ঢাকা ০১:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরিবেশ সচেতন আগামী প্রজন্ম গড়ার অঙ্গীকারে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে শেষ হলো গ্রিন জেনেসিস ২০২৬ গ্যাস সরবরাহ সংকট: যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানির পথে কাতার দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘর ছাড়ছে দৌলতপুরের বানভাসি মানুষ সুন্দরগঞ্জে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তশিলদারের অনিয়মের বিরুদ্ধে ইউএনও ও জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দেশে ইলিশের ঘাটতি: প্রথমবারের মতো ভারত থেকে আমদানি রাণীশংকৈলে এসিল্যান্ডের বদলি ঠেকাতে রাজপথে জনতা মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা: সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান ব্রিকস নেতাদের পুলিশের পাঁচ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে বদলি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা

পরিবেশ সচেতন আগামী প্রজন্ম গড়ার অঙ্গীকারে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে শেষ হলো গ্রিন জেনেসিস ২০২৬

ফাতিউস ফাহমিদ, ব্যবস্থাপক, যোগাযোগ দপ্তর, ব্র‍্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।
  • আপডেট সময় : ১১:১৯:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

পরিবেশ সচেতন আগামী প্রজন্ম গড়ার অঙ্গীকারে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে শেষ হলো গ্রিন জেনেসিস ২০২৬

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

পরিবেশ সচেতন আগামী প্রজন্ম গড়ার অঙ্গীকারে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে শেষ হলো গ্রিন জেনেসিস ২০২৬

 

 

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে চার দিনব্যাপী জাতীয় পরিবেশভিত্তিক উৎসব ‘গ্রিন জেনেসিস ২০২৬’। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে ৮ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়।

 

 

জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা ছিল এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তাদের নতুন ধারণা, উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা তুলে ধরার জন্য একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়।

 

চার দিনের এই আয়োজনে ছিল বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, প্রদর্শনী, কর্মশালা ও আলোচনা। এসবের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ নিয়ে নিজেদের ভাবনা প্রকাশের পাশাপাশি বাস্তব সমস্যার সম্ভাব্য সমাধানও উপস্থাপন করেন।

এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির আউটরিচ টিম, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিথ্রিইআর), ইয়ুথ ফর আ গ্রিন আর্থ। সেই সাথে সহ আয়োজক হিসেব ছিল ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট ফোরাম, এনভায়রনমেন্টাল ক্লাব, কমিউনিটি সার্ভিস ক্লাব এবং ন্যাচারাল সায়েন্স ক্লাব।

স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী এ আয়োজনে নিবন্ধন করেন। ১২টি বিভাগে জমা পড়ে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি আবেদন। দেশের প্রায় ১০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৫৩টি প্রতিষ্ঠানের ৮৮টি ক্লাব এবং বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৫০ জন প্রতিনিধি এতে অংশ নেন।

উৎসবের প্রথম দিন শুরু হয় ‘আ লেটার টু নেচার’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা প্রকৃতির উদ্দেশে নিজেদের ভাবনা, উদ্বেগ ও প্রত্যাশা তুলে ধরে চিঠি লেখে। প্রকৃতির সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্ববোধ এবং ভবিষ্যৎ পৃথিবী নিয়ে তাদের চিন্তাভাবনা উঠে আসে এই পর্বে।

দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয় ‘ক্লাইমেট সায়েন্স অলিম্পিয়াড’ এবং ‘ক্লাইমেট ওরেটরি’। জলবায়ুবিজ্ঞান, পরিবেশগত পরিবর্তন এবং সমসাময়িক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের জ্ঞান যাচাই করা হয় অলিম্পিয়াডে। অন্যদিকে ক্লাইমেট ওরেটরিতে তরুণরা জলবায়ু ও পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে তাৎক্ষণিক বক্তব্য উপস্থাপন করে নিজেদের বিশ্লেষণী দক্ষতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা প্রদর্শন করে।

তৃতীয় দিনে আয়োজন করা হয় ‘গ্রিন জেনেসিস ইনস্পিরেশন’ শীর্ষক বিশেষ অধিবেশন। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সংকট নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিথ্রিইআর পরিচালক ড. গোলাম রব্বানী। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট লাইফের প্রধান তাহসিনা রহমান শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং এক্ষেত্রে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।

এদিন আরও অনুষ্ঠিত হয় এনভায়রনমেন্টাল প্রজেক্ট ডিসপ্লে, ইকো ডিকোড প্রবলেম-সলভিং চ্যালেঞ্জ, পোস্টার ডিজাইন, ওয়াল ম্যাগাজিন, ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী, এআই আর্ট, এনভায়রনমেন্টাল রিল এবং গ্রিন জার্নালিজমসহ বিভিন্ন সেগমেন্ট।

অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, টেকসই সমাধান, গবেষণা, সৃজনশীল যোগাযোগ এবং পরিবেশবিষয়ক গল্প বলার নতুন নতুন ধারণা উপস্থাপন করেন। এসব আয়োজনের মাধ্যমে তরুণরা শুধু সমস্যা চিহ্নিত করেই থেমে থাকেনি। তারা এসব সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান নিয়েও কাজ করেছে।

উৎসবজুড়ে অংশগ্রহণকারীদের জন্য পাঁচটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালাগুলো পরিচালনা করেন সিথ্রিইআরের ডিরেক্টর ড. গোলাম রব্বানী, অফিস অফ কমিউনিকেশন্সের ডিরেক্টর খায়রুল বাশার, প্রথম আলোর ডিজিটাল কনটেন্ট লিড ও লেখক খায়রুল বাবুই, সিথ্রিইআরের অ্যাসিসটেন্ট ডিরেক্টর শারমিন নাহার নিপা এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অ্যালামনাই সৃজন বণিক।

এসব কর্মশালায় পরিবেশবিষয়ক যোগাযোগ, গবেষণা, সাংবাদিকতা, জনসচেতনতা তৈরি এবং কার্যকর ও সৃজনশীল উপস্থাপনার বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরা হয়।

শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার আরিফুল ইসলাম। তিনি শিক্ষার্থীদের তৈরি বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে ঘুরে দেখেন। তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রকল্পগুলোর পেছনের ভাবনা সম্পর্কে জানতে চান। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা এবং বাস্তব সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য তাদের উৎসাহ দেন।

এই উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ইমেরিটাস ও সিথ্রিইআর এর উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আইনুন নিশাত। তিনি পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তরুণদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জ্ঞান, উদ্ভাবন এবং সচেতনতার সমন্বয়ে কাজ করতে হবে, আর সেই যাত্রায় তরুণরাই সবচেয়ে বড় শক্তি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন আউটরিচ টিমের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর দীপ্তি সরকার।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীতে সাফল্য অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার, সনদ ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

চার দিনব্যাপী তারুণ্যের এই মহোৎসবের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে এসিআই মোটরস। ডিজিটাল পার্টনার হিসেবে ছিল প্রথম আলো।

১২-৯-২০২৬ তারিখের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অফিস অফ কমিউনিকেশন্স এ তথ‍্য জানায়।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পরিবেশ সচেতন আগামী প্রজন্ম গড়ার অঙ্গীকারে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে শেষ হলো গ্রিন জেনেসিস ২০২৬

আপডেট সময় : ১১:১৯:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

পরিবেশ সচেতন আগামী প্রজন্ম গড়ার অঙ্গীকারে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে শেষ হলো গ্রিন জেনেসিস ২০২৬

 

 

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে চার দিনব্যাপী জাতীয় পরিবেশভিত্তিক উৎসব ‘গ্রিন জেনেসিস ২০২৬’। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে ৮ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়।

 

 

জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা ছিল এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তাদের নতুন ধারণা, উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা তুলে ধরার জন্য একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়।

 

চার দিনের এই আয়োজনে ছিল বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, প্রদর্শনী, কর্মশালা ও আলোচনা। এসবের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ নিয়ে নিজেদের ভাবনা প্রকাশের পাশাপাশি বাস্তব সমস্যার সম্ভাব্য সমাধানও উপস্থাপন করেন।

এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির আউটরিচ টিম, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিথ্রিইআর), ইয়ুথ ফর আ গ্রিন আর্থ। সেই সাথে সহ আয়োজক হিসেব ছিল ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট ফোরাম, এনভায়রনমেন্টাল ক্লাব, কমিউনিটি সার্ভিস ক্লাব এবং ন্যাচারাল সায়েন্স ক্লাব।

স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী এ আয়োজনে নিবন্ধন করেন। ১২টি বিভাগে জমা পড়ে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি আবেদন। দেশের প্রায় ১০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৫৩টি প্রতিষ্ঠানের ৮৮টি ক্লাব এবং বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৫০ জন প্রতিনিধি এতে অংশ নেন।

উৎসবের প্রথম দিন শুরু হয় ‘আ লেটার টু নেচার’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা প্রকৃতির উদ্দেশে নিজেদের ভাবনা, উদ্বেগ ও প্রত্যাশা তুলে ধরে চিঠি লেখে। প্রকৃতির সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্ববোধ এবং ভবিষ্যৎ পৃথিবী নিয়ে তাদের চিন্তাভাবনা উঠে আসে এই পর্বে।

দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয় ‘ক্লাইমেট সায়েন্স অলিম্পিয়াড’ এবং ‘ক্লাইমেট ওরেটরি’। জলবায়ুবিজ্ঞান, পরিবেশগত পরিবর্তন এবং সমসাময়িক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের জ্ঞান যাচাই করা হয় অলিম্পিয়াডে। অন্যদিকে ক্লাইমেট ওরেটরিতে তরুণরা জলবায়ু ও পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে তাৎক্ষণিক বক্তব্য উপস্থাপন করে নিজেদের বিশ্লেষণী দক্ষতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা প্রদর্শন করে।

তৃতীয় দিনে আয়োজন করা হয় ‘গ্রিন জেনেসিস ইনস্পিরেশন’ শীর্ষক বিশেষ অধিবেশন। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সংকট নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিথ্রিইআর পরিচালক ড. গোলাম রব্বানী। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট লাইফের প্রধান তাহসিনা রহমান শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং এক্ষেত্রে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।

এদিন আরও অনুষ্ঠিত হয় এনভায়রনমেন্টাল প্রজেক্ট ডিসপ্লে, ইকো ডিকোড প্রবলেম-সলভিং চ্যালেঞ্জ, পোস্টার ডিজাইন, ওয়াল ম্যাগাজিন, ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী, এআই আর্ট, এনভায়রনমেন্টাল রিল এবং গ্রিন জার্নালিজমসহ বিভিন্ন সেগমেন্ট।

অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, টেকসই সমাধান, গবেষণা, সৃজনশীল যোগাযোগ এবং পরিবেশবিষয়ক গল্প বলার নতুন নতুন ধারণা উপস্থাপন করেন। এসব আয়োজনের মাধ্যমে তরুণরা শুধু সমস্যা চিহ্নিত করেই থেমে থাকেনি। তারা এসব সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান নিয়েও কাজ করেছে।

উৎসবজুড়ে অংশগ্রহণকারীদের জন্য পাঁচটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালাগুলো পরিচালনা করেন সিথ্রিইআরের ডিরেক্টর ড. গোলাম রব্বানী, অফিস অফ কমিউনিকেশন্সের ডিরেক্টর খায়রুল বাশার, প্রথম আলোর ডিজিটাল কনটেন্ট লিড ও লেখক খায়রুল বাবুই, সিথ্রিইআরের অ্যাসিসটেন্ট ডিরেক্টর শারমিন নাহার নিপা এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অ্যালামনাই সৃজন বণিক।

এসব কর্মশালায় পরিবেশবিষয়ক যোগাযোগ, গবেষণা, সাংবাদিকতা, জনসচেতনতা তৈরি এবং কার্যকর ও সৃজনশীল উপস্থাপনার বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরা হয়।

শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার আরিফুল ইসলাম। তিনি শিক্ষার্থীদের তৈরি বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে ঘুরে দেখেন। তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রকল্পগুলোর পেছনের ভাবনা সম্পর্কে জানতে চান। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা এবং বাস্তব সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য তাদের উৎসাহ দেন।

এই উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ইমেরিটাস ও সিথ্রিইআর এর উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আইনুন নিশাত। তিনি পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তরুণদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জ্ঞান, উদ্ভাবন এবং সচেতনতার সমন্বয়ে কাজ করতে হবে, আর সেই যাত্রায় তরুণরাই সবচেয়ে বড় শক্তি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন আউটরিচ টিমের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর দীপ্তি সরকার।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীতে সাফল্য অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার, সনদ ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

চার দিনব্যাপী তারুণ্যের এই মহোৎসবের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে এসিআই মোটরস। ডিজিটাল পার্টনার হিসেবে ছিল প্রথম আলো।

১২-৯-২০২৬ তারিখের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অফিস অফ কমিউনিকেশন্স এ তথ‍্য জানায়।

 

 

Facebook Comments Box