ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী, দুই দশকের উপস্থিতির পর
- আপডেট সময় : ০২:১৫:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘ দুই দশকের সামরিক উপস্থিতির পর ইরাক থেকে চূড়ান্তভাবে নিজেদের সব সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সেনা প্রত্যাহারের এই আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এর ফলে ইরাকে থাকা মার্কিন বাহিনীর সব সামরিক ঘাঁটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ২০০৩ সালে মার্কিন বাহিনীর অভিযানের মধ্য দিয়ে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল ওয়াশিংটন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চূড়ান্তভাবে এই সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করল। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। বর্তমানে ইরানের সঙ্গে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই পদক্ষেপটি কার্যকর করা হলো। ইরানের সরকার এবং তাদের মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্থানকে নিজেদের জন্য কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখছে।
ইরাকে মার্কিন বাহিনীর ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০১১ সালের শেষ দিকে একবার সেনা প্রত্যাহার করা হলেও ২০১৪ সালে আইএসের উত্থানের প্রেক্ষিতে তারা আবারও দেশটিতে ফিরে এসেছিল। পরবর্তীতে ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তারা ইরাকি বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করে। তবে বর্তমানে মার্কিন বাহিনীর অনুপস্থিতিতে ইরাকে নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। এছাড়া ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বৃদ্ধি এবং উগ্রপন্থী সংগঠন আইএসের পুনর্গঠনের সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
দীর্ঘ এই সামরিক মিশনে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ইরাক যুদ্ধ ও সংশ্লিষ্ট অভিযানে অন্তত ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু চলতি বছরেই ইরানের সঙ্গে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ইরাকে সাতজনসহ মোট ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ গত জুলাই মাসে এরবিলের কাছে একটি ঘাঁটিতে শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন ধ্বংস করতে গিয়ে একজন মার্কিন সার্জেন্ট নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এখন মার্কিন প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা পাওয়া ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী নিজ দেশের পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে, তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়েও সংশয় ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সূত্র: দৈনিক এইদিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























