অলৌকিক পুকুরে এক ডুবেই দৃষ্টি ফেরার বিশ্বাস
- আপডেট সময় : ০৭:৫১:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬ ২৫০০৪ বার পড়া হয়েছে
অলৌকিক পুকুরে এক ডুবেই দৃষ্টি ফেরার বিশ্বাস
নওগাঁর মান্দা উপজেলার ঐতিহাসিক ঠাকুরমান্দা রঘুনাথ জিউ মন্দির প্রাঙ্গণে চৈত্র মাসের শুক্লা নবমী তিথি উপলক্ষে শুরু হয়েছে ১০ দিনব্যাপী শ্রী শ্রী রামচন্দ্রের জন্মোৎসব ও রামনবমী মেলা। ‘এক ডুবেই চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়া যায়’- এমন অলৌকিক বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে মন্দিরসংলগ্ন পুকুরে নেমেছে হাজারো মানুষের ঢল।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোর থেকে শুরু হওয়া উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতায় দিনভর ভক্তদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। প্রতি বছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পুণ্যার্থীদের পদচারণায় মন্দির প্রাঙ্গণ পরিণত হয়েছে এক বিশাল মিলনমেলায়।
পড়ুন>> ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে কুড়িগ্রাম দিশেহারা: ৮৫০ কোটি টাকার তীর সংরক্ষণ প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায়
উৎসবকে ঘিরে ৯ থেকে ১০ দিনব্যাপী চলছে নানা ধর্মীয় আয়োজন। পূজা, আরতি, প্রার্থনা ও মানতের মধ্য দিয়ে ভক্তরা কাটাচ্ছেন দিন। মন্দির চত্বরজুড়ে তৈরি হয়েছে গভীর আবেগঘন পরিবেশ।
সরেজমিনে দেখা যায়, অনেকে প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে অপেক্ষা করছেন—সন্তানের সুস্থতা কিংবা চোখের আলো ফিরে পাওয়ার আশায়। কেউ কেউ মানত হিসেবে অর্থ ছিটিয়ে দিচ্ছেন। বিশ্বাস, কান্না আর প্রার্থনায় এক ভিন্ন আবহ তৈরি হয়েছে পুরো এলাকায়।
পড়ুন>>আলমখালী ফসল রক্ষা বাঁধ পরিদর্শনে এমপি কামরুল
স্থানীয়দের মতে, বহু বছর আগে এক অন্ধ ভক্ত এখানে এসে পুকুরে স্নান করার পর দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান। সেই ঘটনার পর থেকেই পুকুরটি ‘অলৌকিক’ হিসেবে পরিচিতি পায়। ধীরে ধীরে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থানে রূপ নেয়। এই বিশ্বাস থেকেই প্রতিবছর হাজারো মানুষ পুকুরে ডুব দিয়ে আশীর্বাদ কামনা করেন।
মেলায় এবার বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে শিশু-কিশোরদের পদ্মপাতা মাথায় দিয়ে পূজা করার দৃশ্য। এছাড়া নির্মাণাধীন নতুন মন্দিরের দোতলা এলাকাতেও ভক্তদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
উৎসবের মূল আয়োজনে অংশ নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার মনোজ কুমার এবং নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু। তারা মন্দির পরিদর্শন করে ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
মন্দির কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনোজিৎ কুমার সরকার জানান, এই ঐতিহাসিক মন্দিরে এসে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। ভক্তদের গভীর বিশ্বাস সত্যিই প্রশংসনীয়। এই আয়োজন শুধু ধর্মীয় নয়, বরং উত্তরবঙ্গের একটি অসাম্প্রদায়িক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।”
আরও পড়ুন>> ভুয়া এসআই পরিচয়ে থানায় প্রতারণার চেষ্টা করতে ধরা খেলেন যুবক
ঢাকা থেকে আসা লক্ষ্মী সরকার বলেন, “এই মন্দির আমাদের বিশ্বাসের জায়গা। এখানে মানত করলে তা পূরণ হয়—এমন ধারণা বহুদিনের।”
আরও পড়ুন>>রাণীশংকৈলে ফেসবুকে মহানবী (সা:) নিয়ে কটুক্তি করায় যুবক গ্রেপ্তার
রাজশাহী থেকে আগত শুভজিৎ রায় বলেন, “আমরা প্রতিবছর পরিবারসহ আসি। অনেকেই বিশ্বাস করেন, এখানে প্রার্থনা করলে সন্তান লাভ হয়।”
সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু বলেন,
“ঠাকুরমান্দার এই মন্দির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক। লাখো মানুষের সমাগম আমাদের সহাবস্থানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”
মান্দা থানার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল গনি জানান,
পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে ভক্তরা নির্বিঘ্নে তাদের ধর্মীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেন।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


























