ঢাকা ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আরআরএফ-এ ৪৪০ পদে কর্মী নিয়োগ: ৬ নভেম্বর সিলেটে বাছাই পরীক্ষা লস অ্যাঞ্জেলেস ফ্যাশন উইকে নজর কাড়লেন বাংলাদেশি মডেল রাকিব হাসান টোকিওর আদলে ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন করার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর সালাহউদ্দিন |: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে, বিকল্প নেই ভূরুঙ্গামারীতে ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ ​নাগেশ্বরীতে ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত নাগেশ্বরীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ব হাত ধোঁয়া দিবস ডোমারে উদযাপন কাউনিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন   কাউনিয়ায় যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আনন্দ র‍্যালি

কুড়িগ্রামে কৃষক মহাসমাবেশের নামে সরকারী কোষাগার থেকে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা

সাইয়‍্যেদ বাবু ব‍্যুরো প্রধান
  • আপডেট সময় : ০৭:৪২:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৫ ২০২ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামে কৃষক মহাসমাবেশের নামে সরকারী কোষাগার থেকে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

কুড়িগ্রামে কৃষক মহাসমাবেশের নামে সরকারী কোষাগার থেকে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা

 

কুড়িগ্রামে কৃষক মহাসমাবেশের নামে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার ও জাতীয় নাগরিক কমিটির নাম ভাঙিয়ে সরকারী কোষাগার থেকে ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এই আবেদন পত্র জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে সবিবের নিকট প্রেরণের জন্য বলা হয়েছে। আবেদনটি করেছেন উত্তরবঙ্গ কৃষক মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ হাসান নলেজ।

অনুসন্ধানে জানা যায়,সরকারী কোষাগার থেকে অর্থ হাতিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন নামের একটি অনিবন্ধিত রাজনৈতিক সংগঠন কুড়িগ্রাম জেলায় কৃষকলীগকে পুনর্বাসন দেওয়ার প্রচেষ্টায় চিলমারী উপজেলায় কৃষক মহাসমাবেশের আয়োজন করছেন। এই সংগঠনের জেলায় কোন ভিত্তি নেই। নেই কোন কমিটি, নিজেকে আহ্বায়ক দাবি করে নাহিদ হাসান নলেজ একাই সামলান সবকিছু। জেলার ৯ উপজেলা মিলে সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ১৫ জনের বেশি নয়। তাই সমাবেশের নামে কনকচাঁপার কনসার্ট ও খাবারের আয়োজন করে লোকজন উপস্থিতির কৌশল হিসেবে শেষ প্রচেষ্টা করছেন সংগঠনটি।

পড়ুন>> ঠাকুরগাঁওয়ে মোটরসাইকেল চুরির সময় জনতার গণপিটুনিতে চোরের মৃত্যু

সরকারী কোষাগারের ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার খরচের হিসাব দেখিয়ে সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ হাসান নলেজ আবেদনে উল্লেখ করেন প্রোগ্রামে উপস্থিত লক্ষাধিক কৃষকের মধ্যে ৩০ হাজার কৃষকের একবেলার খাবারের জন্য বরাদ্দ ৬০ লাখ টাকা, ১০০ জন ভিআইপির একবেলার খাবার ৫০ হাজার টাকা,স্টেজ,সাউন্ড সিস্টেম, গেইট,লাইটিং,বসার ব্যবস্থা,তোরণ ও অন্যান্য কাজের জন্য ৫ লাখ টাকা। আগামী ২৬ জানুয়ারি (রবিবার) কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার জোড়গাছ হাট সংলগ্ন সফিউল আলম রাজা স্টেডিয়ামে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময়সূচি নির্ধারিত রয়েছে।

দাওয়াত কার্ড ও পোস্টার থেকে জানা যায়, এই প্রোগ্রামের উদ্বোধক হিসেবে রয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, প্রধান অতিথি রাখা হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক,প্রধান বক্তা রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয় হাসনাত কাইয়ুম, স্বাগত বক্তা রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কনক রহমান, প্রোগ্রামের ঢাল হিসেবে অতিথি রাখা হয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও কেন্দ্রীয় মুখপাত্র সামান্তা শারমিনকে।

পড়ুন>>নওগাঁয় সমন্বয়ক পরিচয় দানকারীর ভাই ছাত্রলীগ নেতা রকি গ্রেফতার

এছাড়াও দওয়াত কার্ডে আলোচক হিসেবে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও যুগান্তর সম্পাদক কবি আব্দুল হাই শিকদার,সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান,লেখক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ,বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম,বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব মোর্শেদের নাম রয়েছে।

কৃষক মহাসমাবেশের নামে এই চিলমারী উপজেলার এই কর্মসূচি নিয়ে জেলার সুধীমহলে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। নাম সর্বস্ব সংগঠনের এতবড় আয়োজনকে চরম বিশৃঙ্খলা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এব্যাপারে কথা হলে শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের জেলা সেক্রেটারি আতাউর রহমান জানান,আমরা এত বড় শ্রমিক সংগঠন করি তবু বিষয়টি আমরা জানিনা,তারা কোথা থেকে কৃষক সংগ্রহ করবে বিষয়টি প্রশাসনকে খতিয়ে দেয়া উচিৎ। সরকারী খরচে প্রোগ্রাম করলে বিষয়টি অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুর রহমান জানান, যারা প্রোগ্রামের আয়োজন করেছে তাদেরকে আমি চিনিনা। এই সংগঠনের নামেই শুনি নাই। আমার সাথে এই বিষয়ে কেউ কোন কথা বলেনি। আমাদের মতো বৃহৎ শ্রমিক সংগঠনের সাথে পরামর্শ না করে এমন দুরভিসন্ধিমূলক কর্মসূচি হাতে নেয়ার তীব্র নিন্দা জানাই। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কোন প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন হতে পারেনা।

জাতীয় নাগরিক কমিটির বিভিন্ন উপজেলার একাধিক নেতৃবৃন্দ জানান,এই প্রোগ্রামে দাওয়াত কার্ডে আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নাম থাকলেও আমরা কিছু জানিনা, আমাদের সাথে কোন সমন্বয়ও নেই। আমরা জানতে পেরেছি এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে কৃষকলীগকে পুনর্বাসন দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। ইতোপূর্বে এই সংগঠন রৌমারী উপজেলায় আওয়ামীলীগের লোকজন নিয়ে কৃষক সমাবেশ করায় জামাত-পিএনপির সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তাছাড়া রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নাম সর্বস্ব একটি সংগঠন ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা চেয়ে যে আবেদন করেছে আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা অবিলম্বে এই কর্মসুচি প্রত্যাহারের দাবি জানাই।

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ নাহিদ বলেন-এই প্রোগ্রামের ব্যাপারে আয়োজক কমিটি আমাদের অবগত করেনি,তবে আমরা জানতে পেরেছি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় নেতাদের নাম ব্যবহার করে প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের নামে সরকারী কোষাগার থেকে ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে। এতবড় প্রোগ্রাম সামলানোর সক্ষমতা ওই সংগঠনের নেই। তারা নাম সর্বস্ব। আমরা অনতিবিলম্বে এই কর্মসূচি প্রত্যাহারের দাবি জানাই।

আরো পড়ুন>>ডোমারের ছেলের কোঁদালের কোপে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন পিতা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান লিমন বলেন-এটি একটি ভুঁইফোড় সংগঠন,তাদের অর্থ নেই, জনবল নেই,সাংগঠনিক কাঠামো,কমিটি ও উপকমিটি নেই। তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আইন শৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় ছাত্র-জনতা এইসব কর্মসূচি কখনো বাস্তবায়ন হতে দেবেনা। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।

উত্তরবঙ্গ কৃষক মহাসমাবেশের আহ্বায়ক নাহিদ হাসান এ ব্যাপারে এক ভিডিও বার্তায় বলেন,
আমি টাকা চেয়ে আবেদন করতেই পারি। কিন্তু টাকা তো পাইনি। মনে হয় আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক নুসরাত সুলতানা জানান,কৃষক মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ হাসান ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা সম্ভাব্য ব্যয়ের একটি আবেদন করেছেন। তবে উপদেষ্টা পর্যায়ের কেউ আসবে কিনা আমরা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কুড়িগ্রামে কৃষক মহাসমাবেশের নামে সরকারী কোষাগার থেকে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা

আপডেট সময় : ০৭:৪২:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৫

 

কুড়িগ্রামে কৃষক মহাসমাবেশের নামে সরকারী কোষাগার থেকে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা

 

কুড়িগ্রামে কৃষক মহাসমাবেশের নামে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার ও জাতীয় নাগরিক কমিটির নাম ভাঙিয়ে সরকারী কোষাগার থেকে ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এই আবেদন পত্র জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে সবিবের নিকট প্রেরণের জন্য বলা হয়েছে। আবেদনটি করেছেন উত্তরবঙ্গ কৃষক মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ হাসান নলেজ।

অনুসন্ধানে জানা যায়,সরকারী কোষাগার থেকে অর্থ হাতিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন নামের একটি অনিবন্ধিত রাজনৈতিক সংগঠন কুড়িগ্রাম জেলায় কৃষকলীগকে পুনর্বাসন দেওয়ার প্রচেষ্টায় চিলমারী উপজেলায় কৃষক মহাসমাবেশের আয়োজন করছেন। এই সংগঠনের জেলায় কোন ভিত্তি নেই। নেই কোন কমিটি, নিজেকে আহ্বায়ক দাবি করে নাহিদ হাসান নলেজ একাই সামলান সবকিছু। জেলার ৯ উপজেলা মিলে সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ১৫ জনের বেশি নয়। তাই সমাবেশের নামে কনকচাঁপার কনসার্ট ও খাবারের আয়োজন করে লোকজন উপস্থিতির কৌশল হিসেবে শেষ প্রচেষ্টা করছেন সংগঠনটি।

পড়ুন>> ঠাকুরগাঁওয়ে মোটরসাইকেল চুরির সময় জনতার গণপিটুনিতে চোরের মৃত্যু

সরকারী কোষাগারের ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার খরচের হিসাব দেখিয়ে সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ হাসান নলেজ আবেদনে উল্লেখ করেন প্রোগ্রামে উপস্থিত লক্ষাধিক কৃষকের মধ্যে ৩০ হাজার কৃষকের একবেলার খাবারের জন্য বরাদ্দ ৬০ লাখ টাকা, ১০০ জন ভিআইপির একবেলার খাবার ৫০ হাজার টাকা,স্টেজ,সাউন্ড সিস্টেম, গেইট,লাইটিং,বসার ব্যবস্থা,তোরণ ও অন্যান্য কাজের জন্য ৫ লাখ টাকা। আগামী ২৬ জানুয়ারি (রবিবার) কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার জোড়গাছ হাট সংলগ্ন সফিউল আলম রাজা স্টেডিয়ামে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময়সূচি নির্ধারিত রয়েছে।

দাওয়াত কার্ড ও পোস্টার থেকে জানা যায়, এই প্রোগ্রামের উদ্বোধক হিসেবে রয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, প্রধান অতিথি রাখা হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক,প্রধান বক্তা রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয় হাসনাত কাইয়ুম, স্বাগত বক্তা রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কনক রহমান, প্রোগ্রামের ঢাল হিসেবে অতিথি রাখা হয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও কেন্দ্রীয় মুখপাত্র সামান্তা শারমিনকে।

পড়ুন>>নওগাঁয় সমন্বয়ক পরিচয় দানকারীর ভাই ছাত্রলীগ নেতা রকি গ্রেফতার

এছাড়াও দওয়াত কার্ডে আলোচক হিসেবে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও যুগান্তর সম্পাদক কবি আব্দুল হাই শিকদার,সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান,লেখক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ,বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম,বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব মোর্শেদের নাম রয়েছে।

কৃষক মহাসমাবেশের নামে এই চিলমারী উপজেলার এই কর্মসূচি নিয়ে জেলার সুধীমহলে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। নাম সর্বস্ব সংগঠনের এতবড় আয়োজনকে চরম বিশৃঙ্খলা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এব্যাপারে কথা হলে শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের জেলা সেক্রেটারি আতাউর রহমান জানান,আমরা এত বড় শ্রমিক সংগঠন করি তবু বিষয়টি আমরা জানিনা,তারা কোথা থেকে কৃষক সংগ্রহ করবে বিষয়টি প্রশাসনকে খতিয়ে দেয়া উচিৎ। সরকারী খরচে প্রোগ্রাম করলে বিষয়টি অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুর রহমান জানান, যারা প্রোগ্রামের আয়োজন করেছে তাদেরকে আমি চিনিনা। এই সংগঠনের নামেই শুনি নাই। আমার সাথে এই বিষয়ে কেউ কোন কথা বলেনি। আমাদের মতো বৃহৎ শ্রমিক সংগঠনের সাথে পরামর্শ না করে এমন দুরভিসন্ধিমূলক কর্মসূচি হাতে নেয়ার তীব্র নিন্দা জানাই। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কোন প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন হতে পারেনা।

জাতীয় নাগরিক কমিটির বিভিন্ন উপজেলার একাধিক নেতৃবৃন্দ জানান,এই প্রোগ্রামে দাওয়াত কার্ডে আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নাম থাকলেও আমরা কিছু জানিনা, আমাদের সাথে কোন সমন্বয়ও নেই। আমরা জানতে পেরেছি এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে কৃষকলীগকে পুনর্বাসন দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। ইতোপূর্বে এই সংগঠন রৌমারী উপজেলায় আওয়ামীলীগের লোকজন নিয়ে কৃষক সমাবেশ করায় জামাত-পিএনপির সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তাছাড়া রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নাম সর্বস্ব একটি সংগঠন ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা চেয়ে যে আবেদন করেছে আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা অবিলম্বে এই কর্মসুচি প্রত্যাহারের দাবি জানাই।

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ নাহিদ বলেন-এই প্রোগ্রামের ব্যাপারে আয়োজক কমিটি আমাদের অবগত করেনি,তবে আমরা জানতে পেরেছি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় নেতাদের নাম ব্যবহার করে প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের নামে সরকারী কোষাগার থেকে ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে। এতবড় প্রোগ্রাম সামলানোর সক্ষমতা ওই সংগঠনের নেই। তারা নাম সর্বস্ব। আমরা অনতিবিলম্বে এই কর্মসূচি প্রত্যাহারের দাবি জানাই।

আরো পড়ুন>>ডোমারের ছেলের কোঁদালের কোপে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন পিতা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান লিমন বলেন-এটি একটি ভুঁইফোড় সংগঠন,তাদের অর্থ নেই, জনবল নেই,সাংগঠনিক কাঠামো,কমিটি ও উপকমিটি নেই। তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আইন শৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় ছাত্র-জনতা এইসব কর্মসূচি কখনো বাস্তবায়ন হতে দেবেনা। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।

উত্তরবঙ্গ কৃষক মহাসমাবেশের আহ্বায়ক নাহিদ হাসান এ ব্যাপারে এক ভিডিও বার্তায় বলেন,
আমি টাকা চেয়ে আবেদন করতেই পারি। কিন্তু টাকা তো পাইনি। মনে হয় আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক নুসরাত সুলতানা জানান,কৃষক মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ হাসান ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা সম্ভাব্য ব্যয়ের একটি আবেদন করেছেন। তবে উপদেষ্টা পর্যায়ের কেউ আসবে কিনা আমরা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি।

Facebook Comments Box