ধর্ষণের বিচার চাইতেই বাবার কাছ থেকে অপহরণ করে কিশোরীকে হত্যা
- আপডেট সময় : ১০:৪১:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১০৯৯০ বার পড়া হয়েছে
ধর্ষণের বিচার চাইতেই বাবার কাছ থেকে অপহরণ করে কিশোরীকে হত্যা
ধর্ষণের বিচার চাওয়ার অপরাধেই প্রাণ দিতে হলো ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে। বাবার হাত থেকে অপহরণ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে তাকে। নরসিংদীর সদর উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নে এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দী এলাকার মাঝামাঝি একটি শর্ষেখেত থেকে কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত কিশোরী স্থানীয় একটি ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত। তার বাবা একটি টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিক। পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার বখাটে হিসেবে পরিচিত নূরা নামের এক যুবকের সঙ্গে কথাবার্তার সূত্র ধরে প্রায় ১৫ দিন আগে কিশোরীকে অপহরণ করে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
পড়ুন>> কাউনিয়ায় হারাগাছে ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
ঘটনার বিচার চাইতে পরিবারটি মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আহমদুল্লাহর কাছে গেলে বিচার না পেয়ে উল্টো এলাকা ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।
পরবর্তীতে ওই অভিযোগ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে নূরাসহ তার সহযোগীরা। গতকাল বুধবার রাতে বাবা মেয়েকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে গেলে বিলপাড় এলাকায় পৌঁছামাত্র নূরার নেতৃত্বে ছয়জন যুবক বাবার কাছ থেকেই কিশোরীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও মেয়ের সন্ধান পাওয়া যায়নি। আজ সকালে স্থানীয়রা শর্ষেখেতে কিশোরীর লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।
খবর পেয়ে মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাঠানো হয় নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে।
পড়ুন>>আইকনিক ডিজাইন ও ০% অগ্রিম পেমেন্ট অফার নিয়ে আসছে ইনফিনিক্স নোট ৬০ সিরিজ
নিহত কিশোরীর বড় ভাই বলেন, “আমরা বিচার চাইছিলাম। বিচার না পেয়ে এলাকা ছাড়ার কথা বলা হয়। গতকাল রাতে আব্বা বোনকে খালার বাড়ি নিয়ে যাচ্ছিল। পথে নূরা আর তার লোকজন তাকে অপহরণ করে নেয়। আজ সকালে শর্ষেখেতে লাশ পেলাম। আমরা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
ঘটনার পর অভিযুক্ত নূরা ও তার সহযোগীরা পলাতক রয়েছে। সাবেক ইউপি সদস্য আহমদুল্লাহকেও এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাধবদী থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, “ধর্ষণের বিচার চাওয়ার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”


























