ঢাকা ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ই-জোন এইচআরএমে ৫ হাজার কর্মীর বিশাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি শীতকালীন মৌসুমে বিশ্বজুড়ে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াচ্ছে কাতার এয়ারওয়েজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নদীতে স্পিডবোট ও বাল্কহেডের সংঘর্ষে নিহত ২ ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন, হুড়োহুড়িতে শিশুসহ নিহত ৬ আজ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬: আজকের নামাজের সময়সুচী শুভ সকাল; আজ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬: আজকের পূর্ণাঙ্গ পঞ্জিকা ভূরুঙ্গামারীতে বাজেয়াপ্ত ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ধ্বংস করেছে কাস্টমস ব্যাংক খাতের মতো বীমা খাতেও লুটপাট চলছে: অর্থমন্ত্রী শিক্ষক সংকটের জেরে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অবরুদ্ধ শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ মঙ্গলবার থেকে স্বাভাবিক হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সরিষার বিভিন্ন জাত থেকে বেছে নিন আপনার পছন্দের জাত

কৃষিবিদ আসাদুজ্জামান, অ‌তি‌রিক্ত উপপ‌রিচালক (শস্য)
  • আপডেট সময় : ১০:০৯:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৭০৫ বার পড়া হয়েছে

সরিষার বিভিন্ন জাত থেকে বেছে নিন আপনার পছন্দের জাত

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আমন ধান কাটার পর বোরো ধান লাগানোর মধ্যবর্তী সময়ে সরিষা চাষ করা যায়। সরিষা কেটে ওই জমিতে আবার বোরো চাষ করা যায়। আমন যা মাত্র ৮০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যেই ফসল কৃষক ঘরে তুলতে পারেন।

তাই তারা দুটি ফসলের মাঝে সরিষাকে বোনাস ফসল হিসেবে চাষ করতে পারাযায়। সরিষা চাষ করলে জমির উর্বরা শক্তি বেড়ে যায়। এতে কৃষিজমির সর্বাধিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়। বাংলাদেশে মুলত ৩ প্রকার সরিষার চাষ করা হয়।

এ গুলো হলো-টরি, শ্বেত ও রাই। এই তিনটি জাত থেকে অধিক ফলনশীল ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন অনেক গুলো সরিষার জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে।

এ জাতগুলো থেকে চাষী ভাইয়েরা এসব জাতগুলো থেকে আপনার নিজের পছন্দমত চাষ করতে পারবেন। সরিষা বাংলাদেশের প্রধান ভোজ্য তেল ফসল।

বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ হেক্টর জমিতে এর চাষাবাদ করা হয় এবং প্রায় আড়াই লক্ষ টন তেল পাওয়া যায়।

বিভিন্ন জাতের সরিষার বীজে প্রায় ৪০-৪৪% তেল থাকে। খৈলে প্রায় ৪০% আমিষ থাকে। তাই খৈল গরু ও মহিষের জন্য খুব পুষ্টিকর খাদ্য। যারা স‌রিষা ক‌রে পাট কর‌বেন তারা বা‌রি সরিষা ১৭ করাই উত্তম।

জেনে নিন>>নতুন তৈলবীজ পেরিলা 

 

বাংলাদেশে উদ্ভাবিত সরিষার জাত সমুহ:

টরি-৭: ফসল বোনা থেকে পাকা পর্যন্ত ৭০-৮০ দিন সময় লাগে। উন্নত পদ্ধতিতে চাষ করলে হেক্টর প্রতি ফলনট‌রি বিঘা প্রতি ২.৫ মণ। কেজি হয়। বীজে তেলের পরিমাণ ৩৮-৪১%। জাতটি রোগবালাই সহনশীল।

সোনালী সরিষা (এসএস-৭৫): ফলে ৪ টি কক্ষ থাকে এবং প্রতি ফলে বীজের সংখ্যা ৩৫-৪৫ টি । বীজের রং হলদে সোনালী । বীজ গোলাকার।

হাজার বীজের ওজন ৩.৫-৪.৫ গ্রাম এবং বীজে তেলের পরিমাণ ৪৪-৪৫%। গাছের কান্ড ও শিকড় শক্ত। অধিক সার ও সেচ প্রয়োগে গাছ নুয়ে পড়ে না।

কল্যাণীয়া (টিএস-৭২) : বীজ গোলাকার। হাজার বীজের ওজন ২.৫-৩.০ গ্রাম। বীজে তেলের পরিমাণ ৪০-৪২%। ফসল পাকতে ৭৫-৮৫ দিন সময় লাগে। উন্নত পদ্ধতিতে চাষ করলে প্রতি হেক্টরে ১.৪৫-১.৬৫ টন ফলন পাওয়া যায়। কল্যাণীয়া জাতটি স্বল্প মেয়াদী উচ্চ ফলনশীল আগাম জাত।

দৌলত ( আর এস-৮১): বপন থেকে তোলা পর্যন্ত ৯০-১০৫ দিন সময় লাগে। হেক্টর প্রতি ফলন ১.১-১.৩ টন। দৌলত জাত খরা ও কিছুটা লবনাক্ততা সহনশীল। বীজে তেলের পরিমাণ ৩৯-৪০%। জাতটি অলটারনারিয়া ব্লাইট রোগ সহনশীল।

বারি সরিষা -৬ (ধলি): ফল ২ কক্ষ বিশিষ্ট এবং প্রতি ফলে বীজের সংখ্যা ২২-২৫ টি। হাজার বীজের ওজন ৩-৪ গ্রাম। বীজের রং হলদে। কান্ড ও শিকড় শক্ত হওয়ায় গাছ হেলে পড়ে না। পরিপক্ক ফল ফেটে গিয়ে বীজ ঝরে পড়ে না। ফল ও ফলের ঠোঁট তুলনামূলকভাবে লম্বা।

বারি সরিষা -৬ (ধলি) পাকতে ৯০-১০০ দিন সময় লাগে। পরিমাণমত সার ও সেচ দিলে প্রতি হেক্টরে ১.৯-২.২ টন ফলন পাওয়া যায়। বীজে তেলের পরিমাণ ৪৪-৪৫%।

বারি সরিষা -৭ (ন্যাপাস-৩১৪২): গাছের পাতা বোটাহীন ও তল মসৃণ । ফুলের পাঁপড়ির রং সাদা। প্রত‍্যেক গাছে ফলের সংখ্যা ৯০-১২৫ টি । ফল ২ কক্ষ বিশিষ্ট এবং প্রতি ফলে বীজের সংখ্যা ২৫-৩০ টি।

জেনে নিন>>রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও উচ্চ ফলনশীল টমেটোর জাতসমুহ

বারি সরিষা -৮ (ন্যাপাস-৮৫০৯): ফুলের পাঁপড়ির রং হলদে। গড়ে গাছে ফলের সংখ্যা ৯০-১২৫ টি। ফল ২ কক্ষ বিশিষ্ট । একটি ফলে বীজের সংখ্যা ২৫-৩০ টি। কালচে বীজের রং । হাজার বীজের ওজন ৩.৪-৩.৬ গ্রাম।

পাকতে ৯০-৯৫ দিন সময় লাগে। বীজে তেলের পরিমাণ ৪৩-৪৫%। এই জাত অলটারনারিয়া ব্লাইট রোগ ও সাময়িক জলাবদ্দতা সহনশীল।

রাই-৫: প্রত‍্যেক গাছে ৪-৬ টি প্রাথমিক শাখা থাকে। পাতা বোটাযুক্ত ও খসখসে। প্রস্ফুটিত ফুল কুড়ির নিচে অবস্থান করে।  ফলের সংখ্যা প্রতি গাছে ৯০-১২০। বীজে তেলের পরিমাণ ৩৯-৪০%।

বারি সরিষা -৯:  জাতটি ‌টরি-৭ এর চেয়ে শতকরা ১০-২৫ ভাগ বোশ ফলন দেয়। আমন ধান কাটার পর এবং বোরো ধান চাষের আগে। স্বল্প মেয়াদী এ জাতটি সহজে চাষ করা সম্ভব।

 তেলের পরিমাণ শতকরা ৪৩-৪৪ ভাগ। ফসল পাকতে ৮০-৮৫ দিন সময় লাগে। পরিমাণমত সার ও সেচ দিলে হেক্টরে ১.২৫-১.৪৫ টন ফলন পাওয়া যায়।

বারি সরিষা -১০: গাছের উচ্চতা ৯০-১০০ সেমি। ৪-৬ টি প্রাথমিক শাখা থাকে প্রতি গাছে। শাখা থেকে প্রশাখা বের হয়। পাতা হালকা সবুজ রংয়ের। পাতা বোটাযুক্ত ও খসখসে ।

প্রত‍্যেক গাছে ফলের সংখ্যা ১০০-১২০ টি । ফল ২ কক্ষ বিশিষ্ট । প্রতি ফলে বীজের সংখ্যা ১২-১৫ টি । বীজের রং পিঙ্গঁল । হাজার বীজের ওজন ২.০-৩.০ গ্রাম। বীজে তেলের পরিমাণ শতকরা ৪২-৪৩ ভাগ। হেক্টর প্রতি ফলন ১.২৫-১.৪৫ টন। আমন ধান কাটার পর এ জাতটি নাবি জাত হিসাবে চাষ করা যায়।

জেনে নিন>> শীতে আলুর সার প্রয়োগ ও পরিচর্যা

বারি সরিষা -১১: এক হাজার বীজের ওজন প্রায় ৩.৫-৪.০ গ্রাম। বীজের ওজন অন্যান্য রাই সরিষার চেয়ে বেশি। ফসল ১০৫-১১০ দিন পাকে। প্রতি হেক্টরে ২.০-২.৫ টন ফলন পাওয়া যায়।

এ জাতটি দৌলতের চেয়ে ২০-২৫% বেশি ফলন দেয়। এ জাতটি নাবি জাত হিসাবে আমন ধান কাটার পর চাষ করা যায়। জাতটি খরা এবং লবনাক্ত সহনশীল। প্রতি ফলে বীজের সংখ্যা ১২-১৫ টি। পিঙ্গল রং বীজের।

বারি সরিষা -১২: হাজার বীজের ওজন ২.৬-৩.২ গ্রাম। বীজে তেলের পরিমাণ ৪৩- ৪৪%। ফসল ৭৮-৮৫ দিনে পাকে। প্রতি হেক্টরে ১.৪৫-১.৬৫ টন ফলন পাওয়া যায়।

আমন ধান কাটার পর স্বল্প মেয়াদী জাত হিসেবে চাষ করে বোরো ধান রোপণ করা যায়।

বারি সরিষা-১৩: হেক্টর প্রতি ফলন ২.২০-২.৮০ টন। ফসল ৯০-৯৫ দিনে পাকে। বীজে তেলের পরিমান শতকরা প্রায় ৪৩ ভাগ।

বারি সরিষা -১৪: হাজার বীজের ওজন ৩.৫-৩.৯ গ্রাম। ফসল ৭৫-৮০ দিনে পাকে। বারি  ১৪ বিঘা প্রতি ৬ থে‌কে ৭ মণ ফলন পাওয়া যায়। আমন ধান কাটার পর স্বল্প মেয়াদী জাত হিসেবে চাষ করে বোরো ধান রোপণ করা যায়।

বারি সরিষা -১৫: হাজার বীজের ওজন ৩.২৫-৩.৫০ গ্রাম। ফসল ৮০-৮৫ দিনে পাকে। প্রতি হেক্টরে ১.৫৫-১.৬৫ টন ফলন পাওয়া যায়। আমন ধান কাটার পর স্বল্প মেয়াদী জাত হিসেবে চাষ করে বোরো ধান রোপণ করা যায়।

বারি সরিষা -১৬: হাজার বীজের ওজন ৪.৭-৪.৯ গ্রাম। ফসল ১০৫-১১৫ দিনে পাকে। প্রতি হেক্টরে ২.০-২.৫ টন ফলন পাওয়া যায়। আমন ধান কাটার পর বোরো ধান করে না এমন জমিতে এ জাতটি নাবি জাত হিসেবে চাষ করা যায়। এ জাতটি খরা ও লবনাক্ততা সহিষ্ঞ।

 বারি সরিষা -১৭: হাজার বীজের ওজন ৩.০-৩.৪ গ্রাম। ফসল ৮২-৮৬ দিনে পাকে।  বিঘা প্রতি ৬ থে‌কে ৭ মণ হয় ফলন পাওয়া যায়।

জাতটি স্বল্প মেয়াদী হওয়ায় রোপা আমন-সরিষা-বোরো ধান শস্য বিন্যাসের জন্য উপযুক্ত। পাট কেটে এই জাতের সরিষা চাষ করা যায়।

জেনে নিন>> টমেটোর রোগ,রোগের কারণ ও প্রতিকার

 বিনাসরিষা-৪: হাজার বীজের ওজন ৩.৫০-৩.৮০ গ্রাম। বীজের রঙ লালচে কালো এবং বীজে তেলের পরিমাণ ৪৪% । জীবনকাল ৮০-৮৫ দিন। সর্বোচ্চ ২.৪০ টন /হেক্টর ফলন পাওয়া যায়। তবে হেক্টর প্রতি গড় ফলন ১.৭০ টন।

বিনা সরিষা-৭: জাতটি খরা এবং অল্টারনারিয়া জনিত পাতা ও ফলের ঝলসানো রোগ সহনশীল। বীজের আকার তুলনামূলকভাবে বড়। ১০০০ বীজের ওজন ৩.৫০-৪.২৫ গ্রাম। বীজে তেলের পরিমাণ ৩৬-৩৮%। জীবনকাল ১০২-১১০ দিন। হেক্টর প্রতি ফলন ২.০ টন।

বিনা সরিষা-৮: বীজে তেলের পরিমাণ ৩৯-৪১%। জীবনকাল ১০০-১০৮ দিন। হেক্টর প্রতি ফলন ২.৪ টন।

বিনা সরিষা-৯: জাতটি অল্টারনারিয়া জনিত পাতা ও ফলের ঝলসানো রোগ। বৃষ্টিজনিত সাময়িক জলাবদ্ধতা সহনশীল।

বীজে তেলের পরিমাণ ৪৩%। জীবনকাল ৮০-৮৪ দিন। হেক্টর প্রতি ফলন গড়ে ১.৬০ টন।

বিনা সরিষা-১০: বীজে তেলের পরিমাণ ৪২%। জীবনকাল ৭৮-৮২ দিন। হেক্টর প্রতি ফলন ১.৫ টন।

তবে, অধিকাংশ  কৃষক ভাইয়েরা ট‌রি ৭।বা‌রি স‌রিষা। বা‌রি স‌রিষা ৯, ১৪ বিনা স‌রিষা। বা‌রি স‌রিষা ১৭  চাষ  করে ক‌রেন।

জেনে নিন>>উচ্চ ফলনশীল বিনা সরিষা-১০ চাষ পদ্ধতি

জেনে>>সূর্যমুখী চাষ করে অধিক লাভবান হউন

জেনে নিন:>>টরি-৭ সরিষা চাষ

জেনে>>সরিষার বিভিন্ন জাত থেকে বেছে নিন আপনার পছন্দের জাত

জেনে>> পেরিলা চাষ পদ্ধতি

জেনে নিন>>বারি সরিষা-১১ সরিষা চাষ পদ্ধতি

জেনে নিন>> কল্যাণীয়া (টিএস-৭২)সরিষা চাষ পদ্ধতি

জেনে নিন>> বারি সরিষা-১৪ চাষ পদ্ধতি

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

5 thoughts on “সরিষার বিভিন্ন জাত থেকে বেছে নিন আপনার পছন্দের জাত

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সরিষার বিভিন্ন জাত থেকে বেছে নিন আপনার পছন্দের জাত

আপডেট সময় : ১০:০৯:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২

আমন ধান কাটার পর বোরো ধান লাগানোর মধ্যবর্তী সময়ে সরিষা চাষ করা যায়। সরিষা কেটে ওই জমিতে আবার বোরো চাষ করা যায়। আমন যা মাত্র ৮০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যেই ফসল কৃষক ঘরে তুলতে পারেন।

তাই তারা দুটি ফসলের মাঝে সরিষাকে বোনাস ফসল হিসেবে চাষ করতে পারাযায়। সরিষা চাষ করলে জমির উর্বরা শক্তি বেড়ে যায়। এতে কৃষিজমির সর্বাধিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়। বাংলাদেশে মুলত ৩ প্রকার সরিষার চাষ করা হয়।

এ গুলো হলো-টরি, শ্বেত ও রাই। এই তিনটি জাত থেকে অধিক ফলনশীল ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন অনেক গুলো সরিষার জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে।

এ জাতগুলো থেকে চাষী ভাইয়েরা এসব জাতগুলো থেকে আপনার নিজের পছন্দমত চাষ করতে পারবেন। সরিষা বাংলাদেশের প্রধান ভোজ্য তেল ফসল।

বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ হেক্টর জমিতে এর চাষাবাদ করা হয় এবং প্রায় আড়াই লক্ষ টন তেল পাওয়া যায়।

বিভিন্ন জাতের সরিষার বীজে প্রায় ৪০-৪৪% তেল থাকে। খৈলে প্রায় ৪০% আমিষ থাকে। তাই খৈল গরু ও মহিষের জন্য খুব পুষ্টিকর খাদ্য। যারা স‌রিষা ক‌রে পাট কর‌বেন তারা বা‌রি সরিষা ১৭ করাই উত্তম।

জেনে নিন>>নতুন তৈলবীজ পেরিলা 

 

বাংলাদেশে উদ্ভাবিত সরিষার জাত সমুহ:

টরি-৭: ফসল বোনা থেকে পাকা পর্যন্ত ৭০-৮০ দিন সময় লাগে। উন্নত পদ্ধতিতে চাষ করলে হেক্টর প্রতি ফলনট‌রি বিঘা প্রতি ২.৫ মণ। কেজি হয়। বীজে তেলের পরিমাণ ৩৮-৪১%। জাতটি রোগবালাই সহনশীল।

সোনালী সরিষা (এসএস-৭৫): ফলে ৪ টি কক্ষ থাকে এবং প্রতি ফলে বীজের সংখ্যা ৩৫-৪৫ টি । বীজের রং হলদে সোনালী । বীজ গোলাকার।

হাজার বীজের ওজন ৩.৫-৪.৫ গ্রাম এবং বীজে তেলের পরিমাণ ৪৪-৪৫%। গাছের কান্ড ও শিকড় শক্ত। অধিক সার ও সেচ প্রয়োগে গাছ নুয়ে পড়ে না।

কল্যাণীয়া (টিএস-৭২) : বীজ গোলাকার। হাজার বীজের ওজন ২.৫-৩.০ গ্রাম। বীজে তেলের পরিমাণ ৪০-৪২%। ফসল পাকতে ৭৫-৮৫ দিন সময় লাগে। উন্নত পদ্ধতিতে চাষ করলে প্রতি হেক্টরে ১.৪৫-১.৬৫ টন ফলন পাওয়া যায়। কল্যাণীয়া জাতটি স্বল্প মেয়াদী উচ্চ ফলনশীল আগাম জাত।

দৌলত ( আর এস-৮১): বপন থেকে তোলা পর্যন্ত ৯০-১০৫ দিন সময় লাগে। হেক্টর প্রতি ফলন ১.১-১.৩ টন। দৌলত জাত খরা ও কিছুটা লবনাক্ততা সহনশীল। বীজে তেলের পরিমাণ ৩৯-৪০%। জাতটি অলটারনারিয়া ব্লাইট রোগ সহনশীল।

বারি সরিষা -৬ (ধলি): ফল ২ কক্ষ বিশিষ্ট এবং প্রতি ফলে বীজের সংখ্যা ২২-২৫ টি। হাজার বীজের ওজন ৩-৪ গ্রাম। বীজের রং হলদে। কান্ড ও শিকড় শক্ত হওয়ায় গাছ হেলে পড়ে না। পরিপক্ক ফল ফেটে গিয়ে বীজ ঝরে পড়ে না। ফল ও ফলের ঠোঁট তুলনামূলকভাবে লম্বা।

বারি সরিষা -৬ (ধলি) পাকতে ৯০-১০০ দিন সময় লাগে। পরিমাণমত সার ও সেচ দিলে প্রতি হেক্টরে ১.৯-২.২ টন ফলন পাওয়া যায়। বীজে তেলের পরিমাণ ৪৪-৪৫%।

বারি সরিষা -৭ (ন্যাপাস-৩১৪২): গাছের পাতা বোটাহীন ও তল মসৃণ । ফুলের পাঁপড়ির রং সাদা। প্রত‍্যেক গাছে ফলের সংখ্যা ৯০-১২৫ টি । ফল ২ কক্ষ বিশিষ্ট এবং প্রতি ফলে বীজের সংখ্যা ২৫-৩০ টি।

জেনে নিন>>রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও উচ্চ ফলনশীল টমেটোর জাতসমুহ

বারি সরিষা -৮ (ন্যাপাস-৮৫০৯): ফুলের পাঁপড়ির রং হলদে। গড়ে গাছে ফলের সংখ্যা ৯০-১২৫ টি। ফল ২ কক্ষ বিশিষ্ট । একটি ফলে বীজের সংখ্যা ২৫-৩০ টি। কালচে বীজের রং । হাজার বীজের ওজন ৩.৪-৩.৬ গ্রাম।

পাকতে ৯০-৯৫ দিন সময় লাগে। বীজে তেলের পরিমাণ ৪৩-৪৫%। এই জাত অলটারনারিয়া ব্লাইট রোগ ও সাময়িক জলাবদ্দতা সহনশীল।

রাই-৫: প্রত‍্যেক গাছে ৪-৬ টি প্রাথমিক শাখা থাকে। পাতা বোটাযুক্ত ও খসখসে। প্রস্ফুটিত ফুল কুড়ির নিচে অবস্থান করে।  ফলের সংখ্যা প্রতি গাছে ৯০-১২০। বীজে তেলের পরিমাণ ৩৯-৪০%।

বারি সরিষা -৯:  জাতটি ‌টরি-৭ এর চেয়ে শতকরা ১০-২৫ ভাগ বোশ ফলন দেয়। আমন ধান কাটার পর এবং বোরো ধান চাষের আগে। স্বল্প মেয়াদী এ জাতটি সহজে চাষ করা সম্ভব।

 তেলের পরিমাণ শতকরা ৪৩-৪৪ ভাগ। ফসল পাকতে ৮০-৮৫ দিন সময় লাগে। পরিমাণমত সার ও সেচ দিলে হেক্টরে ১.২৫-১.৪৫ টন ফলন পাওয়া যায়।

বারি সরিষা -১০: গাছের উচ্চতা ৯০-১০০ সেমি। ৪-৬ টি প্রাথমিক শাখা থাকে প্রতি গাছে। শাখা থেকে প্রশাখা বের হয়। পাতা হালকা সবুজ রংয়ের। পাতা বোটাযুক্ত ও খসখসে ।

প্রত‍্যেক গাছে ফলের সংখ্যা ১০০-১২০ টি । ফল ২ কক্ষ বিশিষ্ট । প্রতি ফলে বীজের সংখ্যা ১২-১৫ টি । বীজের রং পিঙ্গঁল । হাজার বীজের ওজন ২.০-৩.০ গ্রাম। বীজে তেলের পরিমাণ শতকরা ৪২-৪৩ ভাগ। হেক্টর প্রতি ফলন ১.২৫-১.৪৫ টন। আমন ধান কাটার পর এ জাতটি নাবি জাত হিসাবে চাষ করা যায়।

জেনে নিন>> শীতে আলুর সার প্রয়োগ ও পরিচর্যা

বারি সরিষা -১১: এক হাজার বীজের ওজন প্রায় ৩.৫-৪.০ গ্রাম। বীজের ওজন অন্যান্য রাই সরিষার চেয়ে বেশি। ফসল ১০৫-১১০ দিন পাকে। প্রতি হেক্টরে ২.০-২.৫ টন ফলন পাওয়া যায়।

এ জাতটি দৌলতের চেয়ে ২০-২৫% বেশি ফলন দেয়। এ জাতটি নাবি জাত হিসাবে আমন ধান কাটার পর চাষ করা যায়। জাতটি খরা এবং লবনাক্ত সহনশীল। প্রতি ফলে বীজের সংখ্যা ১২-১৫ টি। পিঙ্গল রং বীজের।

বারি সরিষা -১২: হাজার বীজের ওজন ২.৬-৩.২ গ্রাম। বীজে তেলের পরিমাণ ৪৩- ৪৪%। ফসল ৭৮-৮৫ দিনে পাকে। প্রতি হেক্টরে ১.৪৫-১.৬৫ টন ফলন পাওয়া যায়।

আমন ধান কাটার পর স্বল্প মেয়াদী জাত হিসেবে চাষ করে বোরো ধান রোপণ করা যায়।

বারি সরিষা-১৩: হেক্টর প্রতি ফলন ২.২০-২.৮০ টন। ফসল ৯০-৯৫ দিনে পাকে। বীজে তেলের পরিমান শতকরা প্রায় ৪৩ ভাগ।

বারি সরিষা -১৪: হাজার বীজের ওজন ৩.৫-৩.৯ গ্রাম। ফসল ৭৫-৮০ দিনে পাকে। বারি  ১৪ বিঘা প্রতি ৬ থে‌কে ৭ মণ ফলন পাওয়া যায়। আমন ধান কাটার পর স্বল্প মেয়াদী জাত হিসেবে চাষ করে বোরো ধান রোপণ করা যায়।

বারি সরিষা -১৫: হাজার বীজের ওজন ৩.২৫-৩.৫০ গ্রাম। ফসল ৮০-৮৫ দিনে পাকে। প্রতি হেক্টরে ১.৫৫-১.৬৫ টন ফলন পাওয়া যায়। আমন ধান কাটার পর স্বল্প মেয়াদী জাত হিসেবে চাষ করে বোরো ধান রোপণ করা যায়।

বারি সরিষা -১৬: হাজার বীজের ওজন ৪.৭-৪.৯ গ্রাম। ফসল ১০৫-১১৫ দিনে পাকে। প্রতি হেক্টরে ২.০-২.৫ টন ফলন পাওয়া যায়। আমন ধান কাটার পর বোরো ধান করে না এমন জমিতে এ জাতটি নাবি জাত হিসেবে চাষ করা যায়। এ জাতটি খরা ও লবনাক্ততা সহিষ্ঞ।

 বারি সরিষা -১৭: হাজার বীজের ওজন ৩.০-৩.৪ গ্রাম। ফসল ৮২-৮৬ দিনে পাকে।  বিঘা প্রতি ৬ থে‌কে ৭ মণ হয় ফলন পাওয়া যায়।

জাতটি স্বল্প মেয়াদী হওয়ায় রোপা আমন-সরিষা-বোরো ধান শস্য বিন্যাসের জন্য উপযুক্ত। পাট কেটে এই জাতের সরিষা চাষ করা যায়।

জেনে নিন>> টমেটোর রোগ,রোগের কারণ ও প্রতিকার

 বিনাসরিষা-৪: হাজার বীজের ওজন ৩.৫০-৩.৮০ গ্রাম। বীজের রঙ লালচে কালো এবং বীজে তেলের পরিমাণ ৪৪% । জীবনকাল ৮০-৮৫ দিন। সর্বোচ্চ ২.৪০ টন /হেক্টর ফলন পাওয়া যায়। তবে হেক্টর প্রতি গড় ফলন ১.৭০ টন।

বিনা সরিষা-৭: জাতটি খরা এবং অল্টারনারিয়া জনিত পাতা ও ফলের ঝলসানো রোগ সহনশীল। বীজের আকার তুলনামূলকভাবে বড়। ১০০০ বীজের ওজন ৩.৫০-৪.২৫ গ্রাম। বীজে তেলের পরিমাণ ৩৬-৩৮%। জীবনকাল ১০২-১১০ দিন। হেক্টর প্রতি ফলন ২.০ টন।

বিনা সরিষা-৮: বীজে তেলের পরিমাণ ৩৯-৪১%। জীবনকাল ১০০-১০৮ দিন। হেক্টর প্রতি ফলন ২.৪ টন।

বিনা সরিষা-৯: জাতটি অল্টারনারিয়া জনিত পাতা ও ফলের ঝলসানো রোগ। বৃষ্টিজনিত সাময়িক জলাবদ্ধতা সহনশীল।

বীজে তেলের পরিমাণ ৪৩%। জীবনকাল ৮০-৮৪ দিন। হেক্টর প্রতি ফলন গড়ে ১.৬০ টন।

বিনা সরিষা-১০: বীজে তেলের পরিমাণ ৪২%। জীবনকাল ৭৮-৮২ দিন। হেক্টর প্রতি ফলন ১.৫ টন।

তবে, অধিকাংশ  কৃষক ভাইয়েরা ট‌রি ৭।বা‌রি স‌রিষা। বা‌রি স‌রিষা ৯, ১৪ বিনা স‌রিষা। বা‌রি স‌রিষা ১৭  চাষ  করে ক‌রেন।

জেনে নিন>>উচ্চ ফলনশীল বিনা সরিষা-১০ চাষ পদ্ধতি

জেনে>>সূর্যমুখী চাষ করে অধিক লাভবান হউন

জেনে নিন:>>টরি-৭ সরিষা চাষ

জেনে>>সরিষার বিভিন্ন জাত থেকে বেছে নিন আপনার পছন্দের জাত

জেনে>> পেরিলা চাষ পদ্ধতি

জেনে নিন>>বারি সরিষা-১১ সরিষা চাষ পদ্ধতি

জেনে নিন>> কল্যাণীয়া (টিএস-৭২)সরিষা চাষ পদ্ধতি

জেনে নিন>> বারি সরিষা-১৪ চাষ পদ্ধতি

 

Facebook Comments Box