ঢাকা ০৬:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারত বাংলাদেশ-নেপালের চেয়ে খারাপ হতে পারে: মন্ত্রী ইরফান আনসারি চাঁদপুরে ৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা রমজানের আগেই রাজধানীর বাজারে ছোলার দামে বড় ঝাঁকুনি শর্টকাট পথে অর্থ উপার্জনে ভালো আইনজীবী হওয়া সম্ভব নয়: আইনমন্ত্রী ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিরসনে ট্রাম্পের সঙ্গে কাতারের আমিরের ফোনালাপ মরিশাসে কাচের বাক্স চাপায় প্রাণ গেল তিন বাংলাদেশির চ্যাটজিপিটির ফিন্যান্স টুলে যুক্ত হলো ভয়েস সুবিধা মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, নিষেধাজ্ঞা নামমাত্র ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নতুন ইতিহাস হাসান মাহমুদের সিলেট টেস্ট: ৩৫৬ রানে অলআউট ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ওপেনিংয়ে নাঈম

রমজানের আগেই রাজধানীর বাজারে ছোলার দামে বড় ঝাঁকুনি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৫:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রমজান মাস শুরু হতে এখনো কয়েক মাস বাকি থাকলেও রাজধানীতে ছোলার দাম বাড়তে শুরু করেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি ছোলা ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহেও ছিল ১০০ টাকার নিচে। ছোলার পাশাপাশি ছোলার ডালের দামও বেড়েছে; এখন তা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এরই মধ্যে রাজধানীর বাজারে ছোলার দাম বেড়েছে কেজিতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ টাকা।

মালিবাগ এলাকার ভাই ভাই স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, পাইকারি আড়তদারদের পক্ষ থেকে দাম বাড়িয়ে দেওয়ার কারণে খুচরা পর্যায়ে এই প্রভাব পড়েছে। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে যে ছোলা ৯২ থেকে ৯৫ টাকা কেজি দরে কেনা যেত, এখন তা পাইকারিতেই ১০২ থেকে ১০৫ টাকা পড়ছে। এই অকাল মূল্যবৃদ্ধিকে সাধারণ মানুষ সিন্ডিকেটের কারসাজি হিসেবে দেখছেন। বেসরকারি চাকরিজীবী জামিল হোসেনের মতে, প্রতি বছর রমজানকে কেন্দ্র করে আগেভাগেই অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেটে চাপ সৃষ্টি করে।

রাজধানীর বাজারগুলোতে অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামের চিত্রও বেশ মিশ্র। আদা ও রসুনের দাম এখনো চড়া রয়েছে; প্রতি কেজি রসুন ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা এবং আদা ১৪০ থেকে ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট এখনো কাটেনি, প্রতি লিটার তেল ২০৫ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও মানভেদে মসুর ডাল ৯০ থেকে ১৫৫ টাকা এবং চিনি ১১০ থেকে ১১৫ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

অবশ্য ডিমের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে। পাইকারি বাজার-সংলগ্ন এলাকায় প্রতি ডজন ডিম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ১০ টাকা কম। শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় অধিকাংশ সবজির দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকায় নেমেছে, তবে বেগুন, শসা ও গাজরের দাম এখনো কিছুটা বেশি। গ্রীষ্মকালীন সবজিগুলো বর্তমানে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দামও কিছুটা কমেছে; বর্তমানে প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, যা আগে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

মুরগির বাজারে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৫০ থেকে ৫৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারও চড়া; পাঙাশ ২২০ থেকে ২৬০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং রুই ও কাতলা মাছ ৩৬০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকার ও মানভেদে চিংড়ি মাছ ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রমজানের আগেই রাজধানীর বাজারে ছোলার দামে বড় ঝাঁকুনি

আপডেট সময় : ০৫:০৫:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

রমজান মাস শুরু হতে এখনো কয়েক মাস বাকি থাকলেও রাজধানীতে ছোলার দাম বাড়তে শুরু করেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি ছোলা ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহেও ছিল ১০০ টাকার নিচে। ছোলার পাশাপাশি ছোলার ডালের দামও বেড়েছে; এখন তা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এরই মধ্যে রাজধানীর বাজারে ছোলার দাম বেড়েছে কেজিতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ টাকা।

মালিবাগ এলাকার ভাই ভাই স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, পাইকারি আড়তদারদের পক্ষ থেকে দাম বাড়িয়ে দেওয়ার কারণে খুচরা পর্যায়ে এই প্রভাব পড়েছে। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে যে ছোলা ৯২ থেকে ৯৫ টাকা কেজি দরে কেনা যেত, এখন তা পাইকারিতেই ১০২ থেকে ১০৫ টাকা পড়ছে। এই অকাল মূল্যবৃদ্ধিকে সাধারণ মানুষ সিন্ডিকেটের কারসাজি হিসেবে দেখছেন। বেসরকারি চাকরিজীবী জামিল হোসেনের মতে, প্রতি বছর রমজানকে কেন্দ্র করে আগেভাগেই অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেটে চাপ সৃষ্টি করে।

রাজধানীর বাজারগুলোতে অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামের চিত্রও বেশ মিশ্র। আদা ও রসুনের দাম এখনো চড়া রয়েছে; প্রতি কেজি রসুন ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা এবং আদা ১৪০ থেকে ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট এখনো কাটেনি, প্রতি লিটার তেল ২০৫ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও মানভেদে মসুর ডাল ৯০ থেকে ১৫৫ টাকা এবং চিনি ১১০ থেকে ১১৫ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

অবশ্য ডিমের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে। পাইকারি বাজার-সংলগ্ন এলাকায় প্রতি ডজন ডিম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ১০ টাকা কম। শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় অধিকাংশ সবজির দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকায় নেমেছে, তবে বেগুন, শসা ও গাজরের দাম এখনো কিছুটা বেশি। গ্রীষ্মকালীন সবজিগুলো বর্তমানে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দামও কিছুটা কমেছে; বর্তমানে প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, যা আগে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

মুরগির বাজারে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৫০ থেকে ৫৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারও চড়া; পাঙাশ ২২০ থেকে ২৬০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং রুই ও কাতলা মাছ ৩৬০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকার ও মানভেদে চিংড়ি মাছ ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।

Facebook Comments Box