ঢাকা ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এশিয়া কাপ আর্চারিতে সোনা জিতলেন বাংলাদেশের বর্ণা আক্তার হাসিনা পতনের আগেই ইউনূসের দায়িত্ব নেওয়ার পথ সুগম হয়: শফিকুল আলম নালিতাবাড়ীতে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ব্রিজের উদ্বোধন নিখোঁজ প্রাক্তন কর্মকর্তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা, মুখ খুললেন বাবা এলপিজির দাম ও কমিশন পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়ে বিইআরসির গণশুনানি জামায়াত এমপি |: আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত তাহসিফ সৌরির মৃত অবস্থায় পাওয়ার ঘটনায় নিখোঁজ বিমান কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির সুরতহাল প্রতিবেদনে যা উঠে এসেছে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাসেবা মিললেও চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম নিচ্ছেন সাধারণ রোগীরা উখিয়ায় নলকূপ খননে বের হওয়া আগুনের দাপট অব্যাহত, বিদ্যুৎহীন ৩৮০০ পরিবার

ঠাকুরগাঁওয়ে ডিমের হালি ৭০ টাকা:কিনতে পারছেনা নিম্ন আয়ের মানুষ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৪:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২ ৩১৩ বার পড়া হয়েছে

ঠাকুরগাঁওয়ে ডিমের হালি ৭০ টাকা:কিনতে পারছেনা নিম্ন আয়ের মানুষ

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঠাকুরগাঁও থেকে মোঃ মজিবর রহমান শেখ: ঠাকুরগাঁও জেলায় গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির ডিমের দাম হালিপ্রতি বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে প্রতি হালিতে দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। এ ছাড়া হাঁসের ডিমের দাম হালিতে বেড়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। ডিম দরিদ্রদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে বলে জানান, ক্রেতা সাধারণ।

‘গরিবের প্রোটিন’ হিসেবে মুরগির ডিম এক সপ্তাহ আগে স্থানীয় বাজারে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি হালি ৪৪ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ৪৬ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

রাতারাতি সেই ডিম পাইকারি পর্যায়ে প্রতি হালি ৫১ টাকা এবং মহল্লার মুদিদোকানে খুচরা পর্যায়ে ৫৬ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে। ৫৬ -৬০ টাকা হালি দরের হাঁসের ডিম খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা দরে। এখন,একটি হাসের ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৮ টাকা ৫০ পয়সা ।

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা গেছে,পাইকারি বাজারে লেয়ার মুরগির ডিম প্রতি হালি ৫২ – ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

পাশাপাশি সাদা কক মুরগির ডিম বিক্রি হয়েছে প্রতি হালি ৫২ টাকা দরে। শহরের মুদিদোকানগুলোতে এই লেয়ার মুরগির ডিমই প্রতি হালি ৫৩ টাকায়, দেশি মুরগির সাদা এবং হাঁসের ডিম ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শারমিন নামে এক গৃহবধূ শহরের কালীবাড়ি বাজারে ডিম কিনতে এসে জানান, ‘গত শুক্রবার হাঁসের ছোট সাইজের ডিম প্রতি হালি ৫৫ টাকা ও একটু বড় সাইজের ডিম ৬৫ টাকা ধরে কিনেছেন।  ১৬ আগস্ট মঙ্গলবার একই দোকানে হাঁসের ডিম ৭৫ টাকা হালি কিনতে হলো। সব কিছুর দাম এতো বেশি বড়েছে যা আমাদের মতো মধ্যবিত্ত ও দরিদ্রদের পণ্য সামগ্রী ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

তিনি আরো বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ার পর নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন লেগেছে। সবজি থেকে শুরু করে চাল, ডাল, মসলা, সয়াবিন, মাছ, মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। আগে ১৫ হাজার টাকায় সংসারের মাসের খরচ চলে যেত। এখন ২৫ হাজার টাকায় হিমশিম খেতে হচ্ছে।

শহিদুল ইসলাম নামে এক ডিম ক্রেতা বলেন, ‘যাদের অর্থ সম্পদ আছে তারাই শুধু ভাল মন্দ খেতে পারছেন কিন্তু যারা দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রমজীবী মানুষ তারা আজকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য ভালো-মন্দ খেতেও পারছেন না। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।সরকারের উচিত বিশেষ করে এদিকে নজর দেওয়া। নয়তো মানুষ এভাবে চলতে পারবেন না। যারা মাছ মাংস সেরকম ভাবে কিনতে পারেন না তারা আমিষ হিসেবে ডিমকেই বেছে নিতেন। কিন্তু সামান্য এই ডিমেরও দাম বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ টাকায়। তাহলে মানুষ কি খেয়ে বাঁচবে!

তবে দাম বাড়লেও লাভ বাড়েনি বলে দাবি করেছেন ডিম ব্যবসায়ীরা। তাদের অনেকে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পরিবহন খরচ বেড়েছে। এ কারণে ডিমের দাম বেড়েছে। আগে প্রতি হালি ডিমে যে লাভ করেছি, এখনো সেই টাকাই লাভ হচ্ছে না।

শহরের কালীবাড়ি বাজারে ভাই ভাই ডিম ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী ও বিক্রেতা সোহেল রানা বলেন, ‘প্রায় ১৫-২০ দিন ধরে ডিমের বাজার চড়া। কয়েক দিন আগে ডিমের দাম যখন কিছুটা কম ছিল তখন ডিম বিক্রয় করে যে লাভ হচ্ছিল এখন ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ায় সেরকম লাভ হচ্ছে না ও ডিমের বিক্রয়ও কমে গেছে।

ঠাকুরগাঁও জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক শেখ সাদি বলেন, খুব শিগগিরই ডিমের বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হবে। যাঁরা অতিরিক্ত দামে ডিম বিক্রি করবেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঠাকুরগাঁওয়ে ডিমের হালি ৭০ টাকা:কিনতে পারছেনা নিম্ন আয়ের মানুষ

আপডেট সময় : ০৫:২৪:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২

ঠাকুরগাঁও থেকে মোঃ মজিবর রহমান শেখ: ঠাকুরগাঁও জেলায় গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির ডিমের দাম হালিপ্রতি বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে প্রতি হালিতে দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। এ ছাড়া হাঁসের ডিমের দাম হালিতে বেড়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। ডিম দরিদ্রদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে বলে জানান, ক্রেতা সাধারণ।

‘গরিবের প্রোটিন’ হিসেবে মুরগির ডিম এক সপ্তাহ আগে স্থানীয় বাজারে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি হালি ৪৪ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ৪৬ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

রাতারাতি সেই ডিম পাইকারি পর্যায়ে প্রতি হালি ৫১ টাকা এবং মহল্লার মুদিদোকানে খুচরা পর্যায়ে ৫৬ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে। ৫৬ -৬০ টাকা হালি দরের হাঁসের ডিম খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা দরে। এখন,একটি হাসের ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৮ টাকা ৫০ পয়সা ।

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা গেছে,পাইকারি বাজারে লেয়ার মুরগির ডিম প্রতি হালি ৫২ – ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

পাশাপাশি সাদা কক মুরগির ডিম বিক্রি হয়েছে প্রতি হালি ৫২ টাকা দরে। শহরের মুদিদোকানগুলোতে এই লেয়ার মুরগির ডিমই প্রতি হালি ৫৩ টাকায়, দেশি মুরগির সাদা এবং হাঁসের ডিম ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শারমিন নামে এক গৃহবধূ শহরের কালীবাড়ি বাজারে ডিম কিনতে এসে জানান, ‘গত শুক্রবার হাঁসের ছোট সাইজের ডিম প্রতি হালি ৫৫ টাকা ও একটু বড় সাইজের ডিম ৬৫ টাকা ধরে কিনেছেন।  ১৬ আগস্ট মঙ্গলবার একই দোকানে হাঁসের ডিম ৭৫ টাকা হালি কিনতে হলো। সব কিছুর দাম এতো বেশি বড়েছে যা আমাদের মতো মধ্যবিত্ত ও দরিদ্রদের পণ্য সামগ্রী ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

তিনি আরো বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ার পর নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন লেগেছে। সবজি থেকে শুরু করে চাল, ডাল, মসলা, সয়াবিন, মাছ, মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। আগে ১৫ হাজার টাকায় সংসারের মাসের খরচ চলে যেত। এখন ২৫ হাজার টাকায় হিমশিম খেতে হচ্ছে।

শহিদুল ইসলাম নামে এক ডিম ক্রেতা বলেন, ‘যাদের অর্থ সম্পদ আছে তারাই শুধু ভাল মন্দ খেতে পারছেন কিন্তু যারা দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রমজীবী মানুষ তারা আজকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য ভালো-মন্দ খেতেও পারছেন না। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।সরকারের উচিত বিশেষ করে এদিকে নজর দেওয়া। নয়তো মানুষ এভাবে চলতে পারবেন না। যারা মাছ মাংস সেরকম ভাবে কিনতে পারেন না তারা আমিষ হিসেবে ডিমকেই বেছে নিতেন। কিন্তু সামান্য এই ডিমেরও দাম বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ টাকায়। তাহলে মানুষ কি খেয়ে বাঁচবে!

তবে দাম বাড়লেও লাভ বাড়েনি বলে দাবি করেছেন ডিম ব্যবসায়ীরা। তাদের অনেকে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পরিবহন খরচ বেড়েছে। এ কারণে ডিমের দাম বেড়েছে। আগে প্রতি হালি ডিমে যে লাভ করেছি, এখনো সেই টাকাই লাভ হচ্ছে না।

শহরের কালীবাড়ি বাজারে ভাই ভাই ডিম ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী ও বিক্রেতা সোহেল রানা বলেন, ‘প্রায় ১৫-২০ দিন ধরে ডিমের বাজার চড়া। কয়েক দিন আগে ডিমের দাম যখন কিছুটা কম ছিল তখন ডিম বিক্রয় করে যে লাভ হচ্ছিল এখন ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ায় সেরকম লাভ হচ্ছে না ও ডিমের বিক্রয়ও কমে গেছে।

ঠাকুরগাঁও জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক শেখ সাদি বলেন, খুব শিগগিরই ডিমের বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হবে। যাঁরা অতিরিক্ত দামে ডিম বিক্রি করবেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments Box