ঢাকা ০৬:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৌদিতে হুথি হামলার নিন্দা জানাল কাতার মন্ত্রিসভা স্বাস্থ্য খাতের ডিজিটাল রূপান্তরে প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন প্রতিমন্ত্রী সাতক্ষীরায় যুবককে পিটিয়ে মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির কানাডার সামরিক প্রশিক্ষণ ঘাঁটিতে অগ্নিকাণ্ড, নিহত অন্তত সাত কাতারে গ্রেপ্তার বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান ময়মনসিংহে লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবসে বাউল আসর বার্সেলোনার অপ্রতিরোধ্য গোলবন্যা: ১১ ম্যাচে ৪৮ গোল সংবিধান সংশোধন বিতর্ক ও আবুল মনসুর আহমদের ধর্মনিরপেক্ষ দর্শন

স্বাস্থ্য খাতের ডিজিটাল রূপান্তরে প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৮:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্বাস্থ্য খাতের ডিজিটাল রূপান্তর নিশ্চিত করা এবং রোগীদের জন্য একটি সমন্বিত ও নিরাপদ তথ্যভাণ্ডার তৈরি করার লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই উদ্যোগের বিস্তারিত জানানো হয়। এই প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যসেবার বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। এর মাধ্যমে প্রাথমিক ধারণাগুলোকে বাস্তবায়নযোগ্য ও কার্যকর ডিজিটাল সমাধানে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানান, বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিভিন্ন উদ্যোগ বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হওয়ায় সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতি বদলাতে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন ব্যবস্থাকে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার বা সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি করা হবে, যেখানে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন, ওষুধের ইতিহাস এবং ল্যাবরেটরির পরীক্ষার তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এই তথ্যভাণ্ডার ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য গবেষণায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একজন নাগরিক চিকিৎসকের কাছে গেলে, ওষুধ কিনলে কিংবা পরীক্ষাগারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে তার চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য এতে যুক্ত হতে পারে।

তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যতথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় এই খাতের উন্নয়ন সম্ভব হলেও তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। তার মতে, স্বাস্থ্যতথ্য কাজে লাগিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে আগ্রহী তরুণ উদ্ভাবকেরা আগামী এক মাস ধরে অনলাইনে নিবন্ধন করতে পারবেন। নিবন্ধনের পর বাছাইকৃত দলগুলোকে নিয়ে ঢাকায় তিন দিনব্যাপী একটি বুটক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দেশি ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা তাদের কাজের উন্নয়ন ও বাস্তবায়নে দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন অনুষ্ঠানে বলেন, একটি উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা সম্ভব, যা ঢাকার বাইরের তরুণদের উদ্ভাবনী ধারণাকে সরকারের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছে দেবে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের বাজারের আকার প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার। তবে নির্ভরযোগ্য ও সুসংগঠিত তথ্যের অভাবে এই খাতের প্রকৃত সম্ভাবনা নিরূপণ করা কঠিন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডিজিটাল রূপান্তর ও তথ্যের সমন্বয় নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে এই খাতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. রাজেশ নারওয়াল, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা, ইউনিসেফের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মালালয় আহমাদজাই, এডিএন টেলিকম লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ, বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের পরিচালক ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেননুর এবং বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অপারেশনস কর্মকর্তা ইফফাত মাহমুদ। তরুণদের এই উদ্ভাবনী শক্তি যেন হারিয়ে না যায়, বরং কার্যকর সেবায় রূপান্তরিত হয়—এই লক্ষ্যেই সরকার এই প্রতিযোগিতার আয়োজন সম্পন্ন করেছে। Do Not Sell or Share My Personal Information। We won’t sell or share your personal information to inform the ads you see। You may still see interest-based ads if your information is sold or shared by other companies or was sold or shared previously।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

স্বাস্থ্য খাতের ডিজিটাল রূপান্তরে প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার

আপডেট সময় : ০৬:০৮:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

স্বাস্থ্য খাতের ডিজিটাল রূপান্তর নিশ্চিত করা এবং রোগীদের জন্য একটি সমন্বিত ও নিরাপদ তথ্যভাণ্ডার তৈরি করার লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই উদ্যোগের বিস্তারিত জানানো হয়। এই প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যসেবার বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। এর মাধ্যমে প্রাথমিক ধারণাগুলোকে বাস্তবায়নযোগ্য ও কার্যকর ডিজিটাল সমাধানে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানান, বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিভিন্ন উদ্যোগ বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হওয়ায় সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতি বদলাতে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন ব্যবস্থাকে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার বা সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি করা হবে, যেখানে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন, ওষুধের ইতিহাস এবং ল্যাবরেটরির পরীক্ষার তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এই তথ্যভাণ্ডার ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য গবেষণায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একজন নাগরিক চিকিৎসকের কাছে গেলে, ওষুধ কিনলে কিংবা পরীক্ষাগারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে তার চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য এতে যুক্ত হতে পারে।

তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যতথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় এই খাতের উন্নয়ন সম্ভব হলেও তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। তার মতে, স্বাস্থ্যতথ্য কাজে লাগিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে আগ্রহী তরুণ উদ্ভাবকেরা আগামী এক মাস ধরে অনলাইনে নিবন্ধন করতে পারবেন। নিবন্ধনের পর বাছাইকৃত দলগুলোকে নিয়ে ঢাকায় তিন দিনব্যাপী একটি বুটক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দেশি ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা তাদের কাজের উন্নয়ন ও বাস্তবায়নে দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন অনুষ্ঠানে বলেন, একটি উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা সম্ভব, যা ঢাকার বাইরের তরুণদের উদ্ভাবনী ধারণাকে সরকারের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছে দেবে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের বাজারের আকার প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার। তবে নির্ভরযোগ্য ও সুসংগঠিত তথ্যের অভাবে এই খাতের প্রকৃত সম্ভাবনা নিরূপণ করা কঠিন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডিজিটাল রূপান্তর ও তথ্যের সমন্বয় নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে এই খাতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. রাজেশ নারওয়াল, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা, ইউনিসেফের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মালালয় আহমাদজাই, এডিএন টেলিকম লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ, বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের পরিচালক ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেননুর এবং বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অপারেশনস কর্মকর্তা ইফফাত মাহমুদ। তরুণদের এই উদ্ভাবনী শক্তি যেন হারিয়ে না যায়, বরং কার্যকর সেবায় রূপান্তরিত হয়—এই লক্ষ্যেই সরকার এই প্রতিযোগিতার আয়োজন সম্পন্ন করেছে। Do Not Sell or Share My Personal Information। We won’t sell or share your personal information to inform the ads you see। You may still see interest-based ads if your information is sold or shared by other companies or was sold or shared previously।

Facebook Comments Box