ঢাকা ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরীক্ষায় অসদুপায়ের দায়ে রুয়েটের ১২ শিক্ষার্থীকে দুই বছরের বহিষ্কার চাটমোহরে জমি দখল ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন দুর্গাপূজায় দেশজুড়ে বিজিবির ১০ হাজার সদস্য মোতায়েন আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায় সরকার বুড়িচংয়ে সারের ডিলারশিপ নিয়ে এমপির পিএসসহ অন্যদের নাম আসায় দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ মৃত্যু সর্বকালের সেরা ফুটবলার বিতর্ক: মেসির ওপর পেলেকে রাখলেন রোমারিও পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতি: রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৮ জনের কারাদণ্ড ম্যান সিটির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি স্টিভেন জেরার্ডের আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকে এমটিও নিয়োগ

কাউনিয়ায় একই পরিবারে চার প্রতিবন্ধী ভিক্ষাবৃত্তি  থেকে মুক্তি চায়

কাউনিয়া (রংপুর) থেকে আব্দুল কুদ্দুছ বসুনিয়া
  • আপডেট সময় : ০১:৪৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২ ২৯৩ বার পড়া হয়েছে

কাউনিয়ায় একই পরিবারে চার প্রতিবন্ধী ভিক্ষাবৃত্তি  থেকে মুক্তি চায়

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কাউনিয়ায় একই পরিবারে চার শারীরিক প্রতিবন্ধির সংসার জীবন চলে ভিক্ষা বৃত্তি আর মানুষের কাছে সাহার্য্য নিয়ে। একদিন ভিক্ষা বৃত্তি না করলে চুলায় আগুন জ্বলে না ভাত জোটে না পেটে। তবে তারা ভিক্ষা বৃত্তি পেশায় থাকতে চান না। এই পরিবারের  চার প্রতিবন্ধী ভিক্ষাবৃত্তি  থেকে মুক্তি চায়।

কাউনিয়া উপজেলা সদর থেকে ৪ কিলোমিটার পূর্বে তালুক শাহবাজ গ্রামে ওয়াবদা বাঁধের উপর ঝুপড়ি বাড়িতে গিয়ে কথা হয় চার শারীরিক প্রতিবন্ধির সাথে। তারা শুনায় তাদের দুর্বিষহ জীবন কাহিনী। তিন শারীরিক প্রতিবন্ধির পিতা মোঃ আবুল হোসেন (৬৪)জানান তার প্রথম পুত্র সাইদুল ইসলাম (৩৯) সুস্থ ভাবেই জন্ম নেয়। আর আট-দশজন শিশুর মত সুন্দর স্বাভাবিক ভাবেই হাঁটাচলা, স্কুলে যাওয়া আসা পড়ালেখা সবই ঠিক ভাবে চলছিল তার।

কিন্তু বিধাতার নির্মম পরিহাস ১২ বছর বয়স হলে হাঁটুর উপর এবং হাতের কনুইয়ের উপর থেকে হাত -পা চিকন ও বাঁকা হয়ে যায় এবং বোধ শক্তি কমে থাকে এক পর্যায়ে বিকলাঙ্গ হয়ে তার হাত পা।

শরীরের মাংস শুকিয়ে হাঁড়ের সাথে লেগে যায়। সবার কাছে হাত পেতে সাহার্য্য নিয়ে চিকিৎসা করে কোন ফল পায়নি তারা। এর পর জন্ম নেয় দ্বিতীয় পুত্র শামীম মিয়া(২৫) তারও ১২ বছর বয়স হলে একই অবস্থার সৃষ্টি হয়। এর পর তৃতীয় পুত্র রবিউল ইসলাম (২১) তারও ১৩ বছর বয়স হলে একই পরিণতি ঘটে। মিশন হাসপাতাল, বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করেও এদের আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরানো সম্ভব হয়নি। স্ত্রী আর প্রতিবন্ধি সন্তানদের মুখে দু’বেলা দুমুঠো ডাল ভাত তুলে দিতে পিতা আবুল হোসেন রাজমিস্ত্রীর কাজ শুরু করেন।

পড়ুন>>অবশেষে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে নালিয়ার দোলায়

স্থানীয় কুর্শা এলাকায় কাজে গিয়ে বিধিবাম হয়ে যায় দুই তলা বিল্ডিংয়ের উপর থেকে পড়ে তার দু’টি পা ভেঙে যায়। কবিরাজি চিকিৎসা নিয়ে কোন রকম দাঁড়াতে পারলেও কোন জোড়-শক্তির কাজ করতে পারে না সে। বর্তমানে বাড়ীর কাছে ওয়াপদা বাঁধে ছোট পানের দোকান দিয়ে সময় কাটছে তাঁর আর ৩ শারীরিক প্রতিবন্ধি পুত্রের সংসার জীবন চলছে বিভিন্ন হাট-বাজার ও রাস্তার ধারে বসে ভিক্ষা করে। ৩ পুত্রের মধ্যে বড় ছেলে সাইদুল মৃগী সহ নানা রোগে আক্রান্ত। মানুষের সাহার্য্য ছাড়া সে একাকী চলাফেরায় অক্ষম।

তাদের সামান্য চাওয়া

ভিক্ষা বৃত্তি আর সরকারি প্রতিবন্ধি ভাতায় কোন রকম দিন চলছে তাদের। নিজস্ব জমি জমা বলতে কিছুই নেই তাদের। এর মধ্যে সাইদুল ইসলাম ও শামীম মিয়া বিয়ে করেছেন। সাইদুল ২ টি আর শামীমের ১ টি সন্তান রয়েছে। তারা জানায় মিশন হাসপাতালের ডাক্তার বলেছেন পরবর্তীতে তাদের সন্তানদের ভাগ্যে একই পরিণতি ঘটতে পারে। আবুল হোসেন সহ ৩ পুত্রের চাওয়া একটি করে সরকারি ঘর আর একটি চার্জার অটোর দাবী ।

সেটি ভাড়া দিয়ে আয় রোজগার করে জীবন সংসার চালাবে তারা। তারা ভিক্ষা বৃত্তির অভিশপ্ত জীবন থেকে মুক্তি চায়। বর্তমানে আবুল হোসেন স্ত্রী নুরবানু বেগমও খুব অসুস্থ তার চিকিৎসার জন্য সবার কাছে দোয়া ও সাহার্য্য কামনা করা হয়েছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কাউনিয়ায় একই পরিবারে চার প্রতিবন্ধী ভিক্ষাবৃত্তি  থেকে মুক্তি চায়

আপডেট সময় : ০১:৪৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২

কাউনিয়ায় একই পরিবারে চার শারীরিক প্রতিবন্ধির সংসার জীবন চলে ভিক্ষা বৃত্তি আর মানুষের কাছে সাহার্য্য নিয়ে। একদিন ভিক্ষা বৃত্তি না করলে চুলায় আগুন জ্বলে না ভাত জোটে না পেটে। তবে তারা ভিক্ষা বৃত্তি পেশায় থাকতে চান না। এই পরিবারের  চার প্রতিবন্ধী ভিক্ষাবৃত্তি  থেকে মুক্তি চায়।

কাউনিয়া উপজেলা সদর থেকে ৪ কিলোমিটার পূর্বে তালুক শাহবাজ গ্রামে ওয়াবদা বাঁধের উপর ঝুপড়ি বাড়িতে গিয়ে কথা হয় চার শারীরিক প্রতিবন্ধির সাথে। তারা শুনায় তাদের দুর্বিষহ জীবন কাহিনী। তিন শারীরিক প্রতিবন্ধির পিতা মোঃ আবুল হোসেন (৬৪)জানান তার প্রথম পুত্র সাইদুল ইসলাম (৩৯) সুস্থ ভাবেই জন্ম নেয়। আর আট-দশজন শিশুর মত সুন্দর স্বাভাবিক ভাবেই হাঁটাচলা, স্কুলে যাওয়া আসা পড়ালেখা সবই ঠিক ভাবে চলছিল তার।

কিন্তু বিধাতার নির্মম পরিহাস ১২ বছর বয়স হলে হাঁটুর উপর এবং হাতের কনুইয়ের উপর থেকে হাত -পা চিকন ও বাঁকা হয়ে যায় এবং বোধ শক্তি কমে থাকে এক পর্যায়ে বিকলাঙ্গ হয়ে তার হাত পা।

শরীরের মাংস শুকিয়ে হাঁড়ের সাথে লেগে যায়। সবার কাছে হাত পেতে সাহার্য্য নিয়ে চিকিৎসা করে কোন ফল পায়নি তারা। এর পর জন্ম নেয় দ্বিতীয় পুত্র শামীম মিয়া(২৫) তারও ১২ বছর বয়স হলে একই অবস্থার সৃষ্টি হয়। এর পর তৃতীয় পুত্র রবিউল ইসলাম (২১) তারও ১৩ বছর বয়স হলে একই পরিণতি ঘটে। মিশন হাসপাতাল, বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করেও এদের আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরানো সম্ভব হয়নি। স্ত্রী আর প্রতিবন্ধি সন্তানদের মুখে দু’বেলা দুমুঠো ডাল ভাত তুলে দিতে পিতা আবুল হোসেন রাজমিস্ত্রীর কাজ শুরু করেন।

পড়ুন>>অবশেষে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে নালিয়ার দোলায়

স্থানীয় কুর্শা এলাকায় কাজে গিয়ে বিধিবাম হয়ে যায় দুই তলা বিল্ডিংয়ের উপর থেকে পড়ে তার দু’টি পা ভেঙে যায়। কবিরাজি চিকিৎসা নিয়ে কোন রকম দাঁড়াতে পারলেও কোন জোড়-শক্তির কাজ করতে পারে না সে। বর্তমানে বাড়ীর কাছে ওয়াপদা বাঁধে ছোট পানের দোকান দিয়ে সময় কাটছে তাঁর আর ৩ শারীরিক প্রতিবন্ধি পুত্রের সংসার জীবন চলছে বিভিন্ন হাট-বাজার ও রাস্তার ধারে বসে ভিক্ষা করে। ৩ পুত্রের মধ্যে বড় ছেলে সাইদুল মৃগী সহ নানা রোগে আক্রান্ত। মানুষের সাহার্য্য ছাড়া সে একাকী চলাফেরায় অক্ষম।

তাদের সামান্য চাওয়া

ভিক্ষা বৃত্তি আর সরকারি প্রতিবন্ধি ভাতায় কোন রকম দিন চলছে তাদের। নিজস্ব জমি জমা বলতে কিছুই নেই তাদের। এর মধ্যে সাইদুল ইসলাম ও শামীম মিয়া বিয়ে করেছেন। সাইদুল ২ টি আর শামীমের ১ টি সন্তান রয়েছে। তারা জানায় মিশন হাসপাতালের ডাক্তার বলেছেন পরবর্তীতে তাদের সন্তানদের ভাগ্যে একই পরিণতি ঘটতে পারে। আবুল হোসেন সহ ৩ পুত্রের চাওয়া একটি করে সরকারি ঘর আর একটি চার্জার অটোর দাবী ।

সেটি ভাড়া দিয়ে আয় রোজগার করে জীবন সংসার চালাবে তারা। তারা ভিক্ষা বৃত্তির অভিশপ্ত জীবন থেকে মুক্তি চায়। বর্তমানে আবুল হোসেন স্ত্রী নুরবানু বেগমও খুব অসুস্থ তার চিকিৎসার জন্য সবার কাছে দোয়া ও সাহার্য্য কামনা করা হয়েছে।

Facebook Comments Box