ঢাকা ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের কাছে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। ২৭২ রানের জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৩.৪ ওভারে ১৭২ রানে গুটিয়ে যায় টাইগারদের ইনিংস। ম্যাচে ফেরার ক্ষীণ আশা দেখালেও শেষ পর্যন্ত হারের তিক্ত স্বাদ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাওহিদ হৃদয়ের দলকে। জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডারকে দাঁড়াতেই দেন নি তাসকিন। ২৭২ রানের লক্ষ্য ওয়ানডেতে অসম্ভব কিছু নয়।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের বোলারদের জন্য স্বপ্নের মতো ছিল। শুরুটা দেখে শেষটা বোঝার উপায় ছিল না।

তাসকিন আহমেদের তোপে পড়ে ২৪ রান তুলতেই জিম্বাবুয়ে হারিয়েছিল ৩টি উইকেট। ব্রায়ান বেনেট, বেন কারান এবং তাফাদজওয়া টিসিগা দ্রুত বিদায় নিলে চাপে পড়ে সিকান্দার রাজার দল। তবে এরপরই ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিনের ১৫০ রানের জুটি ম্যাচের পুরো চিত্র পাল্টে দেয়। টেলর ১০১ বলে ৮১ রান এবং আরভিন ১০৬ বলে ৯৩ রান করেন। শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রানের সংগ্রহ পায়। তাসকিন আহমেদ ৪৪ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া সাইফ হাসান ও শরীফুল ইসলাম ২টি করে এবং রিশাদ হোসেন ১টি উইকেট লাভ করেন। রিশাদ ৯ ওভারে ৬৬ রান দিয়ে দলের সবচেয়ে খরুচে বোলার ছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজেদের হাতে নেয় জিম্বাবুয়ে। দুজনের দৃঢ়তায় প্রাথমিক বিপর্যয় সামলে নেয় জিম্বাবুয়ে। পরের ওভারেই সিকান্দার রাজাকেও ফেরান তিনি। তবে ততক্ষণে ঘুরে দাঁড়ানোর ভিত পেয়ে গেছে জিম্বাবুয়ে।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকার দ্রুত ৪৭ রান তুলে দারুণ শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হন পরবর্তী ব্যাটাররা। তাওহিদ হৃদয়, নাজমুল হোসেন শান্ত এবং মোসাদ্দেক হোসেনরা ইনিংসের হাল ধরতে পারেননি। এক পর্যায়ে মাত্র ১১৩ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ ম্যাচ থেকে অনেকটা ছিটকে পড়ে। ব্যাটারদের ভুল শট নির্বাচন এবং দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ে হারের পথ প্রশস্ত হয়। ইনিংসের শেষ দিকে রিশাদ ও তাসকিন ২৬ বলে ৩৬ রান যোগ করে হারের ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও তা যথেষ্ট ছিল না। বল হাতে তাসকিন আহমেদের বিষাক্ত স্পেল, ব্যাট হাতে তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকারের ঝোড়ো সূচনা। দুই ইনিংসের শুরুতেই সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। তিনজনকেই ফিরিয়ে বাংলাদেশের জন্য দারুণ সম্ভাবনা তৈরি করেন এই পেসার। একসময় ১২ ওভারে ১১৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তাঁদের জুটি ভাঙতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে অনেকটা সময়। মাঝের ওভারগুলোতে দায়িত্ব নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার কথা যাঁদের, তাঁদের কেউই পারেননি।

জিম্বাবুয়ের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে টিকতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। সফরকারীদের হয়ে ব্র্যাড ইভান্স একাই ৪টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া অধিনায়ক সিকান্দার রাজা নিয়েছেন ২ উইকেট। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে ফলাফলে রূপ দিতে পারেনি দল। কিন্তু সেই উড়ন্ত সূচনার পরই যেন পথ হারায় বাংলাদেশের ব্যাটিং। কয়েকজন ব্যাটসম্যান এলবিডব্লু হয়ে ফিরেছেন, কেউ উইকেট দিয়েছেন নিজের ভুলে।

লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে নেতৃত্বভার পাওয়া তাওহিদ হৃদয়ের জন্য প্রথম ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। আগামী ২১ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ফাইনালে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখতে ওই ম্যাচে জয় পাওয়ার পাশাপাশি রানরেটের সমীকরণও মাথায় রাখতে হবে টাইগারদের।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের কাছে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০৭:৪৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। ২৭২ রানের জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৩.৪ ওভারে ১৭২ রানে গুটিয়ে যায় টাইগারদের ইনিংস। ম্যাচে ফেরার ক্ষীণ আশা দেখালেও শেষ পর্যন্ত হারের তিক্ত স্বাদ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাওহিদ হৃদয়ের দলকে। জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডারকে দাঁড়াতেই দেন নি তাসকিন। ২৭২ রানের লক্ষ্য ওয়ানডেতে অসম্ভব কিছু নয়।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের বোলারদের জন্য স্বপ্নের মতো ছিল। শুরুটা দেখে শেষটা বোঝার উপায় ছিল না।

তাসকিন আহমেদের তোপে পড়ে ২৪ রান তুলতেই জিম্বাবুয়ে হারিয়েছিল ৩টি উইকেট। ব্রায়ান বেনেট, বেন কারান এবং তাফাদজওয়া টিসিগা দ্রুত বিদায় নিলে চাপে পড়ে সিকান্দার রাজার দল। তবে এরপরই ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিনের ১৫০ রানের জুটি ম্যাচের পুরো চিত্র পাল্টে দেয়। টেলর ১০১ বলে ৮১ রান এবং আরভিন ১০৬ বলে ৯৩ রান করেন। শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রানের সংগ্রহ পায়। তাসকিন আহমেদ ৪৪ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া সাইফ হাসান ও শরীফুল ইসলাম ২টি করে এবং রিশাদ হোসেন ১টি উইকেট লাভ করেন। রিশাদ ৯ ওভারে ৬৬ রান দিয়ে দলের সবচেয়ে খরুচে বোলার ছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজেদের হাতে নেয় জিম্বাবুয়ে। দুজনের দৃঢ়তায় প্রাথমিক বিপর্যয় সামলে নেয় জিম্বাবুয়ে। পরের ওভারেই সিকান্দার রাজাকেও ফেরান তিনি। তবে ততক্ষণে ঘুরে দাঁড়ানোর ভিত পেয়ে গেছে জিম্বাবুয়ে।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকার দ্রুত ৪৭ রান তুলে দারুণ শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হন পরবর্তী ব্যাটাররা। তাওহিদ হৃদয়, নাজমুল হোসেন শান্ত এবং মোসাদ্দেক হোসেনরা ইনিংসের হাল ধরতে পারেননি। এক পর্যায়ে মাত্র ১১৩ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ ম্যাচ থেকে অনেকটা ছিটকে পড়ে। ব্যাটারদের ভুল শট নির্বাচন এবং দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ে হারের পথ প্রশস্ত হয়। ইনিংসের শেষ দিকে রিশাদ ও তাসকিন ২৬ বলে ৩৬ রান যোগ করে হারের ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও তা যথেষ্ট ছিল না। বল হাতে তাসকিন আহমেদের বিষাক্ত স্পেল, ব্যাট হাতে তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকারের ঝোড়ো সূচনা। দুই ইনিংসের শুরুতেই সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। তিনজনকেই ফিরিয়ে বাংলাদেশের জন্য দারুণ সম্ভাবনা তৈরি করেন এই পেসার। একসময় ১২ ওভারে ১১৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তাঁদের জুটি ভাঙতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে অনেকটা সময়। মাঝের ওভারগুলোতে দায়িত্ব নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার কথা যাঁদের, তাঁদের কেউই পারেননি।

জিম্বাবুয়ের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে টিকতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। সফরকারীদের হয়ে ব্র্যাড ইভান্স একাই ৪টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া অধিনায়ক সিকান্দার রাজা নিয়েছেন ২ উইকেট। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে ফলাফলে রূপ দিতে পারেনি দল। কিন্তু সেই উড়ন্ত সূচনার পরই যেন পথ হারায় বাংলাদেশের ব্যাটিং। কয়েকজন ব্যাটসম্যান এলবিডব্লু হয়ে ফিরেছেন, কেউ উইকেট দিয়েছেন নিজের ভুলে।

লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে নেতৃত্বভার পাওয়া তাওহিদ হৃদয়ের জন্য প্রথম ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। আগামী ২১ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ফাইনালে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখতে ওই ম্যাচে জয় পাওয়ার পাশাপাশি রানরেটের সমীকরণও মাথায় রাখতে হবে টাইগারদের।

Facebook Comments Box