ঢাকা ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্স: বাংলাদেশ ‘এ’ দলের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা চট্টগ্রামে যুবদল নেতা গ্রেপ্তার: প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে জীবনের পুরোনো ছবি নেতানিয়াহুর পতন ঘটাতে জোট গঠনের পথে ইসরাইলি বিরোধী নেতারা শ্রমিক আন্দোলনে যদি ফ্যাসিস্টদের অনুপ্রবেশ ঘটে, এর দায়ভার সরকারের: নাহিদ ইসলাম কাউনিয়ায় জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ পেকুয়ায় অটোরিকশার সংঘর্ষে পিষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিশাল অবৈধ অর্থ দিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা: প্রস্তুত সরকার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা কুড়িগ্রামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত জামালপুরের মেলান্দহে কাঁঠালগাছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রৌঢ়ের মৃত্যু

এক অসহায় প্রবাসীর করুন কাহিনী

সিঙ্গাপুর থেকে শফিকুল ইসলাম রিপন
  • আপডেট সময় : ১০:১৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মার্চ ২০২৩ ১৭৮ বার পড়া হয়েছে

এক অসহায় প্রবাসীর করুন কাহিনী

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এক অসহায় প্রবাসীর করুন কাহিনী। সবাই বলে প্রবাসীরা বেঈন। বিদেশে আসলেই নাকি সবাইকে ভুলে নিজে সুখে থাকতে চায়। দেশের বাবা, মা, ভাই, বোনদের ঠকায়। শুনেন একা অসহায় মালোশিয়া প্রবাসীর সঙ্গে কি ঘটেছে।

রাজন ভাই(ছদ্মনাম) ৮-৯ বছর মালোশিয়াতে কাজ করেছে। এই ৮-৯ বছরে সে বহু পরিশ্রম করে মাসে যতো টাকা ইনকাম করেছে সব টাকা মা-বাবার হাতে তুলে দিয়েছে, একটা টাকাও সে নিজের জন্য রাখেনি।

সেই টাকা দিয়ে বাবা-মা তার মেয়েদের বিয়ে দিয়েছে আর বাড়িতে থাকা ছেলের জন্য ব্যাবসা দিছে জায়গা কিনছে আর ঘর দিছে।

কখনোই রাজন ভাই জানতে চায়নি বাবা-মায়ের কাছে যে তারা টাকা দিয়ে তারা কি করছে।

দেশে এসে দেখে তার জন্য কিছুই নেই,
সব টাকা ও জমিজমা ছোট ভাই নিয়ে নিছে।
এখন বাবা-মা ও তাকে দেখতে চায়না।

নিজের বিয়ে করা বউয়ের কাছেও সে একটা টাকা জমা রাখেনি। একটি ছোট্ট ২ বছরের মেয়ে নিয়ে এখন সেই খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছে,
না পারছে মানুষের কাছে হাত পেতে চাইতে।

কিছু দিন সে বাকিতে মুরগির ব্যাবসা করেছে আর এখন মুরগির দাম বেশি দেখে কেউ বাঁকিতে মুরগী দিচ্ছে না। তাই সে তার এই ছোট্ট মেয়েটাকে নিয়ে অনেক কষ্টে আছে।

গতকাল আমাকে সে ভাই বললো যে ভাই যদি পারেন তো আমাকে দেশেই একটা কাজের জোগার করে দেন যাতে মেয়েটাকে নিয়ে দুই ভেলা খেতে পারি।

সামনে রোজা আসছে কি করবো বুঝতে পারছিনা। তার কথা গুলো সুনে সত্যি চোখে পানি চলে আসলো।

হায়রে প্রবাসী তোরা এমন কেন? কেন সারাজীবন নিজের চিন্তা না করে পরিবারের জন্য সব কিছু শেষ করে দিস। এই প্রবাসীরা কাকে বিশ্বাস করবে?

বাবা-মা,ভাই-বোন নাকি বউকে?
কেন সবাই এই প্রবাসীদের এমন করে ঠকায়।
আজকে শুধু এই ভাই নয়,,, এমন হাজার হাজার ভাই পরিবারের থেকে এমন প্রতারিত হচ্ছে।

এমন করে আর কতো রাজন ভাই নিরবে কাঁদবে।

তাই অনুরোধ করে বলছি দয়া করে মাস শেষে সব টাকা বাড়িতে না পাঠিয়ে কিছু টাকা নিজের জন্য রেখে দিও ভাইরা। যেখানে নিজের বাবা-মা, ভাই-বোন বেঈমানী করে সেখানে কাকে তুমি বিশ্বাস করবে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

এক অসহায় প্রবাসীর করুন কাহিনী

আপডেট সময় : ১০:১৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মার্চ ২০২৩

এক অসহায় প্রবাসীর করুন কাহিনী। সবাই বলে প্রবাসীরা বেঈন। বিদেশে আসলেই নাকি সবাইকে ভুলে নিজে সুখে থাকতে চায়। দেশের বাবা, মা, ভাই, বোনদের ঠকায়। শুনেন একা অসহায় মালোশিয়া প্রবাসীর সঙ্গে কি ঘটেছে।

রাজন ভাই(ছদ্মনাম) ৮-৯ বছর মালোশিয়াতে কাজ করেছে। এই ৮-৯ বছরে সে বহু পরিশ্রম করে মাসে যতো টাকা ইনকাম করেছে সব টাকা মা-বাবার হাতে তুলে দিয়েছে, একটা টাকাও সে নিজের জন্য রাখেনি।

সেই টাকা দিয়ে বাবা-মা তার মেয়েদের বিয়ে দিয়েছে আর বাড়িতে থাকা ছেলের জন্য ব্যাবসা দিছে জায়গা কিনছে আর ঘর দিছে।

কখনোই রাজন ভাই জানতে চায়নি বাবা-মায়ের কাছে যে তারা টাকা দিয়ে তারা কি করছে।

দেশে এসে দেখে তার জন্য কিছুই নেই,
সব টাকা ও জমিজমা ছোট ভাই নিয়ে নিছে।
এখন বাবা-মা ও তাকে দেখতে চায়না।

নিজের বিয়ে করা বউয়ের কাছেও সে একটা টাকা জমা রাখেনি। একটি ছোট্ট ২ বছরের মেয়ে নিয়ে এখন সেই খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছে,
না পারছে মানুষের কাছে হাত পেতে চাইতে।

কিছু দিন সে বাকিতে মুরগির ব্যাবসা করেছে আর এখন মুরগির দাম বেশি দেখে কেউ বাঁকিতে মুরগী দিচ্ছে না। তাই সে তার এই ছোট্ট মেয়েটাকে নিয়ে অনেক কষ্টে আছে।

গতকাল আমাকে সে ভাই বললো যে ভাই যদি পারেন তো আমাকে দেশেই একটা কাজের জোগার করে দেন যাতে মেয়েটাকে নিয়ে দুই ভেলা খেতে পারি।

সামনে রোজা আসছে কি করবো বুঝতে পারছিনা। তার কথা গুলো সুনে সত্যি চোখে পানি চলে আসলো।

হায়রে প্রবাসী তোরা এমন কেন? কেন সারাজীবন নিজের চিন্তা না করে পরিবারের জন্য সব কিছু শেষ করে দিস। এই প্রবাসীরা কাকে বিশ্বাস করবে?

বাবা-মা,ভাই-বোন নাকি বউকে?
কেন সবাই এই প্রবাসীদের এমন করে ঠকায়।
আজকে শুধু এই ভাই নয়,,, এমন হাজার হাজার ভাই পরিবারের থেকে এমন প্রতারিত হচ্ছে।

এমন করে আর কতো রাজন ভাই নিরবে কাঁদবে।

তাই অনুরোধ করে বলছি দয়া করে মাস শেষে সব টাকা বাড়িতে না পাঠিয়ে কিছু টাকা নিজের জন্য রেখে দিও ভাইরা। যেখানে নিজের বাবা-মা, ভাই-বোন বেঈমানী করে সেখানে কাকে তুমি বিশ্বাস করবে।

Facebook Comments Box