সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক করতে সরকার কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১১:২৪:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
সেনাবাহিনীর মূল শক্তি কেবল অস্ত্রশস্ত্র কিংবা জনবলে সীমাবদ্ধ থাকে না। শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নৈতিকতা, মানসম্মত প্রশিক্ষণ এবং দেশবাসীর আস্থার ওপরই একটি বাহিনীর ভিত্তি গড়ে ওঠে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীকে অধিকতর দক্ষ, পেশাদার, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ চলমান রয়েছে। সাভার সেনানিবাসে রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দানকালে তিনি এসব কথা বলেন। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সৈনিক সংবিধান, আইন, সামরিক বিধিবিধান এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকবেন, এটাই জনগণের প্রত্যাশা।
নবম পদাতিক ডিভিশনের পরিচালনায় সাভার সেনানিবাসের এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাতটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়। সম্মানজনক এ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ইউনিটগুলো হলো ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় পতাকা কেবল প্রদর্শনীর উপকরণ নয়, এটি সংশ্লিষ্ট ইউনিটের বীরত্ব, ঐতিহ্য, সুশাসন ও গভীর দেশপ্রেমের প্রতীক। এ পতাকার সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা ও শহীদের রক্ত জড়িয়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি অর্জিত সুনামের মান বজায় রাখার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী পতাকা অর্জনকারী ইউনিটগুলোকে এ গৌরবময় স্বীকৃতির মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান জানান।
মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা স্মরণ করে সরকারপ্রধান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গেই সেনাবাহিনীর ইতিহাস ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যার মুখে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সেনারা প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। সেই বীরত্বপূর্ণ ঐতিহ্যের পথ ধরে বর্তমান সেনা সদস্যদেরও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার তাগিদ দেন তিনি।
বর্তমান বিশ্বের নিরপত্তা ব্যবস্থার দ্রুত পরিবর্তন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক যুদ্ধের কৌশল ও ধরন প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে। জমি, জল ও আকাশের পাশাপাশি এখন সাইবার স্পেস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন প্রযুক্তি, মহাকাশ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ও তথ্যের ব্যবহার সামরিক নিরাপত্তার প্রধান উপাদান হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের সার্বিক প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে। এ বাস্তবতায় সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে অভ্যন্তরীণভাবে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম তৈরির লক্ষ্যে দেশে প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, প্রযুক্তি কোনো অবস্থাতেই মানুষের বিকল্প হতে পারে না; তাই প্রযুক্তির পাশাপাশি সেনাসদস্যদের বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ ও পেশাদারিত্ব বাড়ানো সমান জরুরি। এ ছাড়া যেকোনো জাতীয় সংকট বা দরকারে তিন বাহিনী যেন একযোগে কাজ করতে পারে, সে জন্য সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বিত সক্ষমতা বৃদ্ধির তাগিদ দেন তিনি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, অগ্নিকাণ্ড ও বিভিন্ন জরুরি উদ্ধারকাজে সেনাসদস্যদের প্রশংসনীয় ভূমিকার পাশাপাশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বহির্বিশ্বে দেশের সুনাম বৃদ্ধির কথা অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর সুযোগ-সুবিধা প্রসারে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, তাদের আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা ও ক্যারিয়ার উন্নয়নের বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে জাতীয় পে স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ‘ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’ চালুর বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, তাদের আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
উক্ত পতাকা প্রদান কুচকাওয়াজ ও সুধী সমাবেশে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সেনাপ্রধান, নৌপ্রধান, সংসদ সদস্যগণ, সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: দৈনিক এদিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ






















