ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নীলফামারীতে চোরাই ৪টি চার্জার ভ্যান ও ১টি ইজিবাইক উদ্ধার: গ্রেপ্তার ৩ মাদক ও দেশীয় অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য গ্রেপ্তার কাতারে লাইসেন্স হারালো আল লুলুয়াহ ম্যানপাওয়ার এজেন্সি প্রয়াত আশরাফুল হক ভরসার মৃত্যু বার্ষিকী পালন হারাগাছ আশরান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে দোয়া মাহফিল নাটোরের বড়াইগ্রামে আবারও বাস সংঘর্ষ, নিহত ১ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ১৯৫ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি সৌদি আরবে হুতি হামলার তীব্র নিন্দা জানাল বাংলাদেশ ঢাবিতে অনশন কর্মসূচি থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৪ নেতা আটক দেশে মোট হামে ১০৪ জন এবং এর উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১১০ জনের মৃত্যু দেশে হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

মহা ধুমধামে বিয়ে হয়ে যায় নীলার প্রবাসীর সঙ্গে

সিঙ্গাপুর থেকে শফিকুল ইসলাম রিপন
  • আপডেট সময় : ০৮:২৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জুন ২০২৩ ৩৮৬ বার পড়া হয়েছে

মহা ধুমধামে বিয়ে হয়ে যায় নীলার প্রবাসীর সঙ্গে

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মহা ধুমধামে বিয়ে হয়ে যায় নীলার প্রবাসীর সঙ্গে।

একটা গল্পে লেখা থাকে অল্প। তবে সেই গল্প গুলো লেখা হয় কার জীবন থেকে।হয়তো বা মাঝে মাঝে এই গল্প মিলে যায় কার কার জীবনে।

আজকে আমি লেখটা গল্প নয়। এমন একটি কাহিনী যা গল্পকে হার মানায়। যা ১০০% সত্যি মিশে আছে কোন একজনের জীবনে। নীলা নামের একটি মেয়ের জীবনে ঘটে যাওয়া কাহিনী।

নীলা একটি সহজ সরল মেয়ে, লেখাপড়া করার খুবই ইচ্ছে ছিল তার। বাবা মায়ের ছোট মেয়ে।
৩ বোন আর এক ভাই। বোন দুইটি বিয়ে হয়ে গেছে আর ভাই ও বিয়ে করেছে।

এখন নীলার বিয়ে নিয়ে সংসারে চাপাচাপি,
এস,এস,সি পাশ করার পরেই তার বিয়ে নিয়ে যায় পরিবারের সবার চ তবে নীলার ইচ্ছে ছিল সে আরো পড়বে। পারেনি সে তার মনের আসা পূরন করতে। হঠাৎ করেই কোন এক দমকা হওয়া এসে তার জীবনটাকে এলোমেলো করে দিয়ে গেল।

রাকিব নামে এক ছেলে বহুদিন ধরে মালয়সিয়ায় থাকে। হঠাৎ করে দেশে এসেই নীলাকে দেখে পছন্দ করে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে। নীলার বাবা মা নীলাকে কিছু বুঝার আগেই বিয়ের সব কিছু ঠিক করে ফেলে।

ছেলে প্রবাসী দেখতে সুন্দর, মুখে সুন্দর দাঁড়ি,,
দেখতে পরহেজগার,, তাই বেসি সময় না নিয়ে বিয়ের আয়োজন করে ফেলে। নীলা নিরুপায় হয়েই বিয়েতে রাজি হয়।

কয়েকদিন পরেই বিয়ে হয়ে যায়। নগদ কাবিন ২০ হাজার টাকা, কাবিনের টাকা ইসলামের নিময় অনুযায়ী রাকিব নগদ পরিশোধ করে দেয়।

বিয়ে হয়ে যায় নীলার জানায়, তার স্বামী সারাক্ষণ হাদিস, কোরআন, ও নামাজ নিয়ে পরে থাকতো।তেমন কথাও বলতো না। দরকার ছাড়া সে নীলার সঙ্গে কথা হত না।

সংসার জীবনে স্বামী তেমন মনোযোগী ছিলনা।
দুইমাস পার হতেই নীলা প্যাগনেট হয়ে যায়।
সংসার জীবন মাএ ৪ মাস। ৪ মাস শেষ হতেই রাকিব আবার মালয়সিয়ায় চলে যায়। কিছুদিন কথা বলার পরে হটাৎ কথা বলা বন্ধ করে দেয়।

নীলা পাগলের মতো চেষ্টা করে কথা বলতে।দিন রাত ফোন দিয়েই যা।তবুও ফোন ধরেনা। ২-৩ মাস পরে অনেক এস এম এস এর পরে আবার কথা বলতে থাকে। নীলার বাচ্চা হবার সময় হয়ে আসে।

ডাঃ বলে তাকে সিজার করতে হবে। এই কথা নীলা রাকিবকে বলে আর রাকিব সোজা বলে যদি এই বাচ্চা হবার সময় মা,ও বাচ্চা মারাও যাও তবুও যে তাকে হাসপাতালে সিজার না করায়।

নীলার শরীর অনেক খারাপ দেখে তার শাশুড়ি তাকে হাসপাতালে নিয়ে সিজার করান।
বাচ্চা হবার পরে রাকিব কে জানানো হয় তার মেয়ে হয়েছে হাসপাতালে। রাকিব আলহামদুলিল্লাহ বলে সাথে সাথে খরচের জন্য টাকা পাঠিয়ে দেয়।

কিছুদিন পরে নীলা হাসপাতাল থেকে বাড়ি আসে। তবে রাকিব হাসপাতালে নেওয়াকে মেনে নিতে পারেনি। আবার কথা বলা বন্ধ করে দেয়।হুটহাট করেই কিছু না বলে কথা বলা বন্ধ করে দেয় আবার হাতে পায়ে ধরে অনুরোধ করতে করতে কল দেয় ৩-৪ মাস পরে।

নীলা কিছুতেই বুঝতে পারেনা কেন তার স্বামী এমন করে। এমন করতে করতে দুই বছর পার হয় যায়। মন চাইলে খরচের টাকা দেয় না চাইলে দেয়না। মেয়েটা বাবা বাবা বলে ডাকতে শিখে গেছে কিনতু বাবা তো তাকে ফোন দেয়না।
নীলা বাড়িতে আসে কিছু দিনের জন্য।

একদিন রাকিব ফোন করে বলে আমি তোমার সাথে সংসার করবোনা, আমি তোমাকে তালাক দিব।

নীলা কিছুই বুঝতে পারেনা।বার বার জানতে চায় তার কি দোষ।রাকিব কিছুনা বলেনা। একদিন ওর মা ডিভোর্স পেপার নিয়ে নীলাদের বাড়ি আসে আর নীলাকে দিয়ে বলে রাকিব তোমাকে ডিভোর্স দিছে এই নাও কাগজ

।
নীলা সাথে সাথে রাকিবকে কল দিয়ে জানতে চা কি তার অপরাধ। রাকিব বলে আমি তোমাকে চাইনা।

এখন রাকিব সোজা বলে আমি আমার মেয়েকেও চিনিনা। নীলা কি করবে বুঝতে পারেনা। কাগজ নিয়ে পড়ে দেখে রাকিব মালয়সিয়া যাওয়ার দুইদিন আগেই তাকে ডিভোর্স দিছে।

তাহলে কার এই অপরাধ। কেন সে নগদ টাকা কাবিন করেছিল ২০ হাজার।কেন সে ডিভোর্স দিল।

এই ছোট মেয়েটা নিয়ে এখন নীলা কোথায় যাবে।
কিছুদিন পরে জানতে পারে রাকিবের নিজের মুখেই বলে সে মালোসিয়াতে বিয়ে করেছে আর সে কখনো দেশে আসবেনা।

এই গল্পে আমি যা বুঝতে পারলাম রাকিব সে বহুদিন মালোসিয়া থাকা কালিন কোন এক মেয়ের সাথে প্রেম করতো আর সে সেই মেয়েকে বিয়ে করেছে আসার পরে পরিবারের চাপে বিয়ে করে আর পরে যাওয়ার সময় নীলাকে ডিভোর্স দিয়ে যায়।

এখন ঐ ছোট মেয়েটা কার পরিচয়ে বড় হবে কাকে সে বাবা বলে ডাকবে। ঐ ২৩-২৪ বছরের নীলার কি হবে কে নিবে তার দায়িত্ব।

কি দোষ ছিল নীলার আর তার ছোট মেয়েটার।
আল্লাহ কি রাকিবকে ক্ষমা করবে? এমন করে সত সত নীলার জীবন নীড়বে ঝড়ে যায়।

নীলারা কি সংসার করার সপ্ন দেখতে পারবেনা আর কোন দিন। আমি থুতু দেই ঐ সমস্ত রাকিবের মুখে যারা নীলাদের জীবন নষ্ট করে চলে গেছে।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মহা ধুমধামে বিয়ে হয়ে যায় নীলার প্রবাসীর সঙ্গে

আপডেট সময় : ০৮:২৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জুন ২০২৩

মহা ধুমধামে বিয়ে হয়ে যায় নীলার প্রবাসীর সঙ্গে।

একটা গল্পে লেখা থাকে অল্প। তবে সেই গল্প গুলো লেখা হয় কার জীবন থেকে।হয়তো বা মাঝে মাঝে এই গল্প মিলে যায় কার কার জীবনে।

আজকে আমি লেখটা গল্প নয়। এমন একটি কাহিনী যা গল্পকে হার মানায়। যা ১০০% সত্যি মিশে আছে কোন একজনের জীবনে। নীলা নামের একটি মেয়ের জীবনে ঘটে যাওয়া কাহিনী।

নীলা একটি সহজ সরল মেয়ে, লেখাপড়া করার খুবই ইচ্ছে ছিল তার। বাবা মায়ের ছোট মেয়ে।
৩ বোন আর এক ভাই। বোন দুইটি বিয়ে হয়ে গেছে আর ভাই ও বিয়ে করেছে।

এখন নীলার বিয়ে নিয়ে সংসারে চাপাচাপি,
এস,এস,সি পাশ করার পরেই তার বিয়ে নিয়ে যায় পরিবারের সবার চ তবে নীলার ইচ্ছে ছিল সে আরো পড়বে। পারেনি সে তার মনের আসা পূরন করতে। হঠাৎ করেই কোন এক দমকা হওয়া এসে তার জীবনটাকে এলোমেলো করে দিয়ে গেল।

রাকিব নামে এক ছেলে বহুদিন ধরে মালয়সিয়ায় থাকে। হঠাৎ করে দেশে এসেই নীলাকে দেখে পছন্দ করে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে। নীলার বাবা মা নীলাকে কিছু বুঝার আগেই বিয়ের সব কিছু ঠিক করে ফেলে।

ছেলে প্রবাসী দেখতে সুন্দর, মুখে সুন্দর দাঁড়ি,,
দেখতে পরহেজগার,, তাই বেসি সময় না নিয়ে বিয়ের আয়োজন করে ফেলে। নীলা নিরুপায় হয়েই বিয়েতে রাজি হয়।

কয়েকদিন পরেই বিয়ে হয়ে যায়। নগদ কাবিন ২০ হাজার টাকা, কাবিনের টাকা ইসলামের নিময় অনুযায়ী রাকিব নগদ পরিশোধ করে দেয়।

বিয়ে হয়ে যায় নীলার জানায়, তার স্বামী সারাক্ষণ হাদিস, কোরআন, ও নামাজ নিয়ে পরে থাকতো।তেমন কথাও বলতো না। দরকার ছাড়া সে নীলার সঙ্গে কথা হত না।

সংসার জীবনে স্বামী তেমন মনোযোগী ছিলনা।
দুইমাস পার হতেই নীলা প্যাগনেট হয়ে যায়।
সংসার জীবন মাএ ৪ মাস। ৪ মাস শেষ হতেই রাকিব আবার মালয়সিয়ায় চলে যায়। কিছুদিন কথা বলার পরে হটাৎ কথা বলা বন্ধ করে দেয়।

নীলা পাগলের মতো চেষ্টা করে কথা বলতে।দিন রাত ফোন দিয়েই যা।তবুও ফোন ধরেনা। ২-৩ মাস পরে অনেক এস এম এস এর পরে আবার কথা বলতে থাকে। নীলার বাচ্চা হবার সময় হয়ে আসে।

ডাঃ বলে তাকে সিজার করতে হবে। এই কথা নীলা রাকিবকে বলে আর রাকিব সোজা বলে যদি এই বাচ্চা হবার সময় মা,ও বাচ্চা মারাও যাও তবুও যে তাকে হাসপাতালে সিজার না করায়।

নীলার শরীর অনেক খারাপ দেখে তার শাশুড়ি তাকে হাসপাতালে নিয়ে সিজার করান।
বাচ্চা হবার পরে রাকিব কে জানানো হয় তার মেয়ে হয়েছে হাসপাতালে। রাকিব আলহামদুলিল্লাহ বলে সাথে সাথে খরচের জন্য টাকা পাঠিয়ে দেয়।

কিছুদিন পরে নীলা হাসপাতাল থেকে বাড়ি আসে। তবে রাকিব হাসপাতালে নেওয়াকে মেনে নিতে পারেনি। আবার কথা বলা বন্ধ করে দেয়।হুটহাট করেই কিছু না বলে কথা বলা বন্ধ করে দেয় আবার হাতে পায়ে ধরে অনুরোধ করতে করতে কল দেয় ৩-৪ মাস পরে।

নীলা কিছুতেই বুঝতে পারেনা কেন তার স্বামী এমন করে। এমন করতে করতে দুই বছর পার হয় যায়। মন চাইলে খরচের টাকা দেয় না চাইলে দেয়না। মেয়েটা বাবা বাবা বলে ডাকতে শিখে গেছে কিনতু বাবা তো তাকে ফোন দেয়না।
নীলা বাড়িতে আসে কিছু দিনের জন্য।

একদিন রাকিব ফোন করে বলে আমি তোমার সাথে সংসার করবোনা, আমি তোমাকে তালাক দিব।

নীলা কিছুই বুঝতে পারেনা।বার বার জানতে চায় তার কি দোষ।রাকিব কিছুনা বলেনা। একদিন ওর মা ডিভোর্স পেপার নিয়ে নীলাদের বাড়ি আসে আর নীলাকে দিয়ে বলে রাকিব তোমাকে ডিভোর্স দিছে এই নাও কাগজ

।
নীলা সাথে সাথে রাকিবকে কল দিয়ে জানতে চা কি তার অপরাধ। রাকিব বলে আমি তোমাকে চাইনা।

এখন রাকিব সোজা বলে আমি আমার মেয়েকেও চিনিনা। নীলা কি করবে বুঝতে পারেনা। কাগজ নিয়ে পড়ে দেখে রাকিব মালয়সিয়া যাওয়ার দুইদিন আগেই তাকে ডিভোর্স দিছে।

তাহলে কার এই অপরাধ। কেন সে নগদ টাকা কাবিন করেছিল ২০ হাজার।কেন সে ডিভোর্স দিল।

এই ছোট মেয়েটা নিয়ে এখন নীলা কোথায় যাবে।
কিছুদিন পরে জানতে পারে রাকিবের নিজের মুখেই বলে সে মালোসিয়াতে বিয়ে করেছে আর সে কখনো দেশে আসবেনা।

এই গল্পে আমি যা বুঝতে পারলাম রাকিব সে বহুদিন মালোসিয়া থাকা কালিন কোন এক মেয়ের সাথে প্রেম করতো আর সে সেই মেয়েকে বিয়ে করেছে আসার পরে পরিবারের চাপে বিয়ে করে আর পরে যাওয়ার সময় নীলাকে ডিভোর্স দিয়ে যায়।

এখন ঐ ছোট মেয়েটা কার পরিচয়ে বড় হবে কাকে সে বাবা বলে ডাকবে। ঐ ২৩-২৪ বছরের নীলার কি হবে কে নিবে তার দায়িত্ব।

কি দোষ ছিল নীলার আর তার ছোট মেয়েটার।
আল্লাহ কি রাকিবকে ক্ষমা করবে? এমন করে সত সত নীলার জীবন নীড়বে ঝড়ে যায়।

নীলারা কি সংসার করার সপ্ন দেখতে পারবেনা আর কোন দিন। আমি থুতু দেই ঐ সমস্ত রাকিবের মুখে যারা নীলাদের জীবন নষ্ট করে চলে গেছে।

 

Facebook Comments Box