ঢাকা ১২:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ভূরুঙ্গামারীতে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের সাধ থাকলেও সাধ্য নেই ইলিশ কেনার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৩:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ ৫৩৪ বার পড়া হয়েছে

ভূরুঙ্গামারীতে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের সাধ থাকলেও সাধ্য নেই ইলিশ কেনার

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে নিম্ন আয়ের মানুষের সাধ থাকলেও সাধ্য নেই জাতীয় মাছ ইলিশ কেনার। ইলিশের ভরা মৌসুমে সরবাহ কম ও চড়া দামের কারণে রুপালি ইলিশের ধারেকা ছেও ভিড়তে পারছেন না মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষের। ইলিশ ব্যবসায়ীরা বলছে, বাজারে সব পণ্যের দাম বেশি। এর প্রভাব মাছের বাজারেও পড়েছে। মোকাম থেকে বেশি দামে কেনা ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা বেশি।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট ) সন্ধ্যায় ভূরুঙ্গামারীর মাছ বাজারে গিয়ে দেখাযায়, দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪৫০ টাকা, ১ কেজি ওজনের ইলিশ ১২৫০ টাকা থেকে ১৩০০ টাকা, ৫শ গ্রামের ওপরে ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকায় ও ৫ শ গ্রাম ওজনের নীচের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা।

আব্দুল মজিদ নামের একজন জানান, নতুন পাট বিক্রি করে ইলিশ মাছ কিনে বাড়ি ফেরা ভূরুঙ্গামারীর প্রতিটি কৃষক পরিবারের ঐতিহ্য ছিলো। কিন্তু ইলিশের দাম এতো চড়া যে এখন কৃষক পরিবারের সেই ঐতিহ্য আর নেই।

আলমগীর নামের এক অটো চালক জানান, দৈনিক ৪৫০ টাকা ভাড়ায় অটো চালান তিনি। সারা দিনে ৯০০ টাকা রোজগার করেছি। মেয়ে ইলিশ মাছ খাইতে চায়ছে। জমার টাকা পরিশোধ করে বাজারে আসছি। কিন্তু ইলিশের এতো দাম। অনেক দামাদামি করে ৪০০ গ্রামের একটি ছোট ইলিশ তিনশ টাকায় কিনেছি।

ইলিশ নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের বাজেটের বাইরে। উচ্চবিত্তের মানুষ ছাড়া এখন আর ইলিশ মাছ কেনা সম্ভব নয়।

ইলিশ মাছ বিক্রেতা আব্দুল লতিফ জানান, মাওয়া ঘাট আর চাঁদপুর থেকে ইলিশ মাছ আনেন তিনি। মোকাম থেকে বেশিদামে কেনা ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা বেশি।এক কাটুনে ৬০ কেজি ইলিশ আনা যায়।এক সপ্তাহে এক কাটুন বিক্রি করেন।চাহিদা বেশি হলে কোন কোন সপ্তাহে দুই কাটুনও বিক্রি হয়।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আদম মালিক চৌধুরী বলেন, উপজেলায় মাছের চাহিদা ৫ হাজার ৭০ মেঃ টন। আর উৎপাদন ৪ হাজার ৮শ ৭৫ মেঃ টন, ঘাটতি রয়েছে ১শ ৯৫ মেঃ টন। ইলিশসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ দেশের অন‍্যান‍্য অঞ্চল থেকে ভূরুঙ্গামারীতে আসে যার মাধ্যমে ঘাটতি পুরণ হয়।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভূরুঙ্গামারীতে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের সাধ থাকলেও সাধ্য নেই ইলিশ কেনার

আপডেট সময় : ১০:২৩:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে নিম্ন আয়ের মানুষের সাধ থাকলেও সাধ্য নেই জাতীয় মাছ ইলিশ কেনার। ইলিশের ভরা মৌসুমে সরবাহ কম ও চড়া দামের কারণে রুপালি ইলিশের ধারেকা ছেও ভিড়তে পারছেন না মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষের। ইলিশ ব্যবসায়ীরা বলছে, বাজারে সব পণ্যের দাম বেশি। এর প্রভাব মাছের বাজারেও পড়েছে। মোকাম থেকে বেশি দামে কেনা ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা বেশি।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট ) সন্ধ্যায় ভূরুঙ্গামারীর মাছ বাজারে গিয়ে দেখাযায়, দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪৫০ টাকা, ১ কেজি ওজনের ইলিশ ১২৫০ টাকা থেকে ১৩০০ টাকা, ৫শ গ্রামের ওপরে ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকায় ও ৫ শ গ্রাম ওজনের নীচের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা।

আব্দুল মজিদ নামের একজন জানান, নতুন পাট বিক্রি করে ইলিশ মাছ কিনে বাড়ি ফেরা ভূরুঙ্গামারীর প্রতিটি কৃষক পরিবারের ঐতিহ্য ছিলো। কিন্তু ইলিশের দাম এতো চড়া যে এখন কৃষক পরিবারের সেই ঐতিহ্য আর নেই।

আলমগীর নামের এক অটো চালক জানান, দৈনিক ৪৫০ টাকা ভাড়ায় অটো চালান তিনি। সারা দিনে ৯০০ টাকা রোজগার করেছি। মেয়ে ইলিশ মাছ খাইতে চায়ছে। জমার টাকা পরিশোধ করে বাজারে আসছি। কিন্তু ইলিশের এতো দাম। অনেক দামাদামি করে ৪০০ গ্রামের একটি ছোট ইলিশ তিনশ টাকায় কিনেছি।

ইলিশ নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের বাজেটের বাইরে। উচ্চবিত্তের মানুষ ছাড়া এখন আর ইলিশ মাছ কেনা সম্ভব নয়।

ইলিশ মাছ বিক্রেতা আব্দুল লতিফ জানান, মাওয়া ঘাট আর চাঁদপুর থেকে ইলিশ মাছ আনেন তিনি। মোকাম থেকে বেশিদামে কেনা ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা বেশি।এক কাটুনে ৬০ কেজি ইলিশ আনা যায়।এক সপ্তাহে এক কাটুন বিক্রি করেন।চাহিদা বেশি হলে কোন কোন সপ্তাহে দুই কাটুনও বিক্রি হয়।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আদম মালিক চৌধুরী বলেন, উপজেলায় মাছের চাহিদা ৫ হাজার ৭০ মেঃ টন। আর উৎপাদন ৪ হাজার ৮শ ৭৫ মেঃ টন, ঘাটতি রয়েছে ১শ ৯৫ মেঃ টন। ইলিশসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ দেশের অন‍্যান‍্য অঞ্চল থেকে ভূরুঙ্গামারীতে আসে যার মাধ্যমে ঘাটতি পুরণ হয়।

 

Facebook Comments Box