ঢাকা ০৯:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মহা-হিসাব নিরীক্ষক কার্যালয়ে ৩৪৭ পদে চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নতুন ট্রাফিক ও সম্পত্তি আইন পাস করল কাতারের শুরা কাউন্সিল শিল্পাঞ্চল ও কেপিআই নিরাপত্তায় আনসার সদস্যদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি: মহাপরিচালক সুন্দরবনে দুই বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনায় পাঁচ জেলে অপহৃত এআই যেন বেকারত্ব না বাড়ায়, সতর্ক থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির মোংলা বন্দর হবে দেশের নতুন অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী মুচলেকা দিয়ে আদালত থেকে জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: চার ভাইসহ পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড ও আটজনের যাবজ্জীবন খুলনায় চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রেল দরপত্র জালিয়াতির তদন্ত নিয়ে গড়িমসি, জানেন না সময়সীমা জিএম

কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের কাশবন এখন চরবাসীর আর্শিবাদ

সাইয়‍্যেদ বাবু সৃষ্টি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৯:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৩ ৪১১ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের কাশবন এখন চরবাসীর আর্শিবাদ

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের কাশবন এখন চরবাসীর আর্শিবাদ।

কাশবনের শুভ্রতায় ছেয়ে গেছে চর ও দ্বীপ চরগুলো।ধরলা তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে জন্ম নেয়া কাশবন প্রকৃতির সৌন্দর্যকে আরো অপরূপ করে তুলেছে। শরতের অবসর দিনে শহরের যান্ত্রিক জীবন ছেড়ে চোখ জুড়াতে মানুষ খুঁজে নিচ্ছে কাশফুলের শুভ্রতা।

কাশফুল শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে নয় বর্তমানে চরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকায় অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে বলে জানান স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে জেগে ওঠা নতুন ও পুরাতন চর ও দ্বীপ চরগুলোর পতিত জমিতে দেখা দিয়েছে কাশের। একরের পর একর জমিতে দোল খাচ্ছে কাশফুল।

শরতের সাদা মেঘের ভেলা আর ধু-ধু বালু চরে কাশবনের কাশফুলের উপস্থিতি সবারই মনে দোলা দেয়। কাশফুল দেখতে দুর দুরান্তর থেকে নানান বয়সী মানুষের সমাগম ঘটে। এই কাশবনগুলো শুধু প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের কাছে প্রিয় নয়,এটি এখন চরবাসীর জন্য আর্শিবাদ ।

সাংসারিক নানান কাজে কাশের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে।জেলার বাইরেও কাশের ব্যাপক চাহিদা।

বিশেষ করে পানের বরজের জন্য রাজশাহী ও বরিশাল অঞ্চলে পান চাষিদের কাছে কাশের প্রচুর চাহিদা।এছাড়া স্থানীয়ভাবে গো খাদ্য সংকট, ঘরের বেড়া তৈরিতে কাশ ছনের প্রয়োজন হয়।

কথা হয় মোল্লার হাট চরের মতিয়ার রহমানের সাথে তিনি বলেন, কাশের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। এক সময় আমরা কাঁচা কাশগুলো কেটে শুধু গরু মহিষের খাদ্যের জন্য সংগ্রহ করতাম।

এখন বিভিন্ন কাজে কাশের ব্যবহার হচ্ছে। নৌকায় করে দুর দুরান্তে কাশ কিনে নিয়ে যাচ্ছে পান চাষিরা। পাইকারি দামে প্রতি হাজার কাশের আটি ৭-৮ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বছরই আমরা চরবাসী এই কাশ থেকে বেশ লাভবান হচ্ছি। এক বিঘা পতিত জমিতে খরচ ছাড়াই ১২-১৫ হাজার টাকার কাশ বিক্রি করে থাকি।

মশালের চরের বাসিন্দা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত বছর নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়েছি। এ বছর ওই জমিতে বালু জমে চর জেগেছে। সেই পতিত জমিতে প্রায় ৫ বিঘা জায়গা জুড়ে হয়েছে কাঁশবন।

এতে কোন খরচ নাই। সাধারণত বন্যা ও বন্যা পরবর্তি সময়ে জেগে ওঠা চরগুলোর পতিত জমিতে কাশ জন্মে। মাত্র দুই-তিন মাস একটু গরু মহিষের হাত থেকে রক্ষা করতে পারলে ভালো কাশ পাওয়া যায়। আশা করছি ৫০-৬০ হাজার টাকার কাশ বিক্রি করতে পারবো।

তিনি আরো বলেন, প্রতি বছরই বন্যার সময় চারণভূমি ডুবে যায়। এসময় গো খাদ্যের সংকট দেখা দেয়। আমরা ধান খড়ের পাশাপাশি কাশ কেটে গো খাদ্যের অভাব পুরণ করে থাকি।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্ত বলেন, কুড়িগ্রাম জেলায় সাড়ে চার শতাধিক চরাঞ্চল রয়েছে।

এছাড়া জেলার ১৬ টি নদ নদী বেষ্টিত চরাঞ্চলগুলোতে খন্ড খন্ডভাবে সহস্রাধিক কাশবন রয়েছে। বর্তমানে কাশবন শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যকে বৃদ্ধি করছে না, পাশাপাশি কাশ বিক্রি করে কৃষকরা ভালো আয় করতে পারছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের কাশবন এখন চরবাসীর আর্শিবাদ

আপডেট সময় : ০৭:৩৯:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৩

কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের কাশবন এখন চরবাসীর আর্শিবাদ।

কাশবনের শুভ্রতায় ছেয়ে গেছে চর ও দ্বীপ চরগুলো।ধরলা তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে জন্ম নেয়া কাশবন প্রকৃতির সৌন্দর্যকে আরো অপরূপ করে তুলেছে। শরতের অবসর দিনে শহরের যান্ত্রিক জীবন ছেড়ে চোখ জুড়াতে মানুষ খুঁজে নিচ্ছে কাশফুলের শুভ্রতা।

কাশফুল শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে নয় বর্তমানে চরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকায় অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে বলে জানান স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে জেগে ওঠা নতুন ও পুরাতন চর ও দ্বীপ চরগুলোর পতিত জমিতে দেখা দিয়েছে কাশের। একরের পর একর জমিতে দোল খাচ্ছে কাশফুল।

শরতের সাদা মেঘের ভেলা আর ধু-ধু বালু চরে কাশবনের কাশফুলের উপস্থিতি সবারই মনে দোলা দেয়। কাশফুল দেখতে দুর দুরান্তর থেকে নানান বয়সী মানুষের সমাগম ঘটে। এই কাশবনগুলো শুধু প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের কাছে প্রিয় নয়,এটি এখন চরবাসীর জন্য আর্শিবাদ ।

সাংসারিক নানান কাজে কাশের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে।জেলার বাইরেও কাশের ব্যাপক চাহিদা।

বিশেষ করে পানের বরজের জন্য রাজশাহী ও বরিশাল অঞ্চলে পান চাষিদের কাছে কাশের প্রচুর চাহিদা।এছাড়া স্থানীয়ভাবে গো খাদ্য সংকট, ঘরের বেড়া তৈরিতে কাশ ছনের প্রয়োজন হয়।

কথা হয় মোল্লার হাট চরের মতিয়ার রহমানের সাথে তিনি বলেন, কাশের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। এক সময় আমরা কাঁচা কাশগুলো কেটে শুধু গরু মহিষের খাদ্যের জন্য সংগ্রহ করতাম।

এখন বিভিন্ন কাজে কাশের ব্যবহার হচ্ছে। নৌকায় করে দুর দুরান্তে কাশ কিনে নিয়ে যাচ্ছে পান চাষিরা। পাইকারি দামে প্রতি হাজার কাশের আটি ৭-৮ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বছরই আমরা চরবাসী এই কাশ থেকে বেশ লাভবান হচ্ছি। এক বিঘা পতিত জমিতে খরচ ছাড়াই ১২-১৫ হাজার টাকার কাশ বিক্রি করে থাকি।

মশালের চরের বাসিন্দা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত বছর নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়েছি। এ বছর ওই জমিতে বালু জমে চর জেগেছে। সেই পতিত জমিতে প্রায় ৫ বিঘা জায়গা জুড়ে হয়েছে কাঁশবন।

এতে কোন খরচ নাই। সাধারণত বন্যা ও বন্যা পরবর্তি সময়ে জেগে ওঠা চরগুলোর পতিত জমিতে কাশ জন্মে। মাত্র দুই-তিন মাস একটু গরু মহিষের হাত থেকে রক্ষা করতে পারলে ভালো কাশ পাওয়া যায়। আশা করছি ৫০-৬০ হাজার টাকার কাশ বিক্রি করতে পারবো।

তিনি আরো বলেন, প্রতি বছরই বন্যার সময় চারণভূমি ডুবে যায়। এসময় গো খাদ্যের সংকট দেখা দেয়। আমরা ধান খড়ের পাশাপাশি কাশ কেটে গো খাদ্যের অভাব পুরণ করে থাকি।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্ত বলেন, কুড়িগ্রাম জেলায় সাড়ে চার শতাধিক চরাঞ্চল রয়েছে।

এছাড়া জেলার ১৬ টি নদ নদী বেষ্টিত চরাঞ্চলগুলোতে খন্ড খন্ডভাবে সহস্রাধিক কাশবন রয়েছে। বর্তমানে কাশবন শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যকে বৃদ্ধি করছে না, পাশাপাশি কাশ বিক্রি করে কৃষকরা ভালো আয় করতে পারছে।

Facebook Comments Box