ঢাকা ০৩:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

বার্সেলোনার অপ্রতিরোধ্য গোলবন্যা: ১১ ম্যাচে ৪৮ গোল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৪:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হান্সি ফ্লিকের অধীনে বার্সেলোনা যেন গোল করার নেশায় মেতেছে। লা লিগায় টানা জয়ের ধারা বজায় রেখে শিরোপা জয়ের মিশনে থাকা কাতালানরা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করছে। লিগের প্রথম ৯ ম্যাচে তারা শতভাগ জয় পেয়েছে এবং প্রতিপক্ষের জালে ৩৯ বার বল জড়িয়েছে, যেখানে লিগের দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলের গোলসংখ্যা মাত্র ১৯। রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ৫–২ গোলের সাম্প্রতিক জয়টি তাদের এই অপ্রতিরোধ্য ফর্মেরই প্রতিফলন। হান্সি ফ্লিকের কথা শুনলে মনে হতে পারে অর্জনটা বিশেষ কিছু নয়। তা-ও যেনতেন জয় নয়, এ সময়ে প্রতিপক্ষের জালে ৩৯ বার বল পাঠিয়েছে তাঁর দল। কাল রাতে বেতিসের মাঠে গিয়ে ফ্লিকের দল জিতেছে ৫–২ গোলে। এমন গোলবন্যা আর টানা জয় নিয়ে ম্যাচ শেষে জিজ্ঞেস করা হলে বার্সেলোনা কোচের জবাবে ছিল প্রায় নির্লিপ্ত ভাব, ‘ভালো। কিন্তু সমর্থকদের মনে থেকে যায় জয়টা কীভাবে এসেছে সেই রেশও। উত্তর মিলতে পারে হয়তো আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পরিসংখ্যানটি আরও চমকপ্রদ।

চ্যাম্পিয়নস লিগের দুই ম্যাচে ৯ গোলসহ মোট ১১ ম্যাচেই বার্সেলোনার গোলসংখ্যা ৪৮। এর অর্থ দাঁড়ায়, ম্যাচপ্রতি তাদের গোলগড় ৪.৩৬। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচটি লিগের কোনো দলই বর্তমানে গোল করার দিক থেকে বার্সেলোনার ধারেকাছে নেই। ১০ ম্যাচে ৩৬ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে বায়ার্ন মিউনিখ, আর ১০ ম্যাচে ২৯ গোল করে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফ্রেইবুর্গ ও ব্রাইটন। অর্থাৎ, বার্সেলোনা গোলবন্যার বিচারে ইউরোপের ফুটবলে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখাচ্ছে। ১১ ম্যাচে ২৮ গোল নিয়ে পঞ্চম ম্যানচেস্টার সিটি। সেভিয়ারও ১১ জন আলাদা গোলদাতা আছেন। বার্সেলোনার গোলবন্যার আরেকটি দিকও চোখে পড়ার মতো।

এই গোলবন্যার একটি বড় কারণ আক্রমণের বৈচিত্র্য। লা লিগায় এখন পর্যন্ত বার্সেলোনার ১১ জন ভিন্ন খেলোয়াড় গোল করেছেন, যা ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। অর্থাৎ, যেকোনো একজনকে আটকে বার্সেলোনাকে থামানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মৌসুমে খেলা ১১ ম্যাচের অর্ধেকেরও বেশি ক্ষেত্রে তারা কমপক্ষে ৫ গোল করেছে। অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে দুই গোল ছিল এখন পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে কম স্কোর। বার্সেলোনার এই গোলমেশিন হয়ে ওঠার সর্বশেষ প্রদর্শনী দেখা গেল রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে। শুধু স্প্যানিশ ফুটবল নয়, ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের দলগুলোর মধ্যে এটি সর্বোচ্চ। ১১ ম্যাচের ৬টিতেই অন্তত ৫ গোল করেছে দলটি। শুধু গোলের সংখ্যা নয়, গোলদাতার বৈচিত্র্যও বার্সেলোনার আক্রমণভাগের শক্তির পরিচয় দিচ্ছে। অর্থাৎ বার্সেলোনাকে আটকাতে হলে শুধু একজন বা দুজন খেলোয়াড়কে নিষ্ক্রিয় রাখলেই চলছে না; একাধিক জায়গা থেকে গোল করার সামর্থ্য দেখিয়েছে দলটি। বার্সেলোনার নিজেরও ২০১৬–১৭ মৌসুমে লিগে ১১৬ গোল করার নজির আছে।

কোচ হান্সি ফ্লিক অবশ্য গোলবন্যার চেয়ে ট্রফি জয়ের দিকেই বেশি মনোযোগী। তিনি জানান, তারা ট্রফির জন্যই খেলছেন এবং এর চেয়েও বড় অর্জনের লক্ষ্য তাদের রয়েছে। ফ্লিক-বাহিনীর এই ছন্দ তাদের ক্লাবের ইতিহাসের সেরা কিছু রেকর্ডের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ২০১১–১২ মৌসুমে লিওনেল মেসির ৭৩ গোলের বছরে ৬৪ ম্যাচে তারা সর্বোচ্চ ১৯০ গোল করেছিল। এবার ১১ ম্যাচেই ৪৮ গোল করে বার্সেলোনা সেই রেকর্ডের দিকে চার ভাগের এক ভাগ পথ এগিয়ে গেছে। ইউরোপের বড় লিগগুলোর ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় শীর্ষে তুরিনোর ১৯৪৭–৪৮ মৌসুমের ১২৫ গোল। এরপর রিয়াল মাদ্রিদ ২০১১–১২ মৌসুমে ১২১ এবং ২০১৪–১৫ মৌসুমে ১১৮ গোল করেছিল। মৌসুমের অনেকটা পথ এখনো বাকি, সামনে কঠিন প্রতিপক্ষও আসবে।

এখন পর্যন্ত ফর্ম অনুযায়ী, ৫৮ বছর আগে রিয়াল মাদ্রিদের গড়া কীর্তি ‘নয়ে নয়’ স্পর্শ করে তারা নতুন ইতিহাস গড়ার পথে। তবে সামনেই আসছে আসল পরীক্ষা। আগামী মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির মাঠে খেলার পর ২৫ অক্টোবর ঘরের মাঠে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা। এই দুই বড় ম্যাচের পর স্পষ্ট হবে এই বার্সেলোনাকে থামানোর সাধ্য আসলে কার আছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বার্সেলোনার অপ্রতিরোধ্য গোলবন্যা: ১১ ম্যাচে ৪৮ গোল

আপডেট সময় : ০২:৩৪:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

হান্সি ফ্লিকের অধীনে বার্সেলোনা যেন গোল করার নেশায় মেতেছে। লা লিগায় টানা জয়ের ধারা বজায় রেখে শিরোপা জয়ের মিশনে থাকা কাতালানরা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করছে। লিগের প্রথম ৯ ম্যাচে তারা শতভাগ জয় পেয়েছে এবং প্রতিপক্ষের জালে ৩৯ বার বল জড়িয়েছে, যেখানে লিগের দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলের গোলসংখ্যা মাত্র ১৯। রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ৫–২ গোলের সাম্প্রতিক জয়টি তাদের এই অপ্রতিরোধ্য ফর্মেরই প্রতিফলন। হান্সি ফ্লিকের কথা শুনলে মনে হতে পারে অর্জনটা বিশেষ কিছু নয়। তা-ও যেনতেন জয় নয়, এ সময়ে প্রতিপক্ষের জালে ৩৯ বার বল পাঠিয়েছে তাঁর দল। কাল রাতে বেতিসের মাঠে গিয়ে ফ্লিকের দল জিতেছে ৫–২ গোলে। এমন গোলবন্যা আর টানা জয় নিয়ে ম্যাচ শেষে জিজ্ঞেস করা হলে বার্সেলোনা কোচের জবাবে ছিল প্রায় নির্লিপ্ত ভাব, ‘ভালো। কিন্তু সমর্থকদের মনে থেকে যায় জয়টা কীভাবে এসেছে সেই রেশও। উত্তর মিলতে পারে হয়তো আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পরিসংখ্যানটি আরও চমকপ্রদ।

চ্যাম্পিয়নস লিগের দুই ম্যাচে ৯ গোলসহ মোট ১১ ম্যাচেই বার্সেলোনার গোলসংখ্যা ৪৮। এর অর্থ দাঁড়ায়, ম্যাচপ্রতি তাদের গোলগড় ৪.৩৬। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচটি লিগের কোনো দলই বর্তমানে গোল করার দিক থেকে বার্সেলোনার ধারেকাছে নেই। ১০ ম্যাচে ৩৬ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে বায়ার্ন মিউনিখ, আর ১০ ম্যাচে ২৯ গোল করে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফ্রেইবুর্গ ও ব্রাইটন। অর্থাৎ, বার্সেলোনা গোলবন্যার বিচারে ইউরোপের ফুটবলে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখাচ্ছে। ১১ ম্যাচে ২৮ গোল নিয়ে পঞ্চম ম্যানচেস্টার সিটি। সেভিয়ারও ১১ জন আলাদা গোলদাতা আছেন। বার্সেলোনার গোলবন্যার আরেকটি দিকও চোখে পড়ার মতো।

এই গোলবন্যার একটি বড় কারণ আক্রমণের বৈচিত্র্য। লা লিগায় এখন পর্যন্ত বার্সেলোনার ১১ জন ভিন্ন খেলোয়াড় গোল করেছেন, যা ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। অর্থাৎ, যেকোনো একজনকে আটকে বার্সেলোনাকে থামানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মৌসুমে খেলা ১১ ম্যাচের অর্ধেকেরও বেশি ক্ষেত্রে তারা কমপক্ষে ৫ গোল করেছে। অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে দুই গোল ছিল এখন পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে কম স্কোর। বার্সেলোনার এই গোলমেশিন হয়ে ওঠার সর্বশেষ প্রদর্শনী দেখা গেল রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে। শুধু স্প্যানিশ ফুটবল নয়, ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের দলগুলোর মধ্যে এটি সর্বোচ্চ। ১১ ম্যাচের ৬টিতেই অন্তত ৫ গোল করেছে দলটি। শুধু গোলের সংখ্যা নয়, গোলদাতার বৈচিত্র্যও বার্সেলোনার আক্রমণভাগের শক্তির পরিচয় দিচ্ছে। অর্থাৎ বার্সেলোনাকে আটকাতে হলে শুধু একজন বা দুজন খেলোয়াড়কে নিষ্ক্রিয় রাখলেই চলছে না; একাধিক জায়গা থেকে গোল করার সামর্থ্য দেখিয়েছে দলটি। বার্সেলোনার নিজেরও ২০১৬–১৭ মৌসুমে লিগে ১১৬ গোল করার নজির আছে।

কোচ হান্সি ফ্লিক অবশ্য গোলবন্যার চেয়ে ট্রফি জয়ের দিকেই বেশি মনোযোগী। তিনি জানান, তারা ট্রফির জন্যই খেলছেন এবং এর চেয়েও বড় অর্জনের লক্ষ্য তাদের রয়েছে। ফ্লিক-বাহিনীর এই ছন্দ তাদের ক্লাবের ইতিহাসের সেরা কিছু রেকর্ডের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ২০১১–১২ মৌসুমে লিওনেল মেসির ৭৩ গোলের বছরে ৬৪ ম্যাচে তারা সর্বোচ্চ ১৯০ গোল করেছিল। এবার ১১ ম্যাচেই ৪৮ গোল করে বার্সেলোনা সেই রেকর্ডের দিকে চার ভাগের এক ভাগ পথ এগিয়ে গেছে। ইউরোপের বড় লিগগুলোর ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় শীর্ষে তুরিনোর ১৯৪৭–৪৮ মৌসুমের ১২৫ গোল। এরপর রিয়াল মাদ্রিদ ২০১১–১২ মৌসুমে ১২১ এবং ২০১৪–১৫ মৌসুমে ১১৮ গোল করেছিল। মৌসুমের অনেকটা পথ এখনো বাকি, সামনে কঠিন প্রতিপক্ষও আসবে।

এখন পর্যন্ত ফর্ম অনুযায়ী, ৫৮ বছর আগে রিয়াল মাদ্রিদের গড়া কীর্তি ‘নয়ে নয়’ স্পর্শ করে তারা নতুন ইতিহাস গড়ার পথে। তবে সামনেই আসছে আসল পরীক্ষা। আগামী মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির মাঠে খেলার পর ২৫ অক্টোবর ঘরের মাঠে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা। এই দুই বড় ম্যাচের পর স্পষ্ট হবে এই বার্সেলোনাকে থামানোর সাধ্য আসলে কার আছে।

Facebook Comments Box