ঢাকা ০৪:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো ইচ্ছা নেই: তথ্যমন্ত্রী রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানাল জামায়াত মালয়েশিয়ায় পাহাড়ধসে নিখোঁজ বাংলাদেশির সন্ধান মিলল আজ শুরু নোবেল মৌসুম: চিকিৎসাবিজ্ঞানে আলোচনার শীর্ষে যেসব গবেষণা যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি থেকে বি-১ বোমারু বিমান সরাল যুক্তরাষ্ট্র পল্টন ও প্রেস ক্লাবের সামনে অটোরিকশা চালকদের অবরোধ কর অঞ্চল-রংপুরে ৩৬ কর্মী নিয়োগ: আবেদন করবেন যেভাবে সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক অনুপ্রবেশ ও অবকাঠামো নির্মাণের তীব্র নিন্দা বারবার হামলা, নাসীরুদ্দীনের নিরাপত্তা নিয়ে এনসিপির গভীর উদ্বেগ প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠদান করছেন আড়াই লাখের বেশি শিক্ষক

পাট নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কুড়িগ্রামের চাষিরা

কুড়িগ্রাম থেকে নয়ন দাস
  • আপডেট সময় : ০৪:২৭:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২৮১ বার পড়া হয়েছে

পাট নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কুড়িগ্রামের চাষিরা

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাট নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কুড়িগ্রামের চাষিরা।

 

জেলার হাট বাজারে পাট বিক্রি করতে এসে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এ বছর ফলন ভালো হয়েছে তবে দামে খুশি নন তারা। মৌসুমের শুরুতে দাম ভালো পেলেও বর্তমান বাজারের পাটের দাম অনেক কমেছে।

বর্তমানে প্রতি মণ পাট ১৮০০-২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাভ তো দূরের কথা চাষাবাদের খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার যাত্রাপুর হাটে বসেছে পাটের বাজার। সপ্তাহে দুদিন বসে এ হাট। দুর দূরান্ত থেকে নৌকা, সাইকেল,ঘোড়ার গাড়ি করে পাট বিক্রি করতে এসেছে চাষিরা। তবে হাটে এসে পাটের দাম শুনে মন খারাপ সবারই।

গত হাটের চেয়ে পাটের দাম প্রতি মণে কমেছে ৩০০-৪০০ টাকা। পরিবহন খরচ আর আবাদের খরচ মিলিয়ে তাদের লাভের অঙ্ক প্রায় শূন্যের কোটায়।

কদমতলা গ্রামের মো. নুর ইসলাম বলেন, এক বিঘা জমিতে পাট আবাদ করে সার পানি, কীটনাশক, আঁশ ছড়ানো মজুরি খরচসহ ১৪-১৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়। বিঘায় পাট পাই ৮-১০ মণ। মোট খরচ হিসেবে আমাদের কোনো লাভই থাকে না। কষ্ট করে পাট চাষ করে কী লাভ?

আরেক কৃষক মো. হাসানুর বলেন, গত দুবছর ধরে পাটের দাম ভালো পাচ্ছি না। বৃষ্টি নাই, খরায় পাট গাছের জমিতে বাড়তি পানি দিতে হয়। তাই খরচও বেশি হচ্ছে। সে তুলনায় লাভ তেমন নাই।

ভগবতীপুরের পাট ব্যবসায়ী আসলাম মিয়া বলেন, আমি গ্রাম ঘুরে ১৮০০-১৯০০ টাকা মণে পাটগুলো কিনছিলাম। আজকে সেই কেনা দামেই বিক্রি করতে হলো। পরিবহন খরচ, কুলি খরচ, হাটের খাজনা হিসাব করলে লাভ থাকছে না। গত হাটে এ পাটের দাম ২২০০-২৩০০ টাকা ছিল। দিন যতই যাচ্ছে পাটের দাম ততই কমছে।

আরেক ক্ষুদ্র পাট ব্যবসায়ী জাহেদুল ইসলাম বলেন, গত হাটে পাটের দাম মণপ্রতি ২২০০-২৩০০ টাকা ছিল। আজকে সেই পাটের মণ সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা। দাম না বাড়লে লোকসানে পড়বো।

কুড়িগ্রাম জেলা মুখ্য পাট পরিদর্শকের কার্যালয়ের পাট পরিদর্শক এটিএম খায়রুল হক বলেন, গত দুই সপ্তাহ আগে পাটের দাম ভালো ছিল। এখন পাটের দাম কমছে। কেন না অধিকাংশ ব্যবসায়ী কারখানায় পাট সরবরাহ করে পুরো পাওনা টাকা বুঝিয়ে পায় নাই। তাই ব্যবসায়ীদের হাতে টাকা নাই। ব্যবসায়ীরাও পাট কেনায় আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছেন।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পাট নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কুড়িগ্রামের চাষিরা

আপডেট সময় : ০৪:২৭:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩

পাট নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কুড়িগ্রামের চাষিরা।

 

জেলার হাট বাজারে পাট বিক্রি করতে এসে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এ বছর ফলন ভালো হয়েছে তবে দামে খুশি নন তারা। মৌসুমের শুরুতে দাম ভালো পেলেও বর্তমান বাজারের পাটের দাম অনেক কমেছে।

বর্তমানে প্রতি মণ পাট ১৮০০-২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাভ তো দূরের কথা চাষাবাদের খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার যাত্রাপুর হাটে বসেছে পাটের বাজার। সপ্তাহে দুদিন বসে এ হাট। দুর দূরান্ত থেকে নৌকা, সাইকেল,ঘোড়ার গাড়ি করে পাট বিক্রি করতে এসেছে চাষিরা। তবে হাটে এসে পাটের দাম শুনে মন খারাপ সবারই।

গত হাটের চেয়ে পাটের দাম প্রতি মণে কমেছে ৩০০-৪০০ টাকা। পরিবহন খরচ আর আবাদের খরচ মিলিয়ে তাদের লাভের অঙ্ক প্রায় শূন্যের কোটায়।

কদমতলা গ্রামের মো. নুর ইসলাম বলেন, এক বিঘা জমিতে পাট আবাদ করে সার পানি, কীটনাশক, আঁশ ছড়ানো মজুরি খরচসহ ১৪-১৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়। বিঘায় পাট পাই ৮-১০ মণ। মোট খরচ হিসেবে আমাদের কোনো লাভই থাকে না। কষ্ট করে পাট চাষ করে কী লাভ?

আরেক কৃষক মো. হাসানুর বলেন, গত দুবছর ধরে পাটের দাম ভালো পাচ্ছি না। বৃষ্টি নাই, খরায় পাট গাছের জমিতে বাড়তি পানি দিতে হয়। তাই খরচও বেশি হচ্ছে। সে তুলনায় লাভ তেমন নাই।

ভগবতীপুরের পাট ব্যবসায়ী আসলাম মিয়া বলেন, আমি গ্রাম ঘুরে ১৮০০-১৯০০ টাকা মণে পাটগুলো কিনছিলাম। আজকে সেই কেনা দামেই বিক্রি করতে হলো। পরিবহন খরচ, কুলি খরচ, হাটের খাজনা হিসাব করলে লাভ থাকছে না। গত হাটে এ পাটের দাম ২২০০-২৩০০ টাকা ছিল। দিন যতই যাচ্ছে পাটের দাম ততই কমছে।

আরেক ক্ষুদ্র পাট ব্যবসায়ী জাহেদুল ইসলাম বলেন, গত হাটে পাটের দাম মণপ্রতি ২২০০-২৩০০ টাকা ছিল। আজকে সেই পাটের মণ সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা। দাম না বাড়লে লোকসানে পড়বো।

কুড়িগ্রাম জেলা মুখ্য পাট পরিদর্শকের কার্যালয়ের পাট পরিদর্শক এটিএম খায়রুল হক বলেন, গত দুই সপ্তাহ আগে পাটের দাম ভালো ছিল। এখন পাটের দাম কমছে। কেন না অধিকাংশ ব্যবসায়ী কারখানায় পাট সরবরাহ করে পুরো পাওনা টাকা বুঝিয়ে পায় নাই। তাই ব্যবসায়ীদের হাতে টাকা নাই। ব্যবসায়ীরাও পাট কেনায় আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছেন।

 

Facebook Comments Box