পাকিস্তানে অনলাইনে বাড়ছে শিশুদের নিরাপত্তাহীনতা
- আপডেট সময় : ০৮:৪১:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনে গেম খেলার সময় পরিচয় হওয়া এক অপরিচিত ব্যক্তির খপ্পরে পড়েছিলেন পাকিস্তানি কিশোরী জারা শাহ (ছদ্মনাম)। সাধারণ আলাপ দিয়ে শুরু হলেও ধীরে ধীরে বিষয়টি ভয়াবহ অনলাইন যৌন নিপীড়নের রূপ নেয়। জারার মতো এমন আরও অনেক শিশু ও কিশোর-কিশোরী এখন প্রতিনিয়ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এক চরম আতঙ্ক নিয়ে বেঁচে আছে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে পাকিস্তানে আনুমানিক ১৫ লাখ শিশু অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে।
ইউনিসেফের বৈশ্বিক প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ড্যানিয়েল কারডেফেল্ট এএফপিকে জানিয়েছেন, এসব নিপীড়ন সাধারণত বন্ধুত্বের অভিনয়, উপহারের প্রতিশ্রুতি কিংবা প্রেমের ফাঁদ পেতে শুরু করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে গেম খেলার সময় আলাপ চালিয়ে অপরাধীরা শিশুদের বিশ্বাস অর্জন করে। জারা জানায়, শুরুর দিকে ওই ব্যক্তি বন্ধুর মতো আচরণ করলেও পরে নগ্ন ছবি পাঠানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করে। রাজি না হওয়ায় পরিবারকে সবকিছু জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়, যার ফলে সে ভয়ে এতদিন মুখ খোলার সাহস পায়নি। পরিসংখ্যান বলছে, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে যারা নিপীড়নের শিকার হয়েছে, তাদের ৮৫ শতাংশই নিপীড়ককে আগে থেকে চিনত।
লাহোরভিত্তিক সংস্থা ‘পহচান’-এর পরিচালক মেহেক নাঈম জানিয়েছেন, পাকিস্তানে নথিভুক্ত হওয়া যৌন নিপীড়নের প্রায় ৪৪ শতাংশই অনলাইনে ঘটছে, যেখানে হোয়াটসঅ্যাপ ও স্ন্যাপচ্যাট সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। লোকলজ্জা ও সামাজিক প্রতিক্রিয়ার ভয়ে ভুক্তভোগী শিশুদের ৭১ শতাংশই বিষয়টি কাউকে জানায়নি। এমনকি গবেষণায় অংশগ্রহণকারী কোনো শিশুই হেল্পলাইন বা পুলিশের মতো আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে অভিযোগ করেনি। রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থার কারণে ভুক্তভোগীদের স্কুল থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া বা চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ভয়ও কাজ করে।
বর্তমানে পাকিস্তানের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৭৪ শতাংশ নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহার করে, যা তাদের নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় পাঞ্জাব সরকার ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তাব পাস করলেও তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ডিজিটাল অধিকারকর্মী ওসামা খিলজি এই নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে মত দিয়ে বলেছেন, এতে শিশুদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে এবং তারা ভিপিএন ব্যবহার করে সহজেই এ বাধা অতিক্রম করবে।
অন্যদিকে, অলাভজনক সংগঠন ‘মুসলিম হ্যান্ডস’-এর মুখপাত্র তাহিরা আফ্রাসিয়াব সতর্ক করে বলেছেন, বিদ্যমান আইনি কাঠামো থাকলেও তার সঠিক বাস্তবায়ন নেই। মানবাধিকার আইনজীবী সালমান আফ্রিদি দাবি করেছেন, শিশুদের অর্থনৈতিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মাত্র ১০ হাজার রুপির বিনিময়ে যৌন কনটেন্ট তৈরির মতো অপরাধমূলক বাণিজ্যিক ইকোসিস্টেম গড়ে উঠেছে। এ ধরনের চক্র শিশুদের ব্ল্যাকমেইল করে তাদের জিম্মি করে রাখছে। এছাড়া করাচিতে শতাধিক শিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারের বিষয়টিও সামনে এসেছে। পাঞ্জাব প্রদেশে ধর্ষণ মোকাবিলায় বর্তমানে ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিছুদিন পর সে দেখা করার কথা বলে এবং একপর্যায়ে আমার নগ্ন ছবি চাইতে শুরু করে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জারা বলেছে, ‘আমি রাজি না হওয়ায় সে হুমকি দেয়, অনলাইনে আমার পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করে তাঁদের জানিয়ে দেবে যে আমাদের মধ্যে কী কথা হয়েছে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ভুক্তভোগী শিশুদের ৮৫ শতাংশের ক্ষেত্রেই নিপীড়ক ছিলেন তাদের পরিচিত কেউ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আর এ জন্য অনেক সময় মাসের পর মাস লেগে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অপরাধীরা কৌশলে ভুক্তভোগীর গোপন ছবি, ভিডিও বা কোনো সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নেয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর সেগুলো পরিবার কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সাধারণত ভুক্তভোগীকে আরও নতুন কোনো সংবেদনশীল ছবি দিতে কিংবা শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করে কিংবা মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে বসে।
সূত্র: প্রথম আলো
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























