ঢাকা ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সুনামগঞ্জ ধোপাজান নদীতে নিলামের নামে চলে পাথর উত্তোলন

সুনামগঞ্জ থেকে আমির হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৬:২২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ৩৬৪ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জ ধোপাজান নদীতে নিলামের নামে চলে পাথর উত্তোলন

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সুনামগঞ্জের ইজারা বিহীন ধোপাজান চলতি নদীতে প্রতিনিয়ত পাথর কুঁড়িয়ে চলে বালু শ্রমিকের জীবন জীবিকা। বার বার প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা করা হলেও এসব নিষেধাজ্ঞা মানছেনা নদীর পাড়ে থাকা দিনমজুর বারকি শ্রমিকেরা।

তারা প্রতিনিয়ত প্রশাসনের চোখের সামনে চলতি নদী ধোপাজান নদীর তীরে পাথর কুঁড়িয়ে বালু ও পাথর ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে চালাচ্ছে তাদের পরিবার।

আর এসস্ত শ্রমিকদের পুঁজি করে অবৈধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন কিছু প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তারা কিছু অসৎ ব্যবসায়ীদের সাথে হাত মিলিয়ে নিলাম খেলায় মেতে উঠেছেন অধিক মোনাফার লোভে।

পরিবেশ বিনষ্ট করে তিলে তিলে ধোপাজান নদীকে ধ্বংস করে এখন বানানো হচ্ছে সিন্ডিকেটের মহাসাগর। পরিবেশ বাদীরা এখন পরিবেশ বিনষ্ট করার কাজ করে চলেছেন নিরবে।

তিলে তিলে নদীর পাড় ভাঙ্গনে ও ধোপাজান নদীর পরিবেশ ধ্বংস করার সার্বিক সহযোগিতা করে চলেছেন তারা। শুধু তাই নয় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, নৌ পুলিশ, বিজিবির কিছু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মিলে ধোপাজান নদীর পরিবেশ রক্ষা করার পরিবর্তে ধ্বংস করে চলেছেন নিলামের মাধ্যমে।

সরকারী কোষাগারে অর্থ জমানোর নেশায় মেতে উঠেছেন সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। তারা ভুলে যাচ্ছেন পরিবেশ রক্ষা করার চিন্তা ভাবনা।

তাদের মাথায় এখন একটি চিন্তাই কাজ করে শুধু নিলাম খেলা। অপেক্ষায় প্রহর যেন তাদের নিত্য দিনের সাথী। নদী থেকে পাথর উঠাঁনো, নদীর পাড় কেটে পাথর জমানোর কোন বাধাঁ নেই। নিয়ম শুধু একটাই প্রশ্ন করলে উত্তর মিলে দিন মজুর শ্রমিকেরা ধোঁপাজান নদী থেকে বালি পাথর উত্তোলন করছে।

কিন্তু ঐ পাথর ও বালু নিলামের মাধ্যমে ধোপাজান নদীর ভিতর থেকে বাহির করার সুকৌশল হিসেবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাহির করার অনুমতি দেন তারা। যে পাথর নিলাম হয় তার চেয়ে চৌদ্দগুণ বেশি বালি ও পাথর বাহির করার রাস্তা তৈরী করে দেন সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের ঐ সমস্ত কর্মকর্তারা।

সরকারী কোষাগারে ১টাকা জমাকরে, পাঁচ টাকা যাচ্ছে সিন্ডিকেটের পকেটে। একলক্ষ ঘনফুট পাথর নিলাম হলে পাঁচ লক্ষ ঘনফুট পাথর বাহির করার সুযোগ করে দেন দায়িত্বরত কর্মকর্তারা।

আর এদের সাথে রয়েছে কিছু অসাধু দালাল রুপি সাংবাদিক নামধারী সাধু ব্যাক্তিরা। যারা ধরি মাছ না ছুই পানি হয়ে চাদাঁবাজিতে মেতে উঠেছেন প্রতিনিয়তই। দেখেও না দেখার ভান করেন সামান্য মুনাফার লোভে কলঙ্ক করে চলেছেন সাংবাদিক সমাজকেও।

বার বার প্রশাসনের কাছে ধোপাজান নদীর পাড় কাটা ও পরিবেশ রক্ষা করা নিয়ে জানতে চাইলে একটাই উত্তর মিলে, যা শুনতে শুনতে সাংবাদিকদের কান ভারি হয়ে উঠেছে। তারা শুধু বলেন আমরা আইনানুগ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

অথচ যা কিছু হচ্ছে সকলের সামনে প্রকাশ্যেই হচ্ছে। রক্ষকরাই যদি বক্ষক হন তখন তাদের ব্যবস্থা কে নিবেন? সেটাই এখন সময়ের দাবী বলে মনে করেন নদীর পাড়ে থাকা নিরীহ মানুষেরা, যাদের বুক ফাটেঁতো মুখ খুলেনা।

উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষ নিরবে অনুসন্ধান করে সরেজমিনে সুনামগঞ্জ এসে ধোপাজান নদীর পরিবেশ রক্ষা করার ব্যবস্থা গ্রহন করবেন এবং নিলাম সিন্ডিকেট বন্ধ করে শ্রমিকদের দু-মুঠো ভাত খাওয়ার জন্য নদীর পাড় কাটা বন্ধসহ সিন্ডিকেটের কার্যক্রম বন্ধ করে ভারত থেকে পাহাড়ী ঢলে নেমে আসা অফুরন্ত বালুর চর হইতে শুধুমাত্র বারকি নৌকা চলাচলের ব্যবস্থা গ্রহন করে দিবেন এমটানই প্রত্যাশা দিন মজুর শ্রমিকদের।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

One thought on “সুনামগঞ্জ ধোপাজান নদীতে নিলামের নামে চলে পাথর উত্তোলন”

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সুনামগঞ্জ ধোপাজান নদীতে নিলামের নামে চলে পাথর উত্তোলন

আপডেট সময় : ০৬:২২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

সুনামগঞ্জের ইজারা বিহীন ধোপাজান চলতি নদীতে প্রতিনিয়ত পাথর কুঁড়িয়ে চলে বালু শ্রমিকের জীবন জীবিকা। বার বার প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা করা হলেও এসব নিষেধাজ্ঞা মানছেনা নদীর পাড়ে থাকা দিনমজুর বারকি শ্রমিকেরা।

তারা প্রতিনিয়ত প্রশাসনের চোখের সামনে চলতি নদী ধোপাজান নদীর তীরে পাথর কুঁড়িয়ে বালু ও পাথর ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে চালাচ্ছে তাদের পরিবার।

আর এসস্ত শ্রমিকদের পুঁজি করে অবৈধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন কিছু প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তারা কিছু অসৎ ব্যবসায়ীদের সাথে হাত মিলিয়ে নিলাম খেলায় মেতে উঠেছেন অধিক মোনাফার লোভে।

পরিবেশ বিনষ্ট করে তিলে তিলে ধোপাজান নদীকে ধ্বংস করে এখন বানানো হচ্ছে সিন্ডিকেটের মহাসাগর। পরিবেশ বাদীরা এখন পরিবেশ বিনষ্ট করার কাজ করে চলেছেন নিরবে।

তিলে তিলে নদীর পাড় ভাঙ্গনে ও ধোপাজান নদীর পরিবেশ ধ্বংস করার সার্বিক সহযোগিতা করে চলেছেন তারা। শুধু তাই নয় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, নৌ পুলিশ, বিজিবির কিছু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মিলে ধোপাজান নদীর পরিবেশ রক্ষা করার পরিবর্তে ধ্বংস করে চলেছেন নিলামের মাধ্যমে।

সরকারী কোষাগারে অর্থ জমানোর নেশায় মেতে উঠেছেন সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। তারা ভুলে যাচ্ছেন পরিবেশ রক্ষা করার চিন্তা ভাবনা।

তাদের মাথায় এখন একটি চিন্তাই কাজ করে শুধু নিলাম খেলা। অপেক্ষায় প্রহর যেন তাদের নিত্য দিনের সাথী। নদী থেকে পাথর উঠাঁনো, নদীর পাড় কেটে পাথর জমানোর কোন বাধাঁ নেই। নিয়ম শুধু একটাই প্রশ্ন করলে উত্তর মিলে দিন মজুর শ্রমিকেরা ধোঁপাজান নদী থেকে বালি পাথর উত্তোলন করছে।

কিন্তু ঐ পাথর ও বালু নিলামের মাধ্যমে ধোপাজান নদীর ভিতর থেকে বাহির করার সুকৌশল হিসেবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাহির করার অনুমতি দেন তারা। যে পাথর নিলাম হয় তার চেয়ে চৌদ্দগুণ বেশি বালি ও পাথর বাহির করার রাস্তা তৈরী করে দেন সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের ঐ সমস্ত কর্মকর্তারা।

সরকারী কোষাগারে ১টাকা জমাকরে, পাঁচ টাকা যাচ্ছে সিন্ডিকেটের পকেটে। একলক্ষ ঘনফুট পাথর নিলাম হলে পাঁচ লক্ষ ঘনফুট পাথর বাহির করার সুযোগ করে দেন দায়িত্বরত কর্মকর্তারা।

আর এদের সাথে রয়েছে কিছু অসাধু দালাল রুপি সাংবাদিক নামধারী সাধু ব্যাক্তিরা। যারা ধরি মাছ না ছুই পানি হয়ে চাদাঁবাজিতে মেতে উঠেছেন প্রতিনিয়তই। দেখেও না দেখার ভান করেন সামান্য মুনাফার লোভে কলঙ্ক করে চলেছেন সাংবাদিক সমাজকেও।

বার বার প্রশাসনের কাছে ধোপাজান নদীর পাড় কাটা ও পরিবেশ রক্ষা করা নিয়ে জানতে চাইলে একটাই উত্তর মিলে, যা শুনতে শুনতে সাংবাদিকদের কান ভারি হয়ে উঠেছে। তারা শুধু বলেন আমরা আইনানুগ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

অথচ যা কিছু হচ্ছে সকলের সামনে প্রকাশ্যেই হচ্ছে। রক্ষকরাই যদি বক্ষক হন তখন তাদের ব্যবস্থা কে নিবেন? সেটাই এখন সময়ের দাবী বলে মনে করেন নদীর পাড়ে থাকা নিরীহ মানুষেরা, যাদের বুক ফাটেঁতো মুখ খুলেনা।

উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষ নিরবে অনুসন্ধান করে সরেজমিনে সুনামগঞ্জ এসে ধোপাজান নদীর পরিবেশ রক্ষা করার ব্যবস্থা গ্রহন করবেন এবং নিলাম সিন্ডিকেট বন্ধ করে শ্রমিকদের দু-মুঠো ভাত খাওয়ার জন্য নদীর পাড় কাটা বন্ধসহ সিন্ডিকেটের কার্যক্রম বন্ধ করে ভারত থেকে পাহাড়ী ঢলে নেমে আসা অফুরন্ত বালুর চর হইতে শুধুমাত্র বারকি নৌকা চলাচলের ব্যবস্থা গ্রহন করে দিবেন এমটানই প্রত্যাশা দিন মজুর শ্রমিকদের।

Facebook Comments Box