লিওনেল মেসির মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) যোগ দেওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল লিগের জনপ্রিয়তা ও আকর্ষণ বহুগুণ বেড়েছে। চলতি গ্রীষ্মকালীন দলবদলের মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ লিগ মাতানো তারকাদের যেন ঢল নেমেছে এমএলএসে। আগামী ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দলবদলের জানালা খোলা থাকলেও এরই মধ্যে গ্রিজমান, লেভানডফস্কি, কাসেমিরো ও আলেক্সিস সানচেজের মতো বিশ্বখ্যাত ফুটবলাররা নতুন ঠিকানায় নাম লিখিয়েছেন।
ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড আতোয়ান গ্রিজমান গত ১৩ জুলাই অরল্যান্ডো সিটিতে যোগ দিয়েছেন। ২০১৬ ও ২০১৮ সালের ব্যালন ডি’অর তালিকায় তৃতীয় স্থান অর্জনকারী এই তারকা নিজের অভিষেক ম্যাচেই সান হোসে আর্থকোয়েকসের বিপক্ষে গোল করে জাত চিনিয়েছেন। ৪-০ গোলের সেই জয়টি ছিল ক্লাব ফুটবলে তাঁর ক্যারিয়ারের ৩০০তম গোল।
অন্যদিকে, পোলিশ স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডফস্কি জুনের শেষ দিকে শিকাগো ফায়ারে যোগ দেন। বার্সেলোনা থেকে আসা ৩৭ বছর বয়সী এই গোলমেশিন নিজের তৃতীয় ম্যাচেই শার্লটের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেছেন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ২০১৯-২০ মৌসুমে ৫৫ গোল করা লেভা ইউরোপের ফুটবলে নিয়মিত ২০ থেকে ৩০টির বেশি গোল করার রেকর্ড ধরে রেখেছিলেন।
চিলির তারকা আলেক্সিস সানচেজ গোল করা ও করানোর দক্ষতায় নিজেকে প্রমাণ করতে মন্ট্রিয়লের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করেছেন। তবে এবারের দলবদলের সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি কাসেমিরো। রিয়াল মাদ্রিদে নয় বছরের ক্যারিয়ারে সব বড় শিরোপা জেতা এই ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার এখন লিওনেল মেসির সতীর্থ হিসেবে ইন্টার মায়ামিতে খেলছেন। ২০১১ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর থেকে ৯১টি ম্যাচ খেলা কাসেমিরো সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপেও জাপানের বিপক্ষে গোল করেছেন।
ইন্টার মায়ামিতে কাসেমিরোর উপস্থিতি মাঝমাঠের শক্তি বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সিতে যোগ দিয়েছেন মেসির সাবেক বার্সেলোনা সতীর্থ সার্জি রবার্তো এবং কলম্বাস ক্রুর নতুন সদস্য হয়েছেন এরিক বেইলি। এর আগে গত বছর টটেনহাম ছেড়ে রেকর্ড ২ কোটি ৬৫ লাখ ডলারে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসিতে যোগ দিয়েছিলেন সন হিউং-মিন। একই সময়ে বায়ার্ন মিউনিখের টমাস মুলার ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসে এবং হামেস রদ্রিগেজ মিনেসোটা ইউনাইটেডে নাম লিখিয়েছিলেন।
এমএলএসে তারকাদের আগমন নতুন নয়। এর আগে ২০১৫ সালে আন্দ্রে পিরলো, ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড, স্টিভেন জেরার্ড, কাকা ও দিদিয়ের দ্রগবার মতো কিংবদন্তিরা এই লিগে খেলেছেন। তবে ২০২৩ সালে মেসির আগমনে লিগটির বৈশ্বিক পরিচিতি ও মান আমূল বদলে যায়। মেসির সঙ্গে সার্জিও বুসকেতস ও জর্দি আলবার যোগ দেওয়া ইন্টার মায়ামির ইতিহাসের প্রথম শিরোপা জয়ের পথ প্রশস্ত করেছিল।
চলতি মৌসুমের বাকি সময়ে আরও কোনো বড় তারকা এমএলএসে যোগ দেন কি না, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে। গ্রিজমান, লেভানডফস্কি ও কাসেমিরোর মতো তারকারা এমএলএসকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে শামিল হয়েছেন, যা লিগটির প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করছে।
ইউরোপে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রায় নিয়মিতই মৌসুমে ২০ থেকে ৩০টির বেশি গোল করেছেন তিনি। ২০১৯-২০ মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের ঐতিহাসিক ছয় ট্রফি জয়ের পথে করেছিলেন ৫৫ গোল। করোনা মহামারির কারণে ব্যালন ডি’অর স্থগিত না হলে সেবারের পুরস্কারের সবচেয়ে বড় দাবিদার ছিলেন তিনি। নামের তালিকাই বলে দিচ্ছে, এবারের গ্রীষ্মটা এমএলএসের জন্য কতটা ব্যতিক্রমী।
বিশ্বকাপজয়ী, ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু জয়ী, কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন থেকে শুরু করে একাধিকবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা ফুটবলার—সবাই আছেন এই দলে। গ্রিজমানের কিছুদিন আগেই এমএলএসে নাম লেখান আরেক ইউরোপীয় গোলমেশিন লেভানডফস্কি।
বার্সেলোনায় নিজের শেষের আগের মৌসুমেও করেছিলেন ৪২ গোল, আর গত মৌসুম শেষ করেছেন ১৯ গোল নিয়ে। রিয়াল মাদ্রিদে ৯ বছর খেলে ক্লাব ফুটবলের প্রায় সব বড় শিরোপা জেতা ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার এবার লিওনেল মেসির সতীর্থ ইন্টার মায়ামিতে।
২০১১ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর ব্রাজিলের হয়ে খেলেছেন ৯১ ম্যাচ। সময়টা খুব দীর্ঘ না হলেও মায়ামির মাঝমাঠে তাঁর প্রভাব পড়বে বলেই আশা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এমএলএসের ইতিহাসে মর্যাদার বিচারে এটিই সেরা দলবদলের মৌসুম কি না, সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে। এত তারকার ঢল অবশ্য এমএলএসে একেবারে নতুন নয়।
তবে বৈশ্বিক ফুটবলে যুক্তরাষ্ট্রের লিগটি সত্যিকার অর্থে আলোড়ন তোলে ২০২৩ সালে। এই তিনজনের হাত ধরে ক্লাবটি জেতে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম শিরোপা, পরে যোগ হয় আরও সাফল্য।
প্র/ আ
Leave a Reply