জামায়াত আমিরের এক্স হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের কর্মকর্তা আটক
- আপডেট সময় : ০৭:৩৪:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১১৯৭৩ বার পড়া হয়েছে
জামায়াত আমিরের এক্স হ্যাকের ঘটনায় ডিবির হাতে বঙ্গভবনের কর্মকর্তা আটক
ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের এক সহকারী প্রোগ্রামারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে ডিবি পুলিশ।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তাকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটককৃত কর্মকর্তার নাম মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলম। তিনি রাষ্ট্রপতি কার্যালয় বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার হিসেবে কর্মরত।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে।জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পড়ুন>> ২০ মিনিটের ব্যবধানে দুইবার ভূমিকম্প
এদিকে, জামায়াত আমিরের এক্স হ্যান্ডেল হ্যাকের ঘটনায় রাজধানীর মতিঝিল এজিবি কলোনিতে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ১২টার পর এই অভিযান শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র জানায়, হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যেই এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এর আগে ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, “একটি অভিযান চলছে। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।”
অন্যদিকে, ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন ও অগ্রগতি জানাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়।
পড়ুন>> লক্ষ্মীপুরে মারিয়াম প্রিন্টার্সে অভিযান: ভোটের ৬টি সিলসহ আটক-১
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ৩১ জানুয়ারি বিকেল ৪টার পর ডা. শফিকুর রহমানের এক্স আইডি হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। পরে বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে ওই আইডি থেকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও আপত্তিকর পোস্ট প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় আইটি টিম দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বিকেল ৫টা ৯ মিনিটে পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের মাধ্যমে আইডিটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে।
পরবর্তীতে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে হ্যাকের বিষয়টি জানিয়ে জরুরি ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘটনার পরপরই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং পরদিন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো হয়।
জামায়াতের দাবি, তদন্তে দেখা গেছে তাদের কেন্দ্রীয় অফিসিয়াল ই-মেইলসহ একাধিক ঠিকানায় একটি ফিশিং মেইল পাঠানো হয়েছিল, যার মাধ্যমে ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ফিশিং মেইলটি বঙ্গভবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সরকারি ই-মেইল অ্যাড্রেস থেকে পাঠানো হয়েছিল।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় জামায়াত সরাসরি বঙ্গভবনে গিয়ে অভিযোগ জানায়। প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আদিল চৌধুরী জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অবহিত করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।






















