ঢাকা ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ফরিদপুরে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ কানায় কানায় মাঠ ভর্তি নেতা কর্মী

সৃষ্টি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৪০:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ নভেম্বর ২০২২ ২২৩ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুরে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ শুরু হয়েছে কানায় কানায় মাঠ ভর্তি নেতা কর্মী

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফরিদপুরে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ শুরু হয়েছে। আজ শনিবার(১২ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে কোমরপুর আবদুল আজিজ ইনস্টিটিউশন মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশের সভাপতিত্ব করছেন ফরিদপুর নগর বিএপির আহ্বায়ক এ এস এম কাইয়ুম। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে কিবরিয়ার সঞ্চালনায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতারা এখন বক্তব্য দিচ্ছেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বেলা ২টার দিকে মঞ্চে উঠবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে আবদুল আজিজ ইনস্টিটিউশন মাঠ পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। সমাবেশস্থলের প্রবেশমুখ থেকে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের ঢল দেখা গেছে। মূলত সকাল থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সমাবেশস্থলের দিকে যেতে শুরু করেন।

সমাবেশস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে মোট চারটি পয়েন্টে পুলিশের তল্লাশিচৌকি দেখা গেছে।

গত কাল সকাল থেকে শহরের রাজবাড়ী রাস্তার মোড়, বদরপুরের মোড়, ভাঙ্গা রাস্তার মোড় ও বাহিরদিয়া সেতু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পুলিশ তল্লাশিচৌকি বসিয়ে যান চলাচলে বাধা দিচ্ছে। এ সময় ইজিবাইক, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ছোট যান থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদেরও নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে চার বছরের মেয়েকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন মনোয়ারা বেগম (৩০)। ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা থেকে মাগুরা যাচ্ছেন তিনি। মনোয়ারা বলেন, বাস বন্ধের পাশাপাশি সড়কে ইজিবাইকও কম। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর তিনি ইজিবাইক নিয়ে রাজবাড়ী রাস্তার মোড় পর্যন্ত এসেছেন। তবে পুলিশ গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়েছে। এখন হেঁটে সামনে এগিয়ে গাড়ি খোঁজার চেষ্টা করবেন।

তল্লাশিচৌকি এলাকায় গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে

পিকআপ ভ্যান, অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেলে আসা নেতা-কর্মীদের এসব তল্লাশিচৌকি এলাকায় গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এরপর সেখান থেকে নেতা-কর্মীরা হেঁটে সমাবেশস্থলে যেতে দেখা গেছে।বালানিতেলসহ দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও দলের পাঁচ নেতা-কর্মী হত্যার প্রতিবাদে; দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীন সংসদ নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি বিভাগীয় শহরে ধারাবাহিক গণসমাবেশ করছে। প্রথমটি হয় গত ১২ অক্টোবর চট্টগ্রামে। এরপর ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর ও বরিশালের পর আজ ফরিদপুরে সমাবেশ হচ্ছে। ফরিদপুরে সমাবেশস্থল পরিপূর্ণ, আশপাশের বাড়ির উঠানে বিএনপির কর্মীরা বিএনপির আগের বিভাগীয় গণসমাবেশগুলোয় দু-তিন দিন আগে থেকেই শত শত নেতা–কর্মী সমাবেশস্থলে জড়ো হন। পরিবহন ধর্মঘটের কারণে বাড়ি থেকে চিড়া-মুড়ি নিয়ে এসে সমাবেশের মাঠেই ঘুমাতে দেখা যায় তাঁদের।

এবার ফরিদপুরের গণসমাবেশ ঘিরে অনেকটা একই চিত্র দেখা গেছে। চাদর, কাঁথা, বিছানা নিয়ে আগেই এসেছেন অনেক নেতা–কর্মী। অনেকে স্থানীয় লোকজনের বাড়ির উঠানে, বারান্দায় রাত কাটাচ্ছেন। ফরিদপুর শহর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে কোমরপুর আবদুল আজিজ ইনস্টিটিউশন মাঠে আজ শনিবার বেলা ১১টায় শুরু হবে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ।

।

মী। অনেকে স্থানীয় লোকজনের বাড়ির উঠানে,

সেই মাঠের পেছনে রাহেলা বেগমের বাড়ি। তাঁর বাড়ির উঠানে শুয়ে ছিলেন এরশাদ হোসেন মনিসহ কয়েকজন। এরশাদ হোসেন এসেছেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার পাটগাতী থেকে। সেখানে ইলেকট্রনিক পণ্যের ছোট একটি ব্যবসা রয়েছে তাঁর। রাতে গণসমাবেশের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মঞ্চে কিছুক্ষণ স্লোগান, কিছু সময় বক্তৃতা আবার সময়–সময় গানবাজনা চলছে। চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর ও বরিশালের গণসমাবেশের যে মেজাজ ছিল, তা ফরিদপুরে এসে অনেকটা উৎসবে রূপ নিয়েছে। মাঠের চারপাশ পাঁচ জেলার নেতাদের ছোট-বড় ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। নানা রঙের টুপি, টি–শার্ট গায়ে কর্মী-সমর্থকেরা সেখানে এসেছেন। এরশাদ হোসেন জানালেন, তাঁদের ১০০ জনের একটি দল গত বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রায় ৮৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সমাবেশস্থলে এসে পৌঁছায়। রাতে মাঠেই ঘুমান। সেখানে খাওয়াদাওয়া করেন।

ণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সমাবেশস্থলের দিকে

গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর মাঠে লোকজন বেড়ে যায়। তাই তিনিসহ কয়েকজন মাঠ থেকে চলে আসেন। রাহেলার বাড়ির উঠানে বিছানা পাতেন। তাঁর মতো অনেকেই কোমরপুরের বিভিন্ন বাড়ির উঠানে, ঘরের বারান্দায় চাদর বা পাতলা কাঁথা পেতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানান এরশাদ হোসেন বিছানাপত্রের বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে এরশাদ হোসেন বলেন, এই বিছানা (তোষক) আমার। এখানে এসে কিনেছি। এক পিস ২০০ টাকা। আর কাঁথা–চাদর বাড়ি থেকে এনেছি। অনেক দূর থেকে এসেছি, তাই সঙ্গে নিয়ে এসেছি।এরশাদ হোসেনের সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল, তখন পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন ওই বাড়ির গৃহকর্ত্রী রাহেলা বেগম। বয়স ৫০ পেরিয়েছে। রাহেলা বেগম ও তাঁর পুত্রবধূ রান্নাঘরে ব্যস্ত সময় পার করছেন। চুলায় চা বসিয়েছেন। গণসমাবেশ ঘিরে বাড়ির সামনে ছোট একটি অস্থায়ী চা–দোকান করেছেন রাহেলার স্বামী ও ছেলে। বাড়ির রান্নাঘর থেকেই সরবরাহ করা হচ্ছে সেই চা। রাহেলা বেগম জানালেন, বাইরে থেকে আসা লোকজন বাড়ির উঠানে এসে থাকছেন বলে তাঁদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
অপরিচিত একজনের বাড়ির উঠানে এভাবে শুয়ে আছেন, তাঁরা কিছু বলেননি? এমন প্রশ্নের জবাবে এরশাদ হোসেন বলেন, এখানে আসার পর আমরা জিজ্ঞেস করেছি, উঠানে বিছানা করে বিশ্রাম নিলে তাঁদের কোনো সমস্যা হবে কি না। তাঁরা বলেছেন, কোনো সমস্যা নেই, আপনারা থাকেন।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রায় ৮৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সমাবেশস্থলে এসে পৌঁছায়। রাতে মাঠেই ঘুমান। সেখানে খাওয়াদাওয়া করেন।

এ কে কিবরিয়া, ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব বলেন, বিএনপি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে সমাবেশ করলে পুরো শহরে এর প্রভাব পড়বে, এটি তারা (আওয়ামী লীগ) দেখতে চায় না। এ জন্য তারা শহরে আমাদের সমাবেশ করতে দেয়নি। আমরাও এটা মেনে নিয়েছি শান্তির খাতিরে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে কিবরিয়া গতকাল  বলেন, ‘বিএনপি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে সমাবেশ করলে পুরো শহরে এর প্রভাব পড়বে, এটি তারা (আওয়ামী লীগ) দেখতে চায় না। এ জন্য তারা শহরে আমাদের সমাবেশ করতে দেয়নি। আমরাও এটা মেনে নিয়েছি শান্তির খাতিরে।’
রাতে গণসমাবেশের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মঞ্চে কিছুক্ষণ স্লোগান, কিছু সময় বক্তৃতা আবার সময়–সময় গানবাজনা চলছে। চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর ও বরিশালের গণসমাবেশের যে মেজাজ ছিল, তা ফরিদপুরে এসে অনেকটা উৎসবে রূপ নিয়েছে। মাঠের চারপাশ পাঁচ জেলার নেতাদের ছোট-বড় ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। নানা রঙের টুপি, টি–শার্ট গায়ে কর্মী-সমর্থকেরা সেখানে এসেছেন।

ফরিদপুরে বিএনপির গণসমাবেশ,সড়কে যানবাহন কম, ভ্যান-ইজিবাইক থেকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে যাত্রীদের ফরিদপুরে বিএনপির গণসমাবেশের আগে গতকাল শুক্রবার সকাল ছয়টা থেকে জেলা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকে আঞ্চলিক বাস, মিনিবাসসহ দূরপাল্লার সব রুটে বাস ধর্মঘট চলছে। এর মধ্যে আজ শনিবার সকাল থেকে ফরিদপুর শহরে যান চলাচল একেবারেই কমে গেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। হাতে গোনা কিছু ভ্যান, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করলেও পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা

 

ফরিদপুর শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে কোমরপুর আবদুল আজিজ ইনস্টিটিউশন মাঠে বিএনপির গণসমাবেশ চলছে। সমাবেশস্থলে যাওয়ার জন্য ভাঙ্গা রাস্তার মোড় ও রাজবাড়ী রাস্তার মোড় অতিক্রম করতে হয়। এ জন্য ওই দুই এলাকায় পুলিশের তৎপরতা বেশি দেখা যাচ্ছে। আবার ফরিদপুর শহরে ঢোকা কিংবা শহর থেকে আশপাশের জেলায় যেতে হলে ওই দুই মোড়ের ব্যবহার করতে হয়। তবে পুলিশের দাবি, সমাবেশস্থলের আশপাশে যানজট ও জনদুর্ভোগ কমাতে এসব এলাকায় যান চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না।কোমরপুর ফিলিং স্টেশনের সামনে তিনজন কৃষি শ্রমিকের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। ওই তিন শ্রমিক ধান কাটার জন্য মাদারীপুরের শিবচরে গিয়েছিলেন। কাজ শেষে তিন শ্রমিকের মধ্যে মো. নাজির কুষ্টিয়া ফিরে যাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে থাকা জাকির ও ইব্রাহীম রাজশাহী যাবেন। তবে বাস না পেয়ে তাঁরা বিপাকে পড়েছেন। ভেঙে ভেঙে ফরিদপুর এসেছেন তাঁরা। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ মোড়ে গেলে বাস পাওয়া যাবে বলে শুনেছেন। এখন ইজিবাইকে রাজবাড়ী যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

যান চলাচলে বাধার বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, সমাবেশস্থলটি মহাসড়কের পাশে। সেখানে যানজটের সৃষ্টি হলে সাধারণ যাত্রীরাও দুর্ভোগে পড়বেন। সমাবেশ নির্বিঘ্ন ও ওই এলাকা যানজটমুক্ত রাখতেই সমাবেশস্থলের আগেই গাড়ি থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সুত্র ও ছবি

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ফরিদপুরে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ কানায় কানায় মাঠ ভর্তি নেতা কর্মী

আপডেট সময় : ০৪:৪০:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ নভেম্বর ২০২২

ফরিদপুরে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ শুরু হয়েছে। আজ শনিবার(১২ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে কোমরপুর আবদুল আজিজ ইনস্টিটিউশন মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশের সভাপতিত্ব করছেন ফরিদপুর নগর বিএপির আহ্বায়ক এ এস এম কাইয়ুম। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে কিবরিয়ার সঞ্চালনায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতারা এখন বক্তব্য দিচ্ছেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বেলা ২টার দিকে মঞ্চে উঠবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে আবদুল আজিজ ইনস্টিটিউশন মাঠ পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। সমাবেশস্থলের প্রবেশমুখ থেকে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের ঢল দেখা গেছে। মূলত সকাল থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সমাবেশস্থলের দিকে যেতে শুরু করেন।

সমাবেশস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে মোট চারটি পয়েন্টে পুলিশের তল্লাশিচৌকি দেখা গেছে।

গত কাল সকাল থেকে শহরের রাজবাড়ী রাস্তার মোড়, বদরপুরের মোড়, ভাঙ্গা রাস্তার মোড় ও বাহিরদিয়া সেতু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পুলিশ তল্লাশিচৌকি বসিয়ে যান চলাচলে বাধা দিচ্ছে। এ সময় ইজিবাইক, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ছোট যান থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদেরও নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে চার বছরের মেয়েকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন মনোয়ারা বেগম (৩০)। ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা থেকে মাগুরা যাচ্ছেন তিনি। মনোয়ারা বলেন, বাস বন্ধের পাশাপাশি সড়কে ইজিবাইকও কম। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর তিনি ইজিবাইক নিয়ে রাজবাড়ী রাস্তার মোড় পর্যন্ত এসেছেন। তবে পুলিশ গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়েছে। এখন হেঁটে সামনে এগিয়ে গাড়ি খোঁজার চেষ্টা করবেন।

তল্লাশিচৌকি এলাকায় গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে

পিকআপ ভ্যান, অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেলে আসা নেতা-কর্মীদের এসব তল্লাশিচৌকি এলাকায় গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এরপর সেখান থেকে নেতা-কর্মীরা হেঁটে সমাবেশস্থলে যেতে দেখা গেছে।বালানিতেলসহ দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও দলের পাঁচ নেতা-কর্মী হত্যার প্রতিবাদে; দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীন সংসদ নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি বিভাগীয় শহরে ধারাবাহিক গণসমাবেশ করছে। প্রথমটি হয় গত ১২ অক্টোবর চট্টগ্রামে। এরপর ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর ও বরিশালের পর আজ ফরিদপুরে সমাবেশ হচ্ছে। ফরিদপুরে সমাবেশস্থল পরিপূর্ণ, আশপাশের বাড়ির উঠানে বিএনপির কর্মীরা বিএনপির আগের বিভাগীয় গণসমাবেশগুলোয় দু-তিন দিন আগে থেকেই শত শত নেতা–কর্মী সমাবেশস্থলে জড়ো হন। পরিবহন ধর্মঘটের কারণে বাড়ি থেকে চিড়া-মুড়ি নিয়ে এসে সমাবেশের মাঠেই ঘুমাতে দেখা যায় তাঁদের।

এবার ফরিদপুরের গণসমাবেশ ঘিরে অনেকটা একই চিত্র দেখা গেছে। চাদর, কাঁথা, বিছানা নিয়ে আগেই এসেছেন অনেক নেতা–কর্মী। অনেকে স্থানীয় লোকজনের বাড়ির উঠানে, বারান্দায় রাত কাটাচ্ছেন। ফরিদপুর শহর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে কোমরপুর আবদুল আজিজ ইনস্টিটিউশন মাঠে আজ শনিবার বেলা ১১টায় শুরু হবে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ।

।

মী। অনেকে স্থানীয় লোকজনের বাড়ির উঠানে,

সেই মাঠের পেছনে রাহেলা বেগমের বাড়ি। তাঁর বাড়ির উঠানে শুয়ে ছিলেন এরশাদ হোসেন মনিসহ কয়েকজন। এরশাদ হোসেন এসেছেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার পাটগাতী থেকে। সেখানে ইলেকট্রনিক পণ্যের ছোট একটি ব্যবসা রয়েছে তাঁর। রাতে গণসমাবেশের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মঞ্চে কিছুক্ষণ স্লোগান, কিছু সময় বক্তৃতা আবার সময়–সময় গানবাজনা চলছে। চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর ও বরিশালের গণসমাবেশের যে মেজাজ ছিল, তা ফরিদপুরে এসে অনেকটা উৎসবে রূপ নিয়েছে। মাঠের চারপাশ পাঁচ জেলার নেতাদের ছোট-বড় ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। নানা রঙের টুপি, টি–শার্ট গায়ে কর্মী-সমর্থকেরা সেখানে এসেছেন। এরশাদ হোসেন জানালেন, তাঁদের ১০০ জনের একটি দল গত বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রায় ৮৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সমাবেশস্থলে এসে পৌঁছায়। রাতে মাঠেই ঘুমান। সেখানে খাওয়াদাওয়া করেন।

ণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সমাবেশস্থলের দিকে

গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর মাঠে লোকজন বেড়ে যায়। তাই তিনিসহ কয়েকজন মাঠ থেকে চলে আসেন। রাহেলার বাড়ির উঠানে বিছানা পাতেন। তাঁর মতো অনেকেই কোমরপুরের বিভিন্ন বাড়ির উঠানে, ঘরের বারান্দায় চাদর বা পাতলা কাঁথা পেতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানান এরশাদ হোসেন বিছানাপত্রের বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে এরশাদ হোসেন বলেন, এই বিছানা (তোষক) আমার। এখানে এসে কিনেছি। এক পিস ২০০ টাকা। আর কাঁথা–চাদর বাড়ি থেকে এনেছি। অনেক দূর থেকে এসেছি, তাই সঙ্গে নিয়ে এসেছি।এরশাদ হোসেনের সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল, তখন পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন ওই বাড়ির গৃহকর্ত্রী রাহেলা বেগম। বয়স ৫০ পেরিয়েছে। রাহেলা বেগম ও তাঁর পুত্রবধূ রান্নাঘরে ব্যস্ত সময় পার করছেন। চুলায় চা বসিয়েছেন। গণসমাবেশ ঘিরে বাড়ির সামনে ছোট একটি অস্থায়ী চা–দোকান করেছেন রাহেলার স্বামী ও ছেলে। বাড়ির রান্নাঘর থেকেই সরবরাহ করা হচ্ছে সেই চা। রাহেলা বেগম জানালেন, বাইরে থেকে আসা লোকজন বাড়ির উঠানে এসে থাকছেন বলে তাঁদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
অপরিচিত একজনের বাড়ির উঠানে এভাবে শুয়ে আছেন, তাঁরা কিছু বলেননি? এমন প্রশ্নের জবাবে এরশাদ হোসেন বলেন, এখানে আসার পর আমরা জিজ্ঞেস করেছি, উঠানে বিছানা করে বিশ্রাম নিলে তাঁদের কোনো সমস্যা হবে কি না। তাঁরা বলেছেন, কোনো সমস্যা নেই, আপনারা থাকেন।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রায় ৮৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সমাবেশস্থলে এসে পৌঁছায়। রাতে মাঠেই ঘুমান। সেখানে খাওয়াদাওয়া করেন।

এ কে কিবরিয়া, ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব বলেন, বিএনপি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে সমাবেশ করলে পুরো শহরে এর প্রভাব পড়বে, এটি তারা (আওয়ামী লীগ) দেখতে চায় না। এ জন্য তারা শহরে আমাদের সমাবেশ করতে দেয়নি। আমরাও এটা মেনে নিয়েছি শান্তির খাতিরে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে কিবরিয়া গতকাল  বলেন, ‘বিএনপি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে সমাবেশ করলে পুরো শহরে এর প্রভাব পড়বে, এটি তারা (আওয়ামী লীগ) দেখতে চায় না। এ জন্য তারা শহরে আমাদের সমাবেশ করতে দেয়নি। আমরাও এটা মেনে নিয়েছি শান্তির খাতিরে।’
রাতে গণসমাবেশের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মঞ্চে কিছুক্ষণ স্লোগান, কিছু সময় বক্তৃতা আবার সময়–সময় গানবাজনা চলছে। চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর ও বরিশালের গণসমাবেশের যে মেজাজ ছিল, তা ফরিদপুরে এসে অনেকটা উৎসবে রূপ নিয়েছে। মাঠের চারপাশ পাঁচ জেলার নেতাদের ছোট-বড় ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। নানা রঙের টুপি, টি–শার্ট গায়ে কর্মী-সমর্থকেরা সেখানে এসেছেন।

ফরিদপুরে বিএনপির গণসমাবেশ,সড়কে যানবাহন কম, ভ্যান-ইজিবাইক থেকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে যাত্রীদের ফরিদপুরে বিএনপির গণসমাবেশের আগে গতকাল শুক্রবার সকাল ছয়টা থেকে জেলা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকে আঞ্চলিক বাস, মিনিবাসসহ দূরপাল্লার সব রুটে বাস ধর্মঘট চলছে। এর মধ্যে আজ শনিবার সকাল থেকে ফরিদপুর শহরে যান চলাচল একেবারেই কমে গেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। হাতে গোনা কিছু ভ্যান, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করলেও পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা

 

ফরিদপুর শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে কোমরপুর আবদুল আজিজ ইনস্টিটিউশন মাঠে বিএনপির গণসমাবেশ চলছে। সমাবেশস্থলে যাওয়ার জন্য ভাঙ্গা রাস্তার মোড় ও রাজবাড়ী রাস্তার মোড় অতিক্রম করতে হয়। এ জন্য ওই দুই এলাকায় পুলিশের তৎপরতা বেশি দেখা যাচ্ছে। আবার ফরিদপুর শহরে ঢোকা কিংবা শহর থেকে আশপাশের জেলায় যেতে হলে ওই দুই মোড়ের ব্যবহার করতে হয়। তবে পুলিশের দাবি, সমাবেশস্থলের আশপাশে যানজট ও জনদুর্ভোগ কমাতে এসব এলাকায় যান চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না।কোমরপুর ফিলিং স্টেশনের সামনে তিনজন কৃষি শ্রমিকের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। ওই তিন শ্রমিক ধান কাটার জন্য মাদারীপুরের শিবচরে গিয়েছিলেন। কাজ শেষে তিন শ্রমিকের মধ্যে মো. নাজির কুষ্টিয়া ফিরে যাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে থাকা জাকির ও ইব্রাহীম রাজশাহী যাবেন। তবে বাস না পেয়ে তাঁরা বিপাকে পড়েছেন। ভেঙে ভেঙে ফরিদপুর এসেছেন তাঁরা। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ মোড়ে গেলে বাস পাওয়া যাবে বলে শুনেছেন। এখন ইজিবাইকে রাজবাড়ী যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

যান চলাচলে বাধার বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, সমাবেশস্থলটি মহাসড়কের পাশে। সেখানে যানজটের সৃষ্টি হলে সাধারণ যাত্রীরাও দুর্ভোগে পড়বেন। সমাবেশ নির্বিঘ্ন ও ওই এলাকা যানজটমুক্ত রাখতেই সমাবেশস্থলের আগেই গাড়ি থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সুত্র ও ছবি

Facebook Comments Box