সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে আটকা স্থলবন্দরগামী ট্রাক
- আপডেট সময় : ০২:৩১:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬ ৩৮৯৮৭ বার পড়া হয়েছে
সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে আটকা স্থলবন্দরগামী ট্রাক
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় প্রায় ১৪০ বছরের পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। বুধবার (১ জুলাই) সকালে সেতুর স্টিল অংশের একটি পাটাতন ভেঙে বালুবাহী একটি ড্রাম ট্রাক আটকে পড়ে। এ ঘটনায় ট্রাকসহ সব ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ফলে সেতুর দুই প্রান্তে যানবাহনের দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও সেতুটি দিয়েই বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছিল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেতুটির বিভিন্ন স্থানে পাটাতন ভেঙে গেছে এবং লোহার প্লেট বা ট্যাংক জ্যাম খুলে গেছে। তবুও জীবিকা ও প্রয়োজনের তাগিদে স্থানীয় মানুষ ও যানবাহন ঝুঁকি নিয়েই সেতুটি ব্যবহার করে আসছিল।
পড়ুন>>ভূরুঙ্গামারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ১০ কেজি চাল বিতরণ
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৮৭ সালে লালমনিরহাট থেকে ভারতের গৌহাটি পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন করা হয়। এরই অংশ হিসেবে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদের ওপর নির্মাণ করা হয় প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট দীর্ঘ সোনাহাট রেলসেতু। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সেতুটির একটি অংশ ধ্বংস করে দেওয়া হয়। স্বাধীনতার দীর্ঘদিন পর এরশাদ সরকারের আমলে সেতুটি সংস্কার করে ভূরুঙ্গামারীর দক্ষিণাঞ্চলের তিনটি ইউনিয়ন, কচাকাটা ও মাদারগঞ্জ এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়।
নির্মাণকালে সেতুটির আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০০ বছর। সে হিসেবে প্রায় ৪০ বছর আগেই সেতুটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, নড়বড়ে এ সেতুটি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যেতে পারে সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম।
পড়ুন>> নির্বাচনে জয়; ঋণখেলাপির অভিযোগে এমপি হওয়া হলো না আসলামের
এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতুর পাশেই দুধকুমার নদের দক্ষিণে ১৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৪৫ মিটার দীর্ঘ নতুন সোনাহাট সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। প্রকল্পটির মেয়াদ দুই বছর নির্ধারণ করা হলেও আট বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। ফলে দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সেতুপাড়ের ব্যবসায়ী ফরিদুল, শফিকুল ও নুর ইসলাম জানান, পাথরবোঝাই ট্রাক সেতু দিয়ে পার হওয়ার সময় পুরো সেতু কেঁপে ওঠে। এছাড়া সরু সেতু দিয়ে একটি ট্রাক চলাচলের সময় অন্য যানবাহনের চলাচলের সুযোগ থাকে না। ফলে দুই প্রান্তে প্রায়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী আবু হেনা মাসুম বলেন, সেতুর পাটাতন নিয়মিত ভেঙে যায় এবং সড়ক বিভাগ তা মেরামত করে। কিন্তু এ গুরুত্বপূর্ণ সেতু দিয়ে পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে স্থলবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে।
আরও পড়ুন>>নাগেশ্বরীতে বিয়ের দাবিতে তরুণীর অনশন: প্রেমিকসহ পরিবার পলাতক
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ জানান, সেতুটি দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ওভারলোড বহনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, সেতুটি মেরামতের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মেরামত শেষে অল্প সময়ের মধ্যেই যান চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রয়োজনে এটিকে আরও সংক্ষিপ্ত করে পত্রিকার উপযোগী সংস্করণও তৈরি করা যেতে পারে।
























