ভান্ডারিয়ায় ভাসমান হাসপাতাল ইমপ্যাক্ট জীবনতরী স্বাস্থ্য সেবায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
ভান্ডারিয়ায় ভাসমান হাসপাতাল ইমপ্যাক্ট জীবনতরী স্বাস্থ্য সেবায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকার পানি সংকট নিরসনে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে ডেনমার্ক লোহাগড়ায় বাসের ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু, চালকসহ বাস আটক প্রেক্ষাপট: সংসদ অধিবেশন ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ম্যারাডানোর মৃত্যু মামলা: চিকিৎসার নথিতে বাবার রিপোর্ট নিয়ে বড় বিভ্রান্তি ইমরান খানের মৌলিক অধিকার রক্ষায় ব্রিটিশ সরকারের হস্তক্ষেপ চাইলেন জেমাইমা গোল্ডস্মিথ ইরানের সঙ্গে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, দাবি পাকিস্তানের প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অ্যাসিস্ট্যান্ট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার পদে নিয়োগ দামেস্কে বেসামরিক গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানাল কাতার ঝিনাইদহে টিসিবির পণ্য নিয়ে বিরোধের জেরে হামলায় বৃদ্ধের মৃত্যু সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে আগ্রহী বাংলাদেশ

ভান্ডারিয়ায় ভাসমান হাসপাতাল ইমপ্যাক্ট জীবনতরী স্বাস্থ্য সেবায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে

পিরোজপুর থেকে শেখর মজুমদার
  • প্রকাশিত : সোমবার, ৩ অক্টোবর, ২০২২
ভান্ডারিয়ায় ভাসমান হাসপাতাল ইমপ্যাক্ট জীবনতরী স্বাস্থ্য সেবায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া ভাসমান হাসপাতাল ইমপ্যাক্ট জীবর তরী স্বাস্থ্য সেবায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

চলতি বছরের গেল মাসের ১তারিখ থেকে উপজেলার ভান্ডারিয়া থানা লাগোয়া কচাঁ নদীর শাখা পোনা নদীতে হাসপাতালটি নোঙ্গর করে ভাসমান হাসপাতাল ইমপ্যাক্ট জীবর তরী।

উপজেলা পর্যায়ে স্বল্প খরচে প্রতীবন্ধী রোগী সহ নানা রোগের চিকিৎসা সেবা দিতে উপস্থিত এ ‘ইমপ্যাক্ট জীবনতরী’ ভাসমান হাসপাতালের দুয়ার  রোগীদের  একটি আশীর্বাদ স্বরূপ।

আজ সোমবার(৩অক্টেম্বর) বিকালে এ হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেবা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ লাইন।

আলাপ কালে জানাগেছে, প্রতিদিন ভোর ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সেবা নিতে আসা রোগীদের বসার জন্য হাসপাতালের পক্ষ থেকে নদীর পাড়ে ভাসমান অস্থায়ী ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রয়েছে টিকিট কাউন্টার। কাউন্টারে ৫০ টাকা দিয়ে টিকেট কেটে সিরিয়াল করে রোগী দেখা হয়। সেবা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে নারী রোগীর সংখ্যাই বেশি।

গতকাল রবিবার বিকালে সেবা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে চোখের রোগী মো. বিল্লাল হোসেন (২৮) সাইয়ো বেগম (৩৮) জানান, ডাঃ মো. মনিরুল ইসলাম তাদের চোখের পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে ঐ হাসপাতাল থেকে কিছু ঔষধ দেয়া হয়েছে।

এখানের ডাক্তার এবং নার্সের কর্তব্যপরায়নতা দেখে তারা খুব খুশি। ঐ হাসপাতালের ম্যাডিকেল অফিসার ডা: মো. মনিরুল ইসলাম জানান, সেবা নিতে আসা রোগীদের সর্বাত্মক যত্ন সহকারে সেবা প্রদান করার চেষ্টা করি।

আমাদের এখানে ৪জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, ৪জন বিশেষজ্ঞ নার্স এবং টেকনোলজিষ্টসহ ৩৫জনের একটি টিম সার্বক্ষনিক কাজ করে থাকেন।

ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম জানান, এই ভাসমান হাসপাতালটি এখানে আসায় তৃণমূল পর্যায়ের কম আয়ের মানুষের বিশেষ উপকার হয়েছে। প্রতিদিনই প্রচুর লোক বিভিন্ন ধরনের সেবা নিতে এখানে আসেন।

তবে হাসপাতালের ডাক্তার বা নার্স ছাড়াও যারা সেবা প্রদানে নিয়োজিত তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালের প্রশাসক মো. আলাউদ্দিন জানান, ১অক্টোবর তাদের সেবা প্রদানের ১মাস পুর্তী হল। এই এক মাসে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ৩হাজার ৬৬৫ জন রোগীকে সেবা প্রদান করা হয়েছে।

এর মধ্যে চোখের সানি অপারেশন করা হয়েছে ৩৫ জনের, চোখের পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৭৪ জনের এবং চোখের অন্যান্য সমস্যায় ২ হাজার ১০৫জন রোগীর সেবা প্রদান করা হয়েছে।

এ ছাড়া নাক, কান, গলা বিষয়ে ৭৬৫ জন, অর্থপেডিক বিষয়ে ৭৯৫ জন সহ গত ১ মাসে মোট ৩হাজার ৬৬৫জন রোগীকে সেবা প্রদান করা হয়।

রোগীর সংখ্যা অনুযায়ী অনেক সময় সকাল থেকে শুরু করে বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে রোগী দেখার পালা।

এ ছাড়াও এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা এখানে চলবে রোগীদের ব্যবস্থা পত্র। বিষেশ করে প্রতীবন্ধী রোগীর বাইরে অবস্থা ভেদে নাক, কান, গলা অপারেশন, হাড়ভাঙা, কানের ছিদ্র জোড়া লাগানো, ক্লাব ফুট (মুগুর পা), চোখের ছানি অপারেশন, এবং ঠোঁট কাটা রোগীদের ভাসমান হাসপাতালে ভর্তি করে স্বল্পমূল্যে টেস্টের পরে রির্পোট অনুযায়ী কিছু ফ্রি ঔষধ সহ ব্যবস্থা পত্র দেওয়া হয়।

হাসপাতালের প্রশাসক মো. আলাউদ্দিন আরো জানান, ১৯৯৯ সালে দেশের নদী অববাহিকা এলাকার দরিদ্র,অতিদরিদ্র রোগীদের স্বল্মমূল্যে বেসা প্রদানের লক্ষ্যে এটি চালু করা হয়।

সে থেকে এ পর্যন্ত ৫৪টি স্পটে এ জীবনতরী ভাসমান হাসপাতাল অগনিত মানুষের সেবা প্রদান করে আসছে। ২০০৪সালে এই ভান্ডারিয়ায়ও তারা সেবা প্রদান করে গেছেন।

দীর্ঘ ১৮ বছর পর পুনঃরায় ফের ভান্ডারিয়া সহ পার্শবর্তী উপজেলার মানুষের সেবা প্রদানের জন্য ৩০আগষ্ট মঙ্গলবার এখানে নোঙ্গর করেছেন।

তিনি আরো জানান, এ হাসপাতালে সব শ্রেনী পেশার মানুষ স্বল্প খরচে চিকিৎসা সেবা নিতে পারে সে দাবীতে তারা এখানে আসছেন।

তারা আরো জানান এখানে চক্ষু, নাক-কান-গলা, অর্থপেডিকসসহ বাকা হাত-পা সোজা করার চিকিৎসা দেওয়া হয়।

জটিল রোগী হলে বা অপারেশনের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে রেফার করা হয়।

তাছাড়া, হাসপাতালে জটিল রোগী আনা নেওয়ার জন্য নদী পথে স্পীড বোট ও সড়ক পথে এম্বুলেন্স সার্বক্ষনিক প্রস্তুুত রাখা হয়েছে।

এ উপজেলা ছাড়াও পাশ্ববর্তী কাছাকাছি উপজেলা অঞ্চলের মানুষের আহ্বানে তারা রোগীদের দুয়ারে চিকিৎসা দিতে আসছেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!