবারের এই ঘটনাকে রিয়াদকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই অস্থিরতা কেবল দুই পক্ষের সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতি আমলে নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও সৌদি আরবে হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়ে ইয়েমেনে সামরিক উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সৌদি আরবে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কড়া নিন্দা কাতারের

আপডেট সময় : ১০:০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে হুথি বিদ্রোহীদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় কড়া নিন্দা জানিয়েছে কাতার। দোহার পক্ষ থেকে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বেসামরিক নাগরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতির মাধ্যমে সৌদি আরবের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি নিজেদের পূর্ণ সংহতি ও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে কাতার জানিয়েছে, রিয়াদের পাশাপাশি বিশ, তাইফ, ফারাসান ও ইয়ানবু শহরের বেসামরিক মানুষ ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হুথিদের এই হামলার প্রচেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর আগে, শনিবার ভোরে রিয়াদের দিকে হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শনাক্ত করে আকাশে ধ্বংস করে দেয়। একই সময়ে বিশ, তাইফ, ফারাসান ও ইয়ানবুতেও অনুরূপ হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন জোট। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে, হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়ি দাবি করেছেন যে, তারা রিয়াদের ‘সংবেদনশীল’ স্থাপনা এবং ইয়ানবুতে সৌদি তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছেন। তবে এসব হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে কোনো নিরপেক্ষ তথ্য পাওয়া যায়নি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার রিয়াদ ও আল-খারজ এলাকায় আকাশপথে সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ‘অল ক্লিয়ার’ ঘোষণা করা হয়। রিয়াদের কাছে ওই সময় বড় আকারের ধোঁয়ার কুণ্ডলীও দেখা গিয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত ১৫ সেপ্টেম্বরও খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফে একই ধরনের হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছিল কাতার। জুলাই মাস থেকে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাতের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবারের এই ঘটনাকে রিয়াদকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই অস্থিরতা কেবল দুই পক্ষের সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতি আমলে নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও সৌদি আরবে হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়ে ইয়েমেনে সামরিক উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে।

Facebook Comments Box