ঢাকা ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: সিডনির নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুরু বাণিজ্যিক ফ্লাইট কাউনিয়ায় আলোর দিশারী পাঠাগারের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন সাতকানিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনার পর পুলিশের গাড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার ৪ কাউনিয়ায় তকিপল বাজার যুব সংঘের আহ্বায়ক কমিটি গঠন নওগাঁয় সড়কে ছিনতাই ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ বর্ষসেরা কোচের পুরস্কারের দৌড়ে এগিয়ে লুইস দে লা ফুয়েন্তে না ফেরার দেশে সাংবাদিক ও সাবেক এমপি মুহম্মদ শফিকুর রহমান বিশ্বের ৯৬ শতাংশ প্রবালপ্রাচীর বাস্তুতন্ত্র সংকটের মুখে জরিমানা আদায়: পাবনায় পরিবেশ দূষণ রোধে অভিযান

ভূরুঙ্গামারীতে এলসিএস প্রকল্পে অনিয়ম-দূর্নীতির বিস্তর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:০৫:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ নভেম্বর ২০২২ ২৪০ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কাজে কর্মী নিয়োগ এবং কাজ বাস্তবায়নের ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

কুড়িগ্রাম জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের একটি লিখিত অভিযোগ সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

হতদরিদ্র এলসিএস প্রকল্পে মহিলা কর্মীদের চুক্তিভিত্তিক কাজ সম্পন্ন করার নিয়ম থাকা সত্বেও বিভিন্ন অনিয়ম ও এলসিএস কর্মীদের এক মাসের বেতন না দেয়া হয়নি।তাদের সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাৎ সহ বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যায়।’পল্লী সড়ক ও কালভার্ট প্রকল্প’ এলসিএস প্রকল্পের আওতায় প্রকল্পটি ১ জুলাই ২০১৯ থেকে শুরু করে ৩০ জুন ২০২১ তারিখে শেষ হয়।

ভুক্তভোগী এলসিএস প্রকল্পে কাজ করা ১৫ জন দরিদ্র মহিলার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, মাটিকাটা প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা হয়েছে। তাদের নিয়মিত মাসিক বেতন ও সঞ্চয়কৃত অর্থ দিতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী শাখা গরিমসী করছেন।

এমন অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় সাংবাদিক, শিলখুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করে অবশেষে সোমবার (১৭ অক্টোবর) তাদের পাওনা কৃত টাক প্রকৌশলীর মাধ্যমে ফেরত দেয় এবং এক মাসের টাকা অফিস সংশ্লিষ্ট স্টাফ কর্তৃক আত্মসাৎ করে।

প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, এরূপ আরও তিনটি টিম মাঠে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে কাজ করছে।কাজ করা ভুক্তভোগী দরিদ্র মহিলাদের দেয়া তথ্যমতে জানা যায়, প্রকল্পের কাজ চলাকালীন তাদের মাসিক বেতন হিসেবে নির্ধারিত টাকা দেয়ার পরেও সরকারি নির্দেশনা মতে তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে প্রতিদিন ৮০ টাকা করে সঞ্চয় জমা করার কথা থাকলেও মাঠ কর্মকর্তা তাদের কাছ থেকে সঞ্চয়ের জন্য প্রতিদিন ১০০ টাকা করে নিতেন। নির্ধারিত ৮০ টাকার অতিরিক্ত ২০ টাকা করে নেওয়ায়  হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের তথ্যমতে, এ জমানো টাকার পরিমাণ একেকজনের ৭ হাজার দুইশত টাকা। সেই হিসেবে একটি টিমের ১৫ জন মহিলার প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লক্ষ ৮ হাজার টাকা যা কার্য‍্যসহকারী মোঃ ফিরোজ আলম অফিসে জমা না দিয়ে শুধুমাত্র তাদের ৮০ টাকা করে জমা করে।

তবে উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ এন্তাজুর রহমানকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি ঐ সময়ে জানান, “তাদের সঞ্চয়ের পরিমাণ ৮০ টাকা করে, ২০ টাকা অতিরিক্ত কেন নিয়েছে তা আমার জানা নেই।”

পরে এ বিষয়ে তিন দফা বৈঠকের পর কার্য্যসহকারী মোঃ ফিরোজ আলম এসব দরিদ্র মহিলাদের কাছ থেকে প্রতিদিনের নেয়া অতিরিক্ত ২০ টাকা হারে ১ লক্ষ ৮ হাজার টাকা দিতে সম্মত হয়।

এ ছাড়াও বিভিন্ন সময় করোনা কালীন অফিসের বিভিন্ন কাজের কথা বলে একেকজন মহিলার কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং একাউন্ট রিনিউ করার জন্য  দুই হাজার টাকা করে নেন বলেও ভুক্তভোগীরা জানান।

পরে উত্তোলিত অতিরিক্ত এক লক্ষ আট হাজার টাকা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ জালাল উদ্দিন মন্ডল, শিলখুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ এবং স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে ভুক্তভোগী মহিলাদের মধ্যে উপজেলা প্রকৌশলী এন্তাজুর রহমানের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। কিন্তু এক মাসের আত্মসাৎকৃত টাকার কোন সমাধান হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাসুদুর রহমান জানান, আমি অভিযোগের বিষয়ে অবগত নই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব‍্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভূরুঙ্গামারীতে এলসিএস প্রকল্পে অনিয়ম-দূর্নীতির বিস্তর অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:০৫:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ নভেম্বর ২০২২

 

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কাজে কর্মী নিয়োগ এবং কাজ বাস্তবায়নের ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

কুড়িগ্রাম জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের একটি লিখিত অভিযোগ সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

হতদরিদ্র এলসিএস প্রকল্পে মহিলা কর্মীদের চুক্তিভিত্তিক কাজ সম্পন্ন করার নিয়ম থাকা সত্বেও বিভিন্ন অনিয়ম ও এলসিএস কর্মীদের এক মাসের বেতন না দেয়া হয়নি।তাদের সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাৎ সহ বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যায়।’পল্লী সড়ক ও কালভার্ট প্রকল্প’ এলসিএস প্রকল্পের আওতায় প্রকল্পটি ১ জুলাই ২০১৯ থেকে শুরু করে ৩০ জুন ২০২১ তারিখে শেষ হয়।

ভুক্তভোগী এলসিএস প্রকল্পে কাজ করা ১৫ জন দরিদ্র মহিলার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, মাটিকাটা প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা হয়েছে। তাদের নিয়মিত মাসিক বেতন ও সঞ্চয়কৃত অর্থ দিতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী শাখা গরিমসী করছেন।

এমন অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় সাংবাদিক, শিলখুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করে অবশেষে সোমবার (১৭ অক্টোবর) তাদের পাওনা কৃত টাক প্রকৌশলীর মাধ্যমে ফেরত দেয় এবং এক মাসের টাকা অফিস সংশ্লিষ্ট স্টাফ কর্তৃক আত্মসাৎ করে।

প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, এরূপ আরও তিনটি টিম মাঠে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে কাজ করছে।কাজ করা ভুক্তভোগী দরিদ্র মহিলাদের দেয়া তথ্যমতে জানা যায়, প্রকল্পের কাজ চলাকালীন তাদের মাসিক বেতন হিসেবে নির্ধারিত টাকা দেয়ার পরেও সরকারি নির্দেশনা মতে তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে প্রতিদিন ৮০ টাকা করে সঞ্চয় জমা করার কথা থাকলেও মাঠ কর্মকর্তা তাদের কাছ থেকে সঞ্চয়ের জন্য প্রতিদিন ১০০ টাকা করে নিতেন। নির্ধারিত ৮০ টাকার অতিরিক্ত ২০ টাকা করে নেওয়ায়  হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের তথ্যমতে, এ জমানো টাকার পরিমাণ একেকজনের ৭ হাজার দুইশত টাকা। সেই হিসেবে একটি টিমের ১৫ জন মহিলার প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লক্ষ ৮ হাজার টাকা যা কার্য‍্যসহকারী মোঃ ফিরোজ আলম অফিসে জমা না দিয়ে শুধুমাত্র তাদের ৮০ টাকা করে জমা করে।

তবে উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ এন্তাজুর রহমানকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি ঐ সময়ে জানান, “তাদের সঞ্চয়ের পরিমাণ ৮০ টাকা করে, ২০ টাকা অতিরিক্ত কেন নিয়েছে তা আমার জানা নেই।”

পরে এ বিষয়ে তিন দফা বৈঠকের পর কার্য্যসহকারী মোঃ ফিরোজ আলম এসব দরিদ্র মহিলাদের কাছ থেকে প্রতিদিনের নেয়া অতিরিক্ত ২০ টাকা হারে ১ লক্ষ ৮ হাজার টাকা দিতে সম্মত হয়।

এ ছাড়াও বিভিন্ন সময় করোনা কালীন অফিসের বিভিন্ন কাজের কথা বলে একেকজন মহিলার কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং একাউন্ট রিনিউ করার জন্য  দুই হাজার টাকা করে নেন বলেও ভুক্তভোগীরা জানান।

পরে উত্তোলিত অতিরিক্ত এক লক্ষ আট হাজার টাকা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ জালাল উদ্দিন মন্ডল, শিলখুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ এবং স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে ভুক্তভোগী মহিলাদের মধ্যে উপজেলা প্রকৌশলী এন্তাজুর রহমানের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। কিন্তু এক মাসের আত্মসাৎকৃত টাকার কোন সমাধান হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাসুদুর রহমান জানান, আমি অভিযোগের বিষয়ে অবগত নই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব‍্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Facebook Comments Box