ঢাকা ০৫:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সম্পর্ক উন্নয়নে শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের ফেরত চায় সরকার প্রয়োজনভিত্তিক উপবৃত্তি চালুর ইঙ্গিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর নওগাঁয় মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদে অটোরিকশা-ভ্যান মালিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে মারধর ও ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল নয়, লড়াই হবে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ডাকসুর সংগ্রহশালায় ঢুকে জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলেছেন ঢাবির উর্দু বিভাগের এক শিক্ষার্থী। আপনি কি তার এই কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেন? রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘোষিত হলো ২০২৬ সাফ ফুটবলের সূচি, ঢাকায় বাংলাদেশের মিশন দিল্লিতে নতুন হাইকমিশনার নিয়োগের প্রস্তাবে এখনো ভারতের সাড়া মেলেনি বিজিবির ১০৬তম ব্যাচে সিপাহী পদে নিয়োগ

পাইকগাছায় স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় আইনজীবী স্বামী জেলহাজতে

পাইকগাছা(খুলনা) থেকে শেখ খায়রুল ইসলাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৭:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ জুলাই ২০২৩ ৩০২ বার পড়া হয়েছে

পাইকগাছায় স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় আইনজীবী স্বামী জেলহাজতে

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

খুলনার পাইকগাছায় স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় আইনজীবী স্বামীর জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে বিজ্ঞ আদালত।

যৌতুক নিরোধ আইনে স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় জেল হাজতে স্বামী এ্যাডঃ আব্দুল হক গাজী এসকেন্দার। গত ২৬ জুন খুলনার বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত এ্যাডঃ আব্দুল হক গাজী এসকেন্দার কে জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

লিখিত অভিযোগে মনোয়ারা খাতুন জানান, একে অপরকে ভালবেসে ছাত্রাবস্থায় পাইকগাছার সোনাতনকাটি গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য সাকাত গাজীর ছেলে খুলনা জজ কোর্টের আইনজীবী আব্দুল হক এসকেন্দারের সঙ্গে ২০০৬ সালে তাদের বিয়ে হয়। ঈশান নামে তাদের ৯ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

মনোয়ারা খাতুন আরও জানান,প্রায় ১০ বছর যাবতকাল তাহার পিতার বাড়িতে থেকে তার স্বামী খুলনার একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতো। লেখাপড়ার সিংহ ভাগ খরচ সহ অন্যান্য ব্যয়ভার তাহার পিতা বহন করত।

এছাড়া খুলনায় একটি ফ্লাট কেনার জন্য ২০২১ সালে তার স্বামীকে নগদ এককালীন ৭ লক্ষ টাকা দেয় তার বাবা। পরে আরও ১০ লক্ষ টাকা দাবী করলে তা দিতে অস্বীকার করায় তার উপর নানা রকম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়।

এ ছাড়া ইয়াসমিন পারভীন বৃষ্টি ওরফে ডলি নামের এক মহিলার সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়ে স্বামী এসকেন্দার। গত- ৩-৪-২৩ তারিখে খুলনা শহরের একটি জায়গায় তাদের অনৈতিক কাজে বাঁধা দেওয়ার পর থেকে তার উপর শারীরিক নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

দফায় দফায় তাকে শারীরিক নির্যাতন করা সহ তাকে বড় ধরণের ক্ষতি করবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। আর ১০ লক্ষ টাকা না দিলে ডলিকে বিয়ে করে ১০ লাখ টাকা নিয়ে ফ্লাট কেনা হবে বলে তাকে জানানো হয়।

এঘটনায় তার স্বামী ও ডলির বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় একটি জিডি করা হয়।জিডি নং-১১২৭ তাং ১৯-৪-২০২৩।তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে আরও জানান, প্রায় তিন মাস যাবত আমার ও আমার সন্তানকে কোন ভরণপোষণ না দিয়ে তার স্বামী ওই মহিলাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করে।

এ সব ঘটনায় তিনি গত ১০-৫-২০২৩ তারিখে খুলনা উকিল বারে স্বামী এসকেন্দারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের পাশাপাশী গত ২৪-৫-২০২৩ তারিখে যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

এ দিকে মিমাংসার নামে শ্বশুরের আহবানে গত ২৬-৫-২০২৩ তারিখে সোনাতনকাটী গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে গেলে প্রায় ৪ মাসের অন্তঃসত্বা মনোয়ারা খাতুনকে স্বামী সহ তার পরিবারের লোকজন বেধড়ক মারপিট সহ জখম করলে মারাত্মক আহতবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা ২৫০ শষ্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ সময় সঙ্গে থাকা তার মাকেও লাঞ্চিত করা হয়।এঘটনায় গত ২-৬-২৩ তারিখে স্বামী এসকেন্দার ও শ্বশুর সাকাত গাজী এবং শাশুড়ি রমেছা বেগম সহ ৭জনকে আসামী করে পাইকগাছা থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলা নং-৪/১৭২।

এদিকে মামলা তুলে নিতে এসকেন্দারের ভাইয়েরা নানা রকম হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।তাদের অব্যাহত হুমকিতে মনোয়ারা খাতুন নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পাইকগাছায় স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় আইনজীবী স্বামী জেলহাজতে

আপডেট সময় : ০২:৪৭:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ জুলাই ২০২৩

খুলনার পাইকগাছায় স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় আইনজীবী স্বামীর জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে বিজ্ঞ আদালত।

যৌতুক নিরোধ আইনে স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় জেল হাজতে স্বামী এ্যাডঃ আব্দুল হক গাজী এসকেন্দার। গত ২৬ জুন খুলনার বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত এ্যাডঃ আব্দুল হক গাজী এসকেন্দার কে জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

লিখিত অভিযোগে মনোয়ারা খাতুন জানান, একে অপরকে ভালবেসে ছাত্রাবস্থায় পাইকগাছার সোনাতনকাটি গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য সাকাত গাজীর ছেলে খুলনা জজ কোর্টের আইনজীবী আব্দুল হক এসকেন্দারের সঙ্গে ২০০৬ সালে তাদের বিয়ে হয়। ঈশান নামে তাদের ৯ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

মনোয়ারা খাতুন আরও জানান,প্রায় ১০ বছর যাবতকাল তাহার পিতার বাড়িতে থেকে তার স্বামী খুলনার একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতো। লেখাপড়ার সিংহ ভাগ খরচ সহ অন্যান্য ব্যয়ভার তাহার পিতা বহন করত।

এছাড়া খুলনায় একটি ফ্লাট কেনার জন্য ২০২১ সালে তার স্বামীকে নগদ এককালীন ৭ লক্ষ টাকা দেয় তার বাবা। পরে আরও ১০ লক্ষ টাকা দাবী করলে তা দিতে অস্বীকার করায় তার উপর নানা রকম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়।

এ ছাড়া ইয়াসমিন পারভীন বৃষ্টি ওরফে ডলি নামের এক মহিলার সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়ে স্বামী এসকেন্দার। গত- ৩-৪-২৩ তারিখে খুলনা শহরের একটি জায়গায় তাদের অনৈতিক কাজে বাঁধা দেওয়ার পর থেকে তার উপর শারীরিক নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

দফায় দফায় তাকে শারীরিক নির্যাতন করা সহ তাকে বড় ধরণের ক্ষতি করবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। আর ১০ লক্ষ টাকা না দিলে ডলিকে বিয়ে করে ১০ লাখ টাকা নিয়ে ফ্লাট কেনা হবে বলে তাকে জানানো হয়।

এঘটনায় তার স্বামী ও ডলির বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় একটি জিডি করা হয়।জিডি নং-১১২৭ তাং ১৯-৪-২০২৩।তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে আরও জানান, প্রায় তিন মাস যাবত আমার ও আমার সন্তানকে কোন ভরণপোষণ না দিয়ে তার স্বামী ওই মহিলাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করে।

এ সব ঘটনায় তিনি গত ১০-৫-২০২৩ তারিখে খুলনা উকিল বারে স্বামী এসকেন্দারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের পাশাপাশী গত ২৪-৫-২০২৩ তারিখে যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

এ দিকে মিমাংসার নামে শ্বশুরের আহবানে গত ২৬-৫-২০২৩ তারিখে সোনাতনকাটী গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে গেলে প্রায় ৪ মাসের অন্তঃসত্বা মনোয়ারা খাতুনকে স্বামী সহ তার পরিবারের লোকজন বেধড়ক মারপিট সহ জখম করলে মারাত্মক আহতবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা ২৫০ শষ্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ সময় সঙ্গে থাকা তার মাকেও লাঞ্চিত করা হয়।এঘটনায় গত ২-৬-২৩ তারিখে স্বামী এসকেন্দার ও শ্বশুর সাকাত গাজী এবং শাশুড়ি রমেছা বেগম সহ ৭জনকে আসামী করে পাইকগাছা থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলা নং-৪/১৭২।

এদিকে মামলা তুলে নিতে এসকেন্দারের ভাইয়েরা নানা রকম হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।তাদের অব্যাহত হুমকিতে মনোয়ারা খাতুন নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে।

 

Facebook Comments Box