সিরাজগঞ্জ জেলার সাবেক সংসদীয় আসন সিরাজগঞ্জ-৬ (চৌহালী উপজেলা এবং শাহজাদপুর উপজেলার পূর্ব অংশের চারটি ইউনিয়ন: কৈজুরী, সোনাতনী, জালালপুর ও খুকনী) পুনরুদ্ধারের দাবিতে গণসচেতনতা ও আন্দোলন তীব্রতর হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সচেতন নাগরিকরা একযোগে এ আসন পুনর্বহালের জন্য নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
১৯৭৩ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ জেলায় ৭টি সংসদীয় আসন ছিল, যার মধ্যে সিরাজগঞ্জ-৬ আসনটি অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৮৪ সালের গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুসারে সীমানা নির্ধারণ করে ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ২০০৮ সালে ১/১১ সরকার ১৯৭৬ সালের সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত অধ্যাদেশের ৬ ধারা উপেক্ষা করে শুধুমাত্র ৮ ধারা মোতাবেক আসন পুনর্বিন্যাস করে সিরাজগঞ্জ-৬ আসনটি বিলুপ্ত করে এবং চৌহালী উপজেলাকে সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি ও চৌহালী) আসনের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
স্বাধীনতার পর থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার পূর্ব অংশে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনা করেন। কিন্তু ২০০৮ সালে আসন বিলুপ্তির পর থেকে গত ১৭ বছরে এ অঞ্চলের নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। যমুনা নদীর ভাঙনে চৌহালী উপজেলা পরিষদ বিলীন হয়েছে, হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন ও কর্মহীন হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তার অভাবে এ অঞ্চলের মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সাবেক সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের বর্তমান আয়তন ৩০৫ বর্গ কিলোমিটার, জনসংখ্যা প্রায় ৩,০০,০০০ এবং ভোটার সংখ্যা ২,৩০,০০০। যদি ১৯৭৬ সালের সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত অধ্যাদেশের ৬ ধারা বিবেচনায় এনে আসন পুনর্বিন্যাস করা হয়, তাহলে এই আসনটি পুনর্বহাল করা সম্ভব। ইতোমধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর এ সংক্রান্ত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
এ আসন পুনরুদ্ধারের দাবিতে গণস্বাক্ষর অভিযান, মানববন্ধন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান এবং প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা এই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে আমাদের অনুরোধ, জনগণের অধিকার রক্ষায় সাবেক সিরাজগঞ্জ-৬ (চৌহালী ও শাহজাদপুরের পূর্ব অংশ) আসনটি পুনর্বহাল করে এ অঞ্চলের উন্নয়নের দ্বার উন্মুক্ত করা হোক।
Leave a Reply