ঢাকা ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভূরুঙ্গামারীতে বাজেয়াপ্ত ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ধ্বংস করেছে কাস্টমস ব্যাংক খাতের মতো বীমা খাতেও লুটপাট চলছে: অর্থমন্ত্রী শিক্ষক সংকটের জেরে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অবরুদ্ধ শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ মঙ্গলবার থেকে স্বাভাবিক হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইংল্যান্ডের কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর আইসিসির জোড়া শাস্তির মুখে পাকিস্তান আসিফ নজরুলের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো মন্তব্যটি ভুয়া সঞ্চয়পত্রের লেনদেনে ভোগান্তি কমাতে চালু হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম বেসরকারি সংস্থা সেতুতে ১৬৯ পদে নিয়োগ, বেতন ও আবেদনের নিয়মাবলি কাতারে ট্যাক্সি ও লিমোজিন সেবায় নিরাপত্তা ক্যামেরা বসানো বাধ্যতামূলক করল কর্তৃপক্ষ হারানো সরকারি অস্ত্র ও গোলাবারুদের তথ্য দিলে মিলবে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার

জলঢাকায় বিদ্যালয়ে জমি দান করে ১০ বছর পর মালিকানা দাবি: কোর্টে মামলা

নীলফামারী থেকে তপন দাস
  • আপডেট সময় : ১১:৪৫:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫ ১০৩ বার পড়া হয়েছে

জলঢাকায় বিদ্যালয়ে জমি দান করে ১০ বছর পর মালিকানা দাবি: কোর্টে মামলা

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

জলঢাকায় বিদ্যালয়ে জমি দান করে ১০ বছর পর মালিকানা দাবি: কোর্টে মামলা

 

জলঢাকায় বিদ্যালয়ে জমি দান করে ১০ বছর পর মালিকানা দাবি: কোর্টে মামলা। দাতা সদস্যের ভাইয়ের পিটিশনে বন্ধ হলো বাউন্ডারি নির্মাণ, চাঞ্চল্য এলাকায়।

নীলফামারীর জলঢাকায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দান করা জমির মালিকানা পুনরায় দাবি করে ১০ বছর পর আদালতে পিটিশন মামলা করেছেন দাতা সদস্যের ছোট ভাই আব্দুল আজিজ (৫০)। এতে বিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়নকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের নেকবক্ত বাজারসংলগ্ন স্বাধীন বাংলা নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে।

 

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বিদ্যালয়ের জন্য বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের সরকারি বরাদ্দ আসে। নির্মাণ কাজ শুরুর পরই দাতা সদস্য আকবর আলী বাধা দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। তাঁর অভিযোগ, “আমাকে না জানিয়ে বাউন্ডারি নির্মাণ কেন?” — এ নিয়ে প্রধান শিক্ষক হালিমুর রহমানের সঙ্গে তাঁর তর্ক-বিতর্ক হয়।

 

এরপর পরিকল্পিতভাবে তাঁর ছোট ভাই আব্দুল আজিজ বিদ্যালয়ের দানকৃত জমির মধ্যে ভাগ চেয়ে জেলা কোর্টে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নং এমআর ৩৬৪/২৫ (জল) ধারা ১৪৪/১৪৫ অনুযায়ী আমলে নিয়ে আদালত শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জলঢাকা থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।

 

 

বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক হালিমুর রহমান জানান, “মৃত বছির উদ্দীনের ছেলে আকবর আলী ২০১৭ সালের ২৩ মে তারিখে ৬৮ শতকের মধ্যে ২০ শতক জমি বিদ্যালয়ের নামে দান করেন। যার দলিলপত্র প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত রয়েছে।”

 

 

অপরদিকে, আব্দুল আজিজ বলেন, “৬৮ শতকের মধ্যে আমার ভাই সামনের অংশ নিয়েছে, আমি পিছনের অংশ নিবো একা— এটা হতে পারে না। আমি সামনের অংশেই ভাগ চাই।” এতে বিদ্যালয়ের ভূমি দ্বিখণ্ডিত হয়ে যাবে— এমন প্রশ্নে তাঁর সাফ জবাব, “তাতে আমার কিছু যায় আসে না।”

পড়ুন>>কুড়িগ্রামকে মাদকমুক্ত করতে মাদক বিরোধী অভিযানের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে- ভিসি নুসরাত সুলতানা

প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, “প্রতিহিংসামূলকভাবে একটি মহল বিদ্যালয়ের সম্মান ক্ষুণ্ন ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে উঠেপড়ে লেগেছে। এমনকি বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা ইব্রাহিম ও জয়নাল আবেদীনকেও মামলায় জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”

 

 

স্থানীয়দের অনেকেই ঘটনাটিকে “চরম অনৈতিক ও লজ্জাজনক” বলেও মন্তব্য করেছেন। প্রধান শিক্ষক প্রশাসন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং স্থানীয় জনসাধারণের সহায়তা কামনা করে বলেন, “বিদ্যালয়টিকে রক্ষা করতে সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে।”

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জলঢাকায় বিদ্যালয়ে জমি দান করে ১০ বছর পর মালিকানা দাবি: কোর্টে মামলা

আপডেট সময় : ১১:৪৫:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫

 

 

জলঢাকায় বিদ্যালয়ে জমি দান করে ১০ বছর পর মালিকানা দাবি: কোর্টে মামলা

 

জলঢাকায় বিদ্যালয়ে জমি দান করে ১০ বছর পর মালিকানা দাবি: কোর্টে মামলা। দাতা সদস্যের ভাইয়ের পিটিশনে বন্ধ হলো বাউন্ডারি নির্মাণ, চাঞ্চল্য এলাকায়।

নীলফামারীর জলঢাকায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দান করা জমির মালিকানা পুনরায় দাবি করে ১০ বছর পর আদালতে পিটিশন মামলা করেছেন দাতা সদস্যের ছোট ভাই আব্দুল আজিজ (৫০)। এতে বিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়নকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের নেকবক্ত বাজারসংলগ্ন স্বাধীন বাংলা নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে।

 

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বিদ্যালয়ের জন্য বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের সরকারি বরাদ্দ আসে। নির্মাণ কাজ শুরুর পরই দাতা সদস্য আকবর আলী বাধা দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। তাঁর অভিযোগ, “আমাকে না জানিয়ে বাউন্ডারি নির্মাণ কেন?” — এ নিয়ে প্রধান শিক্ষক হালিমুর রহমানের সঙ্গে তাঁর তর্ক-বিতর্ক হয়।

 

এরপর পরিকল্পিতভাবে তাঁর ছোট ভাই আব্দুল আজিজ বিদ্যালয়ের দানকৃত জমির মধ্যে ভাগ চেয়ে জেলা কোর্টে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নং এমআর ৩৬৪/২৫ (জল) ধারা ১৪৪/১৪৫ অনুযায়ী আমলে নিয়ে আদালত শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জলঢাকা থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।

 

 

বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক হালিমুর রহমান জানান, “মৃত বছির উদ্দীনের ছেলে আকবর আলী ২০১৭ সালের ২৩ মে তারিখে ৬৮ শতকের মধ্যে ২০ শতক জমি বিদ্যালয়ের নামে দান করেন। যার দলিলপত্র প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত রয়েছে।”

 

 

অপরদিকে, আব্দুল আজিজ বলেন, “৬৮ শতকের মধ্যে আমার ভাই সামনের অংশ নিয়েছে, আমি পিছনের অংশ নিবো একা— এটা হতে পারে না। আমি সামনের অংশেই ভাগ চাই।” এতে বিদ্যালয়ের ভূমি দ্বিখণ্ডিত হয়ে যাবে— এমন প্রশ্নে তাঁর সাফ জবাব, “তাতে আমার কিছু যায় আসে না।”

পড়ুন>>কুড়িগ্রামকে মাদকমুক্ত করতে মাদক বিরোধী অভিযানের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে- ভিসি নুসরাত সুলতানা

প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, “প্রতিহিংসামূলকভাবে একটি মহল বিদ্যালয়ের সম্মান ক্ষুণ্ন ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে উঠেপড়ে লেগেছে। এমনকি বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা ইব্রাহিম ও জয়নাল আবেদীনকেও মামলায় জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”

 

 

স্থানীয়দের অনেকেই ঘটনাটিকে “চরম অনৈতিক ও লজ্জাজনক” বলেও মন্তব্য করেছেন। প্রধান শিক্ষক প্রশাসন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং স্থানীয় জনসাধারণের সহায়তা কামনা করে বলেন, “বিদ্যালয়টিকে রক্ষা করতে সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে।”

 

 

Facebook Comments Box