ভোলা শহর রক্ষার প্রকল্পের সিসি ব্লক ধসে একজনের মৃত্যু : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
ভোলা শহর রক্ষার প্রকল্পের সিসি ব্লক ধসে একজনের মৃত্যু : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রয়াত নেত্রী খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ: স্মরণ ও প্রার্থনায় বিএনপি জুলাই বিপ্লবের দুই বছর পরেও বিচারের অপেক্ষায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থি শিক্ষকরা ভূরুঙ্গামারীতে ইয়াবা ও হেরোইনসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে স্থবির দেশের শিল্প খাত, উৎপাদন নেমেছে তলানিতে মিরাজের ফিফটি ও তাসকিনের দৃঢ়তায় দুইশ ছাড়াল বাংলাদেশের লিড ১৫ আগস্ট ঘিরে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা, রাজধানীতে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মী আটক মেসির পথ ধরে এমএলএসে ইউরোপীয় তারকাদের জয়জয়কার রাণীশংকৈলে মির্জা রুহুল আমিন স্মৃতি গোল্ডকাপের যাত্রা শুরু ফোনের কভারে তেজপাতা, কেন নতুন ট্রেন্ড? মাঠের ঘাসে ছত্রাকের সংক্রমণ: লা লিগায় ওসাসুনা ও সেল্টা ভিগোর ম্যাচ স্থগিত

ভোলা শহর রক্ষার প্রকল্পের সিসি ব্লক ধসে একজনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত : সোমবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৪
ভোলা শহর রক্ষার প্রকল্পের সিসি ব্লক ধসে একজনের মৃত্যু

ভোলা শহর রক্ষার প্রকল্পের সিসি ব্লক ধসে একজনের মৃত্যুসহ গুরুত্বর আহত অনেকে।

ভোলা শহর রক্ষার ৩৩৫ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধনের ২২ দিনের মাথায় ২ দফা সিসি ব্লক ধসে একজনের মৃত্যুসহ গুরুত্বর আহত অনেকে।

নদী ভাঙ্গন থেকে ভোলাবাসীকে রক্ষা করা ও টেকসই উন্নতি সাধন করার শ্লোগান নিয়ে বর্তমান সরকার মেঘনার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ভোলার উত্তর দিকের মেঘনার বেড়িবাঁধ রক্ষায় সিসি ব্লক দিয়ে ভোলাকে বিপদ মুক্ত করার জন্য ৩৩৫ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শেষ করা হয়েছে।

মাত্র ৩ বছর যেতে না যেতেই প্রকল্পটির লক্ষ্যে ও উদ্দেশ্যে এখন একটি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। মাত্র ২২ দিনের মাথায় ২ দফা সিসি ব্লক ধসে একজনের মৃত্যু সহ গুরুত্বর আহত হয়েছেন অনেকে।

ভোলার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) আপদ কালীন ধস ঠেকাতে অপরিকল্পিত জিওব্যাগ ডাম্পিং’র কাজ শুরু করলেও সাধারণদের হতাহত ঠেকাতে এখনো নেয়া হয়নি কোন পদক্ষেপ।

এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা বলছেন, আসছে বর্ষায় পাউবোর ভোলা শহর রক্ষা বাঁধে ব্যাপক হারে ধসে পরে কয়েকটি ইউনিয়নে মেঘনার পানি ঢুকে শহর প্লাবিত হওয়ার ও বহু মানুষ হতাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রিজার্ভ ব্লক, অনিয়ন্ত্রিত জিও ব্যাগ ডাম্পিং, কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও মেঘনায় অপরিকল্পিত বালু মহল ইজারার সঠিক তদন্ত করে ভোলা শহর রক্ষাবাঁধকে মেঘনার হাত থেকে বিলিন হওয়া ঠেকাতে এখনই পদক্ষেপ নেয়ার সময়।

সরেজমিনে জানা যায়, গত ৭ জানুয়ারি ২০১৭ সালে ভোলা শহরকে রক্ষার জন্য রাজাপুর ইউনিয়নের মাথা থেকে পূর্ব ইলিশা ইউপির দালাল কান্দি পর্যন্ত ২৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ইনফ্রাটেক-এনজেডকে(জেভি) নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ প্রকল্পের চার গ্রুপের কাজ পায়। ৪ বছরে প্রকল্পটির আরো ৫৫ কোটি টাকার বরাদ্দ বেড়ে মোট ৩৩৫ কোটি টাকায় সমাপ্ত করে। প্রাথমিক ভাবে ২৮ লক্ষ ৮০ হাজার সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধ তৈরী করে অবশিষ্ট ৯০ হাজার ব্লক অতিরিক্ত রেখে আপদ কালীন সংস্কার করার কথা ছিল। কিন্তু ৩ বছর পর ভোলা শহর রক্ষা বাঁধের উল্লেখিত পয়েন্টে মাত্র ২২ দিনের মাথায় ২ দফায় সিসি ব্লক ধসে পরে সাধারণ পথচারি হতাহত হলে পাউবো আপদ কালীন সংস্কারের জন্য লোকাল বালি দিয়ে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কাজ শুরু করে, অথচ অতিরিক্ত সেই ৯০ হাজার সিসি ব্লকের কোন অস্থিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এনিয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ( পাউবো)’র মাঠ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা কোন কথা বলতে রাজি হয়নি।

অন্যদিকে ইমারজেন্সী জিও ব্যাগ ডাম্পিং নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে অভিযোগ রয়েছে। তারা বলছেন, ৩ টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মের্সাস বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং, মের্সাস ড্রিম হোম ও মের্সাস সৃতি এন্টার প্রইজের মাধ্যমে পাউবো প্রায় ২২ কোটি টাকার জিও ব্যাগ ডাম্পিং’র যে কাজ করছে তা অপরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিতহীন মনিটরিং’র কারনে শহর রক্ষা বঁধের কোন কাজেই আসবেনা। পাউবো শুধু শুধু রাষ্ট্রের অর্থ জলে ফেলছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিনিধি খোকন দেবনাথ’র কাছে ডাম্পিং’র বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিজেকে লুকানোর চেষ্টা করেও পরে তার সম্পৃক্ততার বিষয় শিকার করে বলেন, আমরা কাজে কোন অনিয়ম করছিনা। সব কিছু ঠিকঠাক মতই হচ্ছে।

ইলিশা বাঁচাও আন্দোলন কমিটিরি পক্ষে এ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম ও সাংবাদিক ইয়ামিন হোসেন বলেন, উত্তাল মেঘনার ভাঙ্গনের কবল থেকে ভোলা শহরকে রক্ষা করার জন্য তৎকালিন পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী অতিরিক্ত ৯০ হাজার ব্লকের হদিস, প্রকল্পের অনিয়মের সাথে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন কোন কর্মকর্তা জড়িত এবং তৎকালীন জেলা প্রশাসক কিসের প্রলোভন পেয়ে ভোলার মেঘনাকে বালু দস্যুদের কাছে ইজারা দিয়ে কাদের পকেট ভারি করার দায়িত্ব নিলেন তার সঠিক তদন্ত করে রাষ্ট্রযন্ত্র গুলোকে খুঁজে বের করতে হবে।

আমরা ভোলার ভাঙ্গনকবলীত মানুষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তিনিই পারেন আমাদেরকে এই ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করার ব্যাবস্থা করতে।

ভোলা দুর্ণীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বির চৌধুরী বলেন, যতদিন এই প্রকল্পটির তদারকি ড. কাজী তোফায়েল অহমেদ করেছেন ততদিন কাজের মান ভালোই ছিলো। যখন একটি দূর্ণীতিবাজ চক্র ওনাকে সরিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মিলে কাজটি করেছেন তখন ভোলা শহর রক্ষাবাঁধটির স্থায়িত্ব নিয়ে ভোলাবাসীর মনে শঙ্কা জাগে।

তিনি আরও বলেন, এখন যা হবার তাই হয়েছে। আমরা আশা করবো সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ভোলার সব গুলো বেড়িবাঁধ প্রকল্পের কাজের জন্য তদন্ত কামিটি গঠন করে বা দুর্ণীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে তদন্ত করে এর সঠিক ব্যাবস্থা নিয়ে ড. তোফায়েলদের মত কর্মকর্তা বা সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কাজ করে ভোলাকে নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করার প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা।

এনিয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি পরিচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ কারিদের সকল তথ্য মিথ্যা, আপদ কালীন কাজে কোন অনিয়ম হচ্ছেনা।

ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক ম. হাসানুজ্জামান বলেন, ৯০ হাজার অতিরিক্ত ব্লক রাখার কথা ছিল কিন্তু জমির কোন ব্যাবস্থা না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। সিসি ব্লকের পার দখলের বিষয়য়ে কয়েকবার পদক্ষেপ নিয়েছি কিন্তু কেউ কথা শুনেনা। কেউ নিষেদ না মানলে আমাদের কি করনীয় আছে। আর আপদ কালীন জিও ব্যাগ ডাম্পিং কাজে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কোন অনিয়ম করার সুযোগ নেই। আমরা সার্বক্ষনিক বিষয়টি মনিটরিং করছি।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!