জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ০২:৩৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ৬টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি নিউইয়র্কের পথে রওনা হন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান রয়েছেন। এছাড়া সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনীতিক ব্যক্তিত্ব।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এবং জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষুদ্র প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
নিউ ইয়র্কে পৌঁছে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মব্যস্ত হয়ে উঠবেন প্রধানমন্ত্রী। ওইদিন সকালে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে বিশ্বনেতাদের প্রাতঃরাশ সভায় যোগ দেবেন এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি থাকবে। ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে প্রাতঃরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন।
একইদিন বিকালে প্রধানমন্ত্রী ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সভায় যোগ দেবেন। এছাড়া ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেনের উদ্যোগে বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা বিষয়ক সভায় তিনি বক্তব্য রাখবেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ভাষণ দেবেন। ভাষণে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা, বিশ্ব শান্তি, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, রোহিঙ্গা সংকট এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং নতুন সরকারের পক্ষ থেকে বিশ্বমঞ্চে এটিই হবে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম অংশগ্রহণ। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি মোকাবিলা বিষয়ক সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত সাইড ইভেন্টে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইবেন তিনি। ২৪ সেপ্টেম্বরে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবেও তার যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকজন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির সরকারপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠকের সূচি চূড়ান্ত হয়েছে। পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার এবং মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূতের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।
অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে ওয়াল স্ট্রিট ও মেটাসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী। সফর প্রসঙ্গে আসাদ আলম সিয়াম বলেন, “সামগ্রিকভাবে এই সফর বাংলাদেশের নতুন সরকারকে বিশ্বপরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি সহযোগিতা সম্প্রসারণের বড় সুযোগ। এর মাধ্যমে আমরা বিশ্বকে একটি গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল, শান্তিপ্রিয় ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের বার্তা দিতে চাই।” সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই এটি আমাদের জন্য একদিকে যেমন বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত, অন্যদিকে তেমনি বিশেষ মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়।”। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এসব সভায় প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, লস অ্যান্ড ড্যামেজ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের পক্ষে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান তুলে ধরবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসময় তিনি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন এবং স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করবেন।”। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিউ ইয়র্কের কর্মসূচি শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।
সূত্র: দৈনিক এদিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























