যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি থেকে বি-১ বোমারু বিমান সরাল যুক্তরাষ্ট্র
- আপডেট সময় : ০১:৫০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মোতায়েনকৃত বি-১ বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে এই সরঞ্জাম ও বাহিনী স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লন্ডনের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে আগে এক ডজন বি-১ বোমারু বিমান রাখা ছিল, যা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালানো হতো। সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের এক সপ্তাহ পর যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বি-১ বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নিয়েছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, বিমানঘাঁটিতে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার কারণে নিরাপত্তা উদ্বেগের মুখে সেখান থেকে বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পেন্টাগনের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, তারা ঘাঁটি থেকে প্রায় এক ডজন বি-১ বোমারু যুক্তরাষ্ট্রে তাদের নিজ ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই প্রত্যাহারের কোনো কারণ স্পষ্ট করেনি।
সাম্প্রতিক সময়ে এই ঘাঁটিকে ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঘাঁটির কাছাকাছি তিনটি সন্দেহজনক যানবাহন ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলে সতর্কতা জারি করা হয়। এরপরই ২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া পরে একই অভিযোগে লন্ডন থেকে ২৫ বছর বয়সী আরও একজনকে আটক করা হয়। যদিও কাউন্টার টেররিজম পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, এই ছয়জনকেই পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে গত ২৭ সেপ্টেম্বরের একটি বড় ধরনের ঘটনার পর এটি ঘটল, যখন বিমানঘাঁটির কাছে তিনটি ‘সন্দেহজনক যানবাহন’ দেখে পুলিশকে সতর্ক করা হয়েছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্যে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের জামিনে মুক্তির ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, অভিযুক্তদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রয়েছে এবং তারা হলে এমন ব্যক্তিদের মুক্তি দিতেন না। তবে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। এছাড়া এই ষড়যন্ত্রে যারা জড়িত, তারা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি সাধনের পরিকল্পনা করেছিল বলে তিনি জানান। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ ঘটনার পেছনে বিদেশি শক্তির সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানিয়েছেন, ঘাঁটিটির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে ইরানের সম্পৃক্ততার শক্ত আলামত তাদের কাছে রয়েছে। তবে ইরান এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং তেহরানে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। এর আগে জুলাই মাসে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, তাদের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে ব্যবহৃত যেকোনো ঘাঁটি তাদের বাহিনীর বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে।
বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমা ও আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ বি-১ বিমানগুলো ইরানের সুরক্ষিত বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কাজে ব্যবহৃত হতো। প্রতিটি অভিযানের জন্য যাতায়াতসহ ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন হতো, যার উভয় পথে মাঝ আকাশে জ্বালানি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ আক্রমণের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানবিরোধী অভিযানে ব্যবহারের লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য এই ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রকে। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্য ও ইরানের দ্বৈত নাগরিক ষষ্ঠ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পেন্টাগনের মুখপাত্র ই-মেইলে নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমানে সব মার্কিন বোমারু বিমান নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরে গেছে। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, এটি কেবল সামরিক সিদ্ধান্ত ছিল এবং বিষয়টি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পেন্টাগন জোর দিয়ে বলেছে যে, তাদের বোমারু বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণের মাধ্যমে যেকোনো স্থানে যেকোনো সময় মিশন পরিচালনায় সক্ষম। বিবিসিকে সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের চেয়ে বরং সামরিক সিদ্ধান্ত ছিল।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলোতে গত রোববার বিমানঘাঁটি থেকে বি-১ বোমারু বিমানগুলোর প্রস্থানের দৃশ্য দেখা গেছে। আরএএফ ফেয়ারফোর্ড দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন বিমান বাহিনীর অগ্রবর্তী পরিচালনা কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
সূত্র: প্রথম আলো
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























