কাউনিয়ায় ইউপি সদস্য পলাশের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৬:৩৮:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫ ১০৮ বার পড়া হয়েছে
কাউনিয়ায় ইউপি সদস্য পলাশের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ
কাউনিয়ায় ইউপি সদস্য পলাশের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ।
অর্থের বিনিময়ে ভিজিডি, ভিডব্লিউবি, বয়স্ক ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়া, স্বজনপ্রীতি এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এসএম আমিরুল ইসলাম পলাশের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে জানাগেছে উপকারভোগী কার্ড করে দেওয়ার নামে তিনি কখনো প্রাপ্ত ভাতার পুরো টাকা, কখনো অগ্রিম বা কখনো ভাতার টাকার একটি অংশ সুকৌশলে আদায় করে নেন । কেউ টাকা দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করলে তাকে হেনস্তা বা কার্ড বাতিলের হুমকি দেওয়া হয় বলেও জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
পড়ুন>>তাহিরপুর ও দোয়ারাবাজার সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ভারতীয় অবৈধ গরু আটক
এছাড়া নিজের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয় স্বজনদের নামেও তিনি সরকারি বিভিন্ন সহায়তা সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, ইউপি সদস্য পলাশের মেয়ে মোছাঃ আসপা জাহান প্রমি (এনআইডি নং: ৬৪৬২৯৬৬৩৯৮)-এর নামে টিসিবি কার্ড এবং তার ইঞ্জিনিয়ার পুত্রবধূ মোহাঃ মাফরুজা খানম (এনআইডি নং: ৬৪৬৫২১১১০৭)-এর নামে ভিডব্লিউবি কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। অথচ সরকারি বিধিমতে সামর্থ্যবান ও সরকারি চাকরিজীবীরা এসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউপি সদস্য এবং এলাকাবাসীরা জানান, পলাশ মেম্বার টাকা ছাড়া কোনো কাজ করেন না। প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থেকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সংস্কারে উদাসীন থেকে নিজের যাতায়াতের সুবিধার জন্য অপ্রয়োজনীয় রাস্তায় প্রকল্প দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পড়ুন>> সুন্দরগঞ্জে মারপিট করে লুটপাটের অভিযোগ
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে এক ভুক্তভোগী মহিলা আফরোজা বেগম জানান, তিনি এক হতদরিদ্র রিকশাচালকের স্ত্রী। ইউপি সদস্য পলাশ ভিজিডি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তার নিকট ৭ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ৫ হাজার টাকা চুক্তি হলে তিনি ৩ হাজার টাকা অগ্রিম দেন এবং বাকি ২ হাজার টাকা কার্ড হাতে পাওয়ার শর্তে রাখেন।
কিন্তু গত ৭ জুলাই পলাশ মেম্বার এসে আগের ৩ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে জানান, তোমার কার্ড হয়নি,কেন কার্ড হয়নি বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে বলেন, এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তোমার বা তোমার সন্তানের সমস্যা হবে।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য পলাশ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। আমার সম্মানহানির জন্য কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।
বিষয়টি জানতে বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনসার আলীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিদুল হক জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একজন কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

























