ঢাকা ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী জাপান: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সফটওয়্যার প্রোগ্রামার নিয়োগ: আবেদনের সুযোগ ভালুকায় সেলুন ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করে মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ সুন্দরবনে দস্যুদের সাথে বন্দুকযুদ্ধ, জিম্মি থেকে ৫ জেলে উদ্ধার বকেয়া বেতনের দাবিতে চালডাল কর্মীদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুর বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের প্রতি আহ্বান উখিয়ায় নলকূপ খননের সময় অগ্নিকাণ্ড: নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সেনাবাহিনী আইজিপি’র ‘ক্রসফায়ার’ সম্পর্কিত বক্তব্যের অপব্যাখ্যা অপরাধীদের উৎসাহিত করবে সৌদির রাস তানুরা তেল শোধনাগারে হামলার দাবি হুতিদের দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪০০ ছাড়াল

বাগমারা’য় সংযোগ কাটতে বাঁধা দেওয়ায় বিদ্যুৎহীন গাঙ্গোপাড়া বাজার

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:০৪:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২০৭ বার পড়া হয়েছে

বাগমারা'য় সংযোগ কাটতে বাঁধা দেওয়ায় বিদ্যুৎহীন গাঙ্গোপাড়া বাজার

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহী বাগমারা’য় সংযোগ কাটতে বাঁধা দেওয়ায় বিদ্যুৎহীন গাঙ্গোপাড়া বাজার।

উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের গাঙ্গাপাড়া বাজার আলোকায়নের বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করতে বাধা দেয়ার জেরে মামলার আসামি হয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় লোকজন।

গত সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির-১ লোকজন বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করতে গেলে স্থানীয়রা তাদের বাধা দেয়। ওই ঘটনার পর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি- ১ এর সহকারী হিসাব রক্ষক মাসুম রানা বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্ল্যেখ করে অজ্ঞাত ২৮ জনের নামের থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

শুধু মামলা দায়েরই নাই, ওই মামলায় যারা আসামী রয়েছেন তাদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মিটারও খুলে নিয়ে গেছে পল্লী বিদ্যুতের লোকজন। ফলে তারা অন্ধকারে রয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লোকজনের এমন কর্মকান্ডে হতভাগ হয়েছেন এলাকার সচেতন মানুষ।বাগমারা থানায় দায়ের করা মামলা ও এলাকার লোকজন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে গাঙ্গোপাড়া বাজার আলোকিত করণের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক।

সে সময় নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ-১ এর ডিপুটি জেনারেল ম্যানেজারসহ পল্লী বিদ্যুতের উবর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা বাজার আলিকিত করতে চারটি লাইট ও তাতে বিদ্যুত সংযোগ দেয়।

তখন থেকে অদ্যবদি ওই বাজারে আলোকিত হয়ে আসছে পল্লীবিদ্যুৎ বিভাগের দেয়া বিদ্যুৎ সংযোগে। দীর্ঘ নয় বছর পর সেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে আসে তারা।

স্থানীয় এমপি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা এই সংযোগ দিয়ে গেছেন। তাই স্থানীয় লোকজন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বাধা দেয়। বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় যারা জড়িত ছিলেন না তাদের অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশী হয়রানী করা হচ্ছে।

শুধু মামলা দিয়ে নয় বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ থাকার পরেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর লোকজন জোর পূর্বক বেশ কিছু গ্রাহকের বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করে মিটার খুলে নিয়ে গেছে।

এমনকি বাজার সমিতির সভাপতি ফজলুর রহমান ঘটনার সময় না থাকলেও তাকেও মামলা আসামী করা হয়েছে এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ির মিটার খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের পরিবার এখন অন্ধকারের মধ্যে বসবাস করছে।

অবিলম্বে এ বিষয়টি দেখার জন্য স্থানীয় সাংসদসহ বিদ্যুৎ বিভাগ ও সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন শহীদুল ইসলাম। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ডিপুটি জেনারেল ম্যানেজার মিনারুল ইসলাম বলেন, অবৈধ সংযোগ বিছিন্ন করতে গেলে এলাকার লোকজন আমাদের লোকজনকে মারধর করে। যার কারণে ১৩ জনের নামে থানায় একটি মামলা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিছিন্ন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ আইনে বলা আছে যারা ঘটনার সাথে জড়িত থাকবে তাদের বাড়িসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করতে হবে।

এরই ধারাবাহিকতায় ওই সকল ব্যক্তিদের বাড়িসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ বিছিন্ন করা হয়েছে। তবে ঘটনার সাথে জড়িত না থাকলে তদন্তের পর মামলা থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাগমারা’য় সংযোগ কাটতে বাঁধা দেওয়ায় বিদ্যুৎহীন গাঙ্গোপাড়া বাজার

আপডেট সময় : ০৭:০৪:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩

রাজশাহী বাগমারা’য় সংযোগ কাটতে বাঁধা দেওয়ায় বিদ্যুৎহীন গাঙ্গোপাড়া বাজার।

উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের গাঙ্গাপাড়া বাজার আলোকায়নের বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করতে বাধা দেয়ার জেরে মামলার আসামি হয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় লোকজন।

গত সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির-১ লোকজন বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করতে গেলে স্থানীয়রা তাদের বাধা দেয়। ওই ঘটনার পর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি- ১ এর সহকারী হিসাব রক্ষক মাসুম রানা বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্ল্যেখ করে অজ্ঞাত ২৮ জনের নামের থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

শুধু মামলা দায়েরই নাই, ওই মামলায় যারা আসামী রয়েছেন তাদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মিটারও খুলে নিয়ে গেছে পল্লী বিদ্যুতের লোকজন। ফলে তারা অন্ধকারে রয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লোকজনের এমন কর্মকান্ডে হতভাগ হয়েছেন এলাকার সচেতন মানুষ।বাগমারা থানায় দায়ের করা মামলা ও এলাকার লোকজন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে গাঙ্গোপাড়া বাজার আলোকিত করণের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক।

সে সময় নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ-১ এর ডিপুটি জেনারেল ম্যানেজারসহ পল্লী বিদ্যুতের উবর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা বাজার আলিকিত করতে চারটি লাইট ও তাতে বিদ্যুত সংযোগ দেয়।

তখন থেকে অদ্যবদি ওই বাজারে আলোকিত হয়ে আসছে পল্লীবিদ্যুৎ বিভাগের দেয়া বিদ্যুৎ সংযোগে। দীর্ঘ নয় বছর পর সেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে আসে তারা।

স্থানীয় এমপি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা এই সংযোগ দিয়ে গেছেন। তাই স্থানীয় লোকজন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বাধা দেয়। বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় যারা জড়িত ছিলেন না তাদের অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশী হয়রানী করা হচ্ছে।

শুধু মামলা দিয়ে নয় বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ থাকার পরেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর লোকজন জোর পূর্বক বেশ কিছু গ্রাহকের বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করে মিটার খুলে নিয়ে গেছে।

এমনকি বাজার সমিতির সভাপতি ফজলুর রহমান ঘটনার সময় না থাকলেও তাকেও মামলা আসামী করা হয়েছে এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ির মিটার খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের পরিবার এখন অন্ধকারের মধ্যে বসবাস করছে।

অবিলম্বে এ বিষয়টি দেখার জন্য স্থানীয় সাংসদসহ বিদ্যুৎ বিভাগ ও সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন শহীদুল ইসলাম। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ডিপুটি জেনারেল ম্যানেজার মিনারুল ইসলাম বলেন, অবৈধ সংযোগ বিছিন্ন করতে গেলে এলাকার লোকজন আমাদের লোকজনকে মারধর করে। যার কারণে ১৩ জনের নামে থানায় একটি মামলা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিছিন্ন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ আইনে বলা আছে যারা ঘটনার সাথে জড়িত থাকবে তাদের বাড়িসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করতে হবে।

এরই ধারাবাহিকতায় ওই সকল ব্যক্তিদের বাড়িসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ বিছিন্ন করা হয়েছে। তবে ঘটনার সাথে জড়িত না থাকলে তদন্তের পর মামলা থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

 

Facebook Comments Box