ঢাকা ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সমঝোতার মাধ্যমেই সব চ্যালেঞ্জ কাটানো সম্ভব: অর্থমন্ত্রী নাগেশ্বরীতে দুধকুমার নদে ডুবে নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা ইসির দিল্লিতে প্রতিবাদের ভেন্যু হিসেবে যন্তর মন্তর বাতিল করল পুলিশ উত্তরায় জি এম কাদেরের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুর পরিকল্পনা ছাড়াই কি উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ? দুর্গাপূজা নিয়ে মন্দির কমিটির সাথে পুলিশের মতবিনিময় সভা সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হুতি সংকট নিয়ে ইরানের আলোচনা নীলফামারী হাসপাতালে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় আটক অ্যাম্বুলেন্স চালক ডিএমপি’র সাবেক কমিশনার হাবিবসহ ১১ জনের বিচারিক কার্যক্রম শুরু

সমঝোতার মাধ্যমেই সব চ্যালেঞ্জ কাটানো সম্ভব: অর্থমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৩:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভা শেষে সোমবার (১২ অক্টোবর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশের সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে সংস্থাগুলোর সঙ্গে বড় ধরনের কোনো মতপার্থক্য নেই। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সংস্কার বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ও সময়সীমা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।

বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত করার কাজ চলছে, যা দেশের টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় একটি নতুন রূপরেখা প্রদান করবে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তেল ও গ্যাসের দাম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে উদ্ভূত ভর্তুকির চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে সরকার। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তেল ও গ্যাসের উচ্চমূল্যের কারণে জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে। এ চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের নিয়মিত সহায়তার পাশাপাশি অতিরিক্ত ঋণ সহায়তা পাওয়ার বিষয়েও সরকার আশাবাদী। এ জন্য সরকার প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছে।

আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি ও সংস্কার শর্তাবলির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার একসঙ্গে সব সংস্কারের চাপ না নিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে কাজ করতে আগ্রহী। এছাড়া, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে আগামী দুই-তিন বছরের জন্য একটি কার্যকর আর্থিক সুরক্ষাবলয় তৈরিতেও সংস্থাটির সমর্থন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা করছেন। আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির সংস্কার শর্ত সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, কিছু নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা চলছে।

দেশের ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, আগামী পাঁচ থেকে আট বছর প্রতিবছর প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। এই মূলধনের যোগান নিশ্চিত করতে শুধু সরকারি অর্থায়নই যথেষ্ট নয়; বরং আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশন (আইএফসি) ও বেসরকারি ইকুইটি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তবে শুধু সরকারি অর্থায়নে এ চাহিদা পূরণ করা কঠিন। পুঁজিবাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

আমানতকারীদের আস্থার সংকট নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক খাতের অস্থিরতা অনেকটাই কেটে গেছে এবং বর্তমানে আমানত প্রবাহের ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একইসঙ্গে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও পুনরায় আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

রাজস্ব ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে বলেও মন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, সংস্কারের সুফল হিসেবে আয়কর আদায়ে ইতোমধ্যে প্রায় ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সমঝোতার মাধ্যমেই সব চ্যালেঞ্জ কাটানো সম্ভব: অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৩:৩৩:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভা শেষে সোমবার (১২ অক্টোবর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশের সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে সংস্থাগুলোর সঙ্গে বড় ধরনের কোনো মতপার্থক্য নেই। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সংস্কার বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ও সময়সীমা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।

বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত করার কাজ চলছে, যা দেশের টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় একটি নতুন রূপরেখা প্রদান করবে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তেল ও গ্যাসের দাম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে উদ্ভূত ভর্তুকির চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে সরকার। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তেল ও গ্যাসের উচ্চমূল্যের কারণে জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে। এ চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের নিয়মিত সহায়তার পাশাপাশি অতিরিক্ত ঋণ সহায়তা পাওয়ার বিষয়েও সরকার আশাবাদী। এ জন্য সরকার প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছে।

আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি ও সংস্কার শর্তাবলির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার একসঙ্গে সব সংস্কারের চাপ না নিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে কাজ করতে আগ্রহী। এছাড়া, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে আগামী দুই-তিন বছরের জন্য একটি কার্যকর আর্থিক সুরক্ষাবলয় তৈরিতেও সংস্থাটির সমর্থন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা করছেন। আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির সংস্কার শর্ত সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, কিছু নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা চলছে।

দেশের ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, আগামী পাঁচ থেকে আট বছর প্রতিবছর প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। এই মূলধনের যোগান নিশ্চিত করতে শুধু সরকারি অর্থায়নই যথেষ্ট নয়; বরং আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশন (আইএফসি) ও বেসরকারি ইকুইটি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তবে শুধু সরকারি অর্থায়নে এ চাহিদা পূরণ করা কঠিন। পুঁজিবাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

আমানতকারীদের আস্থার সংকট নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক খাতের অস্থিরতা অনেকটাই কেটে গেছে এবং বর্তমানে আমানত প্রবাহের ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একইসঙ্গে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও পুনরায় আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

রাজস্ব ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে বলেও মন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, সংস্কারের সুফল হিসেবে আয়কর আদায়ে ইতোমধ্যে প্রায় ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Facebook Comments Box