ঘুরে আসুন শেরপুরের গজনী অবকাশ কেন্দ্র : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
ঘুরে আসুন শেরপুরের গজনী অবকাশ কেন্দ্র : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ৫৭ রান রোববার কিশোরগঞ্জ সফরে প্রধানমন্ত্রী: জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন করবেন তারেক রহমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় শিশুসহ ১১ জন নিহত বিএনপি সরকারের ছয় মাস: তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব ধর্ষণের অভিযোগের জেরে ভাইয়ের হাতে প্রাণ গেল ভাইয়ের পুরান ঢাকায় মার্কেটের ১৩ তলায় বিক্রয়কর্মীর ওপর হামলা, মৃত্যু লোডশেডিং ও গ্যাস সংকট নিয়ে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৬ আগস্ট ২০২৬: সারা দেশে বৃষ্টি-বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা, কোথাও ভারী বর্ষণ আজ ১৬ আগস্ট ২০২৬; আজকের রাশিফল: দৈনিক রাশিফল: কেমন কাটবে দিনটি আপনার

ঘুরে আসুন শেরপুরের গজনী অবকাশ কেন্দ্র

সৃষ্টি বিনোদন
  • প্রকাশিত : সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৩
ঘুরে আসুন শেরপুরের গজনী অবকাশ কেন্দ্র

ঘুরে আসুন শেরপুরের গজনী অবকাশ কেন্দ্র।

গজনি পর্যটন কেন্দ্রটি প্রায় ৯০ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত পাহাড়ি সৌন্দর্যমণ্ডিত। বাংলাদেশের উত্তর সিমান্তবর্তী জেলা শেরপুর। গারো পাহাড়ের পাদদেশে এবং ভারতের মেঘালয়ের কোল ঘেঁষে নদ-নদী আর পাহাড়ি সৌন্দর্য্যে ভরপুর শেরপুরের অবকাশ কেন্দ্র। এ জেলার বিশাল অংশজুড়ে রয়েছে গারো পাহাড়ের বিস্তৃতি। তার উত্তরে রয়েছে ভারতের মেঘালয় রাজ্য।

শেরপুর জেলার ৫ টি উপজেলার মধ্যে ঝিনাইগাতী উপজেলা সর্ব উত্তরে। ঝিনাইগাতী উপজেলা গারো পাহাড়ের সিমান্তে অবস্তিত হওয়ায় এখানে রয়েছে- গারো, কোচ, হাজং, বানাই এবং ডালু অধ্যুষিত উপজাতিদের বসবাস।

ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নে অবস্থিত গজনী অবকাশ। এটি শেরপুর জেলা তথা বৃহত্তর ময়মনসিংহ বিভাগ ও উত্তরাঞ্চলের প্রধান এবং আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি গজনী অবকাশ ব্রিটিশ আমল থেকেই পিকনিকট স্পট হিসেবে পরিচিত সকলের মাঝে। দর্শনার্থীদের ভ্রমন আরও আনন্দঘন করতে শেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১৯৯৩ সালে এটিকে নতুন রুপে নির্মিত করা হয় গজনী অবকাশ কেন্দ্র হিসেবে। এ পর্যটন কেন্দ্রটি প্রায় ৯০ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত পাহাড়ি সৌন্দর্যমণ্ডিত।

গজনি, পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এখানে রয়েছে সারি সরি গজারী, শাল, সেগুন, মহুয়া, আকাশমনি, ইউকেলিপটাস সহ আরও শত শত নাম না জানা গাছ-গাছালি এবং লতাপাতার বিন্যাস। পাহাড়, বনানী, ঝর্ণা, টিলা, লেক, হ্রদসহ প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম সৌন্দর্য মিলে অন্যরকম প্রশান্তি এনে দেয় ভ্রমণকারীদের ক্লান্ত মনে।

লাল মাটির উঁচু পাহাড়, ছোট-বড় টিলা, মাঝে সমতল, গহীন জঙ্গল আর উপজাতীদের ঘরবাড়ির সৌন্দর্য্য বিষন্ন মনকে করবে উৎফুল্ল। তাই তো প্রতি বছর শীতকালে গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য্য অবলোকন করতে ভ্রমণ পিপাশু মানুষ গুলো ছুটে আসেন এ প্রাকৃতিক ‍লীলাভূমি।

দর্শনার্থীদের ভ্রমণ আরও আনন্দঘন করতে শেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১৯৯৩ সালে এটিকে নতুন রূপে নির্মিত করা হয় গজনী অবকাশ কেন্দ্র হিসেবে। এ পর্যটন কেন্দ্রটি প্রায় ৯০ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত পাহাড়ি সৌন্দর্যমণ্ডিত।

ইতোমধ্যে পাহাড়ি সৌন্দর্যের সাথে যোগ হয়েছে কৃত্রিমভাবে নির্মাণ করা অবকাঠামো আর মনোমুগ্ধকর নানা ভাস্কর্য বিনোদনের অনেক কিছু। পর্যটকরাও বলছেন, আগের তুলনায় অনেকটাই বদলে গেছে। সম্প্রতি উদ্বোধন করা হয়েছে গজনী অবকাশের লেকে দৃষ্টিনন্দন ভাসমান সেতু, লেকের পাশে সুবিশাল ওয়াটার কিংডম ও একটি প্যারাট্রবা (চরকি)।

এছাড়া ঝুলন্ত ব্রিজ, ক্যাবল কার, জিপলাইনিং তো রয়েছেই। চোখে পড়ার মতো সব কিছু দেখে মুগ্ধ পর্যটকরাও।

মায়াময়ী এ সৌন্দর্যের অবকাশ কেন্দ্রটি ১৯৯৩ সালে ৯০ একর জমিতে গড়ে তোলে জেলা প্রশাসন।

নির্মাণের পর থেকেই প্রতি বছর জীবনের ব্যস্ততাকে পেছনে ফেলে এখানে ছুটে আসেন লক্ষাধিক পর্যটক। গজনী অবকাশ ঘেঁষা উত্তরে মেঘালয় রাজ্যের পোড়াকাশিয়া।

অবকাশের চারিদিকেই ছোট বড় অসংখ্য টিলা। প্রতিটি টিলা যেন সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি। অবকাশে যেন অবারিত সবুজের সমারোহ। কত যে মনোমুগ্ধকর না দেখলে হয়তোবা বিশ্বাস হবে না। গারো পাহাড়ের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গজনী অবকাশ।

এখানকার দৃশ্যগুলো যে অবলোক করেছে, সে অনুভব করতে পেরেছে। কেউ একবার এলে বার বার তাকে আসতে মনকে নাড়া দেবে। এখানে প্রতিদিন আবেগতাড়িত হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটছে। জমে ওঠেছে পর্যটন কেন্দ্র গজনী অবকাশ।

লেক, লেকের মাঝে সৃষ্টি করা হয়েছে কৃত্রিম দ্বীপ এবং লেক ভিউ পেন্টাগন, দুইয়ের মধ্যে দোদ্দুল্যমান ব্রীজ নির্মাণ করে তৈরি করা হয়েছে বন্ধন। কৃত্রিম লেকের শান্ত জলে নৌ বিহারে ভ্রমণের জন্য রয়েছে প্যাডেল বোট এবং দৃষ্টিনন্দিত ময়ুরপঙ্খী নৌকা।

পাহাড়ের চূড়ায় শেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে ৬ কক্ষ বিশিষ্ট উন্নতমানের দ্বিতল রেষ্ট হাউজ। পাদদেশ থেকে পাহাড়ের চুড়ায় উঠার জন্য রয়েছে দু’শতাধিক সিঁড়িসহ আঁকাবাঁকা আকর্ষণীয় পদ্মসিঁড়ি। গজনীতে পিকনিক কারীদের জন্য রয়েছে বিশুদ্ধ পানির নলকূপ, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন এবং রান্নাবান্নার আয়োজন।

গজনীর পাহাড়ের চুড়ার ভিউ টাওয়ার:

দৃষ্টি নন্দন গজনী অবকাশ। পাহাড়ের চূড়া থেকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য রয়েছে ৬৪ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট সাইট ভিউ টাওয়ার। সাইট ভিউ টাওয়ারের চূড়ায় উঠলে চারদিকে দেখা যায় ধূসর, আকাশী ও সবুজের সমারহ। গজনী অবকাশের‌ সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য কৃত্রিম ভাবে নির্মাণ করা হয়েছে ৩৩ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট বৃহৎ ডাইনোসর ভাস্কর্য।

ভাস্কর্যটি আমরাকে পৃথিবীর বিবর্তনের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয়। বৃহৎ ভাস্কর্য গুলোর অন্যতম হলো দন্ডায়মান জিরাফ। গজনীতে তৈরী করা হয়েছে গ্রীক ধারায় চৌবাচ্চার দুইটি হাঁস এবং পানির খেলা।

সাদা সিমেন্ট দ্বারা ঝিলের পাড়ে নির্মিত আছে জলপরী ভাস্কর্য। জলপরীকে দেখে মনে হয়, জলে সাতার কেটে ক্লান্ত হয়ে পানি থেকে মাত্র উঠে শ্রান্ত-ক্লান্ত অবস্থায় বসে আছে। স্থাপত্যধর্মী ভাস্কর্য হলো ড্রাগন। ড্রাগনটি হা করে আছে মনে হয় সব খেয়ে ফেলবে, আসলেই তাই। ড্রাগনের দু’ মাড়ির (মাথা) ভিতর দিয়ে প্রবেশ করে অন্য প্রান্ত দিয়ে বের হওয়া যায়।

গজনী অবকাশ কেন্দ্র এর টিকেট মূল্য কত?

গজনী অবকাশে প্রবেশমূল্য বাস-ট্রাক ৫০০ টাকা, মাইক্রোবাস-পিক-আপ ভ্যানের জন্য ২০০ টাকা। জনপ্রতি প্রবেশমূল্য ১০ টাকা দিতে হয়।

কিভাবে যাবেন গজনী অবকাশ কেন্দ্র?

দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার। শেরপুর থেকে লোকাল বাস,টেম্পু, সিএনজি অথবা রিক্সায় গজনী অবকাশ কেন্দ্রে যাওয়া যায়। শেরপুর থেকে বাসে গজনী অবকাশ কেন্দ্রে যেতে লাগবে ৫০ থেকে ৭০ টাকা। আর সিএনজি দিয়ে যেতে লাগবে ৩০০ টাকা।

রাজধানী ঢাকা থেকে সরাসরি সড়ক পথে সাড়ে ৪ থেকে ৫ ঘন্টায় গজনী অবকাশ কেন্দ্র পৌঁছানো যায়। উত্তরবঙ্গ থেকে টাঙ্গাইল-জামালপুর হয়েও আসতে পারেন সড়ক পথে। ঢাকার মহাখালি থেকে ড্রিমল্যান্ড বাসে শেরপুর আসা যায়। ভাড়া ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে। মহাখালী থেকে দুপুর ২টায় ছাড়ে এসিবাস। ভাড়া ৩৫০টাকা।

এছাড়া ঢাকা বঙ্গবন্ধু জাতীয় ষ্টেডিয়াম ৪ নং গেইট থেকে সরাসরি বিকাল ৩-৪টায় শিল্প ও বণিক সমিতির গাড়ী ঝিনাইগাতীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। ভাড়া ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে।

ঢাকা থেকে সরাসরি মাইক্রোবাস অথবা প্রাইভেট কারে গজনী অবকাশ যেতে পারেন। ঢাকা থেকে নিজস্ব বাহনে মাত্র সাড়ে তিন থেকে চার ঘন্টায় ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশে আসা যায়।

ঢাকা শেরপুর রুটে চলাচলকারী কিছু বাসের নাম্বার দেয়া হলো :

শেরপুর চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি-০১:
শেরপুর নিউমার্কেট থেকে প্রতিদিন ভোর ৫টায় ছেড়ে যায় ঢাকার (গুলিস্তান স্টেডিয়াম) এর উদ্দেশ্যে। আবার স্টেডিয়াম থেকে দুপুর ৩.১৫মিনিটে ছেড়ে যায় শেরপুরের উদ্দেশ্যে।সুপারভাইজার নাম্বার : ০১৭১৫৮১৪৭২৫

শেরপুর চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি- ০২:
গাড়ি ছাড়ার সময়:রাত ১২.৩০মিনিট।
শেরপুর বুকিং মোবাইল:০১৭৭৮৫৫৮৮৩৫
ঢাকা বুকিং (গুলিস্তান সে্টডিয়াম মার্কেট)
গাড়ি ছাড়ার সময়:দুপুর ২.০০মিনিট
সুপারভাইজার :০১৭৭৮৫৫৮৮৯০

BRTC AC:
সুপারভাইজার নাম্বার: 01758836943
শেরপুর খড়মপুর মোড় থেকে ঢাকা-মতিঝিল এর উদ্দেশ্যে প্রতিদিন রাত 12:30 মিনিটে ছেড়ে যাবে।মতিঝিল (BRTC) বাস ডিপো থেকে প্রতিদিন বিকাল 3:30 মিনিটে শেরপুর এর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে।

এস.এ.ট্রাভেলস্:
গাড়ী ছাড়ার সময়: শেরপুর থানা মোড় থেকে সকাল ৬.৫ মি., ঢাকা (মহাখালী) থেকে দুপুর ১.৩৫ এ শেরপুর কাউন্টার:০১৭২৪৪৫৪৩৫৭ ঢাকা কাউন্টার ও সুপারভাইজার :০১৭২৪১৯১১১৮।

সাদিকা ১
ঢাকা থেকে ছাড়ার সময় সকাল ৭টা
নবীনগর থেকে ছাড়ার সময় দুপুর ১.৩৫ মি.(নবীনগর বাস টার্মিনাল)
(অগ্রিম টিকিটের জন্য:০১৭১২১১৯

গজনী অবকাশ কেন্দ্রে কোথায় থাকবেন:

গজনী অবকাশ কেন্দ্র এর রেস্ট হাউজ দিনে ব্যবহার করতে পারবেন তবে রাতে নয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে গজনী অবকাশ কেন্দ্র এর রেষ্ট হাউজে রাত যাপনের অনুমতি নেই। তবে ভিআইপিদের জন্য জেলা সার্কিট হাউজ, জেলা পরিষদ ও এলজিইডির রেস্ট হাউজ রয়েছে।

গজনীতে ভালো মানের রিসোর্টের মধ্যে আছে বনরাণী ফরেস্ট রিসোর্ট। ভাড়া ২-২৫০০ টাকা, ২-৪ জন/রুম। শুধু দিনের ভাড়া ১৫০০ টাকা। একসাথে ৩ রুম তথা পুরো রিসোর্ট ৭০০০ টাকা। পিকনিক স্পট হিসেবে (১রুম ৪ বাথ সহ) ভাড়া ৫১৭৫ টাকা।

এছাড়া শেরপুর শহরে ভালো মানের বেশ কয়েকটি হোটেল আছে।

হোটেল সম্পদ প্লাজা (আবাসিক) – ০১৭১৮২৯০৪৪, ০৯৩১-৬১৭৭৬
আরাফাত গেস্ট হাউজ (আবাসিক) – ০৯৩১-৬১২১৭
বর্ণালী গেস্ট হাউজ (আবাসিক) – ০৯৩১-৬১৫৭৫
কাকলী গেস্ট হাউজ (আবাসিক) – ০৯৩১-৬১২০৬

শেরপুর গেলে অবশ্যই অবশ্যই দুধের ছানা, ছানার পায়েস খেয়ে আসবেন, কারণ এটা এই অঞ্চলের খ্যাত একটা খাবার।

জেনে নিন>>বাংলাদেশের সমুদ্র সৈকত; কোন সমুদ্র সৈকতে কিভাবে যাবেন? 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!