ঢাকা ০১:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিসি জাহিদ: শুধু বই পড়ালেই প্রকৃত শিক্ষক হওয়া যায়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৬:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রামে নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময়কালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, প্রকৃত শিক্ষক হতে হলে শুধু পাঠ্যবই পড়ানো বা পড়া নেওয়ার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তার মতে, শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা পদমর্যাদা দিয়ে আদায় করা যায় না, বরং তা অর্জন করতে হয় নিজের জ্ঞান, যোগ্যতা ও আদর্শ আচরণ দিয়ে। তিনি বলেন, বই এখন ইন্টারনেটেও পাওয়া যায়, তাই শিক্ষকের মূল সার্থকতা নিহিত থাকে শিক্ষার্থীদের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠার মধ্যে। আপনি শুধু যদি বই পড়ান আর বইয়ের পড়া নেন, তাহলে প্রকৃত শিক্ষক হিসেবে আপনি সার্থক হলেন কি না, সেটি বলা যায় না। শিক্ষার্থীরা যখন একজন শিক্ষকের জ্ঞান, মেধা ও আচরণকে সম্মান করবে এবং তাঁকে অনুসরণ করবে, তখনই তাঁর শিক্ষকতা সার্থক হবে। শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে হবে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর, শনিবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক জানান, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা ও মেধা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ করে পদায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে লটারির পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, নির্বাচনের মতো ব্যস্ততার মধ্যেও এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ আন্তরিকতা বজায় রাখা হয়েছিল। ১৭ সেপ্টেম্বর, শনিবার চট্টগ্রামে নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক।

শিক্ষার্থীদের ভয়ের পরিবেশ থেকে বের করে নিয়ে এসে শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ভয়ের মাধ্যমে প্রকৃত শিক্ষা সম্ভব নয়। এছাড়া ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক শিক্ষকের বিদায় নেওয়ার ঘটনাকে তিনি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন। শিক্ষকদের এখন নিজেদের যোগ্যতা ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনরায় অর্জন করতে হবে। শিক্ষকদের মর্যাদা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অনেক শিক্ষককে চলে যেতে হয়েছে। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখা কঠিন হবে। নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শিক্ষার বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ থাকলেও দেশপ্রেম, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং দেশের ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে সেই শিক্ষার সুফল দেশ পাবে না। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তির সহায়তায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানছে, তাই শিক্ষকদেরও নিয়মিত নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা হালনাগাদ করার পরামর্শ দেন তিনি।

কর্মক্ষেত্রের সীমাবদ্ধতাকে অজুহাত না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, রাষ্ট্রকে আমরা কী দিলাম আর নাগরিক হিসেবে কী সেবা নিলাম, এই প্রশ্ন সবসময় নিজেকে করতে হবে। মানবিক ও নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকাকে অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল নির্দেশ দিয়ে কাউকে মানবিক করা সম্ভব নয়; বরং শিক্ষকের নিজের জীবন ও আচরণের মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ডিসি জাহিদ: শুধু বই পড়ালেই প্রকৃত শিক্ষক হওয়া যায়

আপডেট সময় : ১২:২৬:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামে নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময়কালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, প্রকৃত শিক্ষক হতে হলে শুধু পাঠ্যবই পড়ানো বা পড়া নেওয়ার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তার মতে, শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা পদমর্যাদা দিয়ে আদায় করা যায় না, বরং তা অর্জন করতে হয় নিজের জ্ঞান, যোগ্যতা ও আদর্শ আচরণ দিয়ে। তিনি বলেন, বই এখন ইন্টারনেটেও পাওয়া যায়, তাই শিক্ষকের মূল সার্থকতা নিহিত থাকে শিক্ষার্থীদের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠার মধ্যে। আপনি শুধু যদি বই পড়ান আর বইয়ের পড়া নেন, তাহলে প্রকৃত শিক্ষক হিসেবে আপনি সার্থক হলেন কি না, সেটি বলা যায় না। শিক্ষার্থীরা যখন একজন শিক্ষকের জ্ঞান, মেধা ও আচরণকে সম্মান করবে এবং তাঁকে অনুসরণ করবে, তখনই তাঁর শিক্ষকতা সার্থক হবে। শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে হবে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর, শনিবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক জানান, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা ও মেধা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ করে পদায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে লটারির পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, নির্বাচনের মতো ব্যস্ততার মধ্যেও এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ আন্তরিকতা বজায় রাখা হয়েছিল। ১৭ সেপ্টেম্বর, শনিবার চট্টগ্রামে নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক।

শিক্ষার্থীদের ভয়ের পরিবেশ থেকে বের করে নিয়ে এসে শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ভয়ের মাধ্যমে প্রকৃত শিক্ষা সম্ভব নয়। এছাড়া ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক শিক্ষকের বিদায় নেওয়ার ঘটনাকে তিনি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন। শিক্ষকদের এখন নিজেদের যোগ্যতা ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনরায় অর্জন করতে হবে। শিক্ষকদের মর্যাদা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অনেক শিক্ষককে চলে যেতে হয়েছে। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখা কঠিন হবে। নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শিক্ষার বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ থাকলেও দেশপ্রেম, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং দেশের ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে সেই শিক্ষার সুফল দেশ পাবে না। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তির সহায়তায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানছে, তাই শিক্ষকদেরও নিয়মিত নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা হালনাগাদ করার পরামর্শ দেন তিনি।

কর্মক্ষেত্রের সীমাবদ্ধতাকে অজুহাত না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, রাষ্ট্রকে আমরা কী দিলাম আর নাগরিক হিসেবে কী সেবা নিলাম, এই প্রশ্ন সবসময় নিজেকে করতে হবে। মানবিক ও নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকাকে অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল নির্দেশ দিয়ে কাউকে মানবিক করা সম্ভব নয়; বরং শিক্ষকের নিজের জীবন ও আচরণের মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।

Facebook Comments Box