ইসরাইলের নির্বাচনে ঝুলে আছে নেতানিয়াহুর ভাগ্য, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা
- আপডেট সময় : ০৯:৫৮:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ডানপন্থি জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা নিয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর প্রকাশিত বিভিন্ন বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারছে না। ফলে দেশটিতে সরকার গঠন নিয়ে নতুন করে গভীর অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নির্বাচন পরবর্তী ইসরাইলের তিনটি প্রধান টেলিভিশন চ্যানেল—১১, ১২ ও ১৩-এর বুথফেরত জরিপে প্রাথমিক চিত্র উঠে আসে যে, নেতানিয়াহুর জোট ৫০টি আসন পেতে পারে, যেখানে বিরোধী ইহুদি জোটের সম্ভাব্য আসন ৫২টি। তবে মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার ভোর নাগাদ হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, নেতানিয়াহুর জোটের আসন সংখ্যা কিছুটা বেড়ে ৫২টি হয়েছে এবং বিরোধী জোটের আসন কমে ৪৯টিতে নেমে এসেছে। উল্লেখ্য যে, ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য কমপক্ষে ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর ইসরাইলের তিনটি প্রধান টেলিভিশন চ্যানেল— ১১, ১২ ও ১৩-এর বুথফেরত জরিপে দেখা যায়, নেতানিয়াহুর জোট ৫০টি আসন পেতে পারে। ভোট গণনা শেষে প্রকৃত ফলাফলে পরিবর্তন আসতে পারে। জনগণের রায় বাস্তবায়ন এবং নেতানিয়াহুর সরকার পরিবর্তনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। চ্যানেল ১২-কে আব্বাস বলেন, শুধু পরিবর্তনপন্থী শিবির নয়, নেতানিয়াহুর সমর্থক শিবির থেকেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। বুথফেরত জরিপে দলটি ১০ থেকে ১১টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দুটি প্রধান দল—জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম—অভূতপূর্ব সাফল্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নির্বাচনে ভালো ফলের পূর্বাভাস পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো।
বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, তারা মোট ১৮ থেকে ১৯টি আসন পেতে পারে, যা তাদের বর্তমান ১০টি আসনের চেয়ে অনেক বেশি।
নির্বাচন পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় রা’আম নেতা মানসুর আব্বাস জানান, দুই শিবিরের নেতারাই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তিনি সরকার গঠনের বাস্তব সম্ভাবনা যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এদিকে, জয়েন্ট লিস্টের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে এবং নেতারা নেতানিয়াহু ও তার ডানপন্থি মন্ত্রীদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এই জরিপে ২৪ থেকে ২৫টি আসন নিয়ে পার্লামেন্টের বৃহত্তম দল হওয়ার পথে রয়েছে, যদিও বর্তমানে তাদের আসনসংখ্যা ৩২। অন্যদিকে, তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি ২১ থেকে ২৩টি আসন পেতে পারে। বিরোধী শিবিরের অন্যান্য দলের মধ্যে বি’ইয়াচাদ ১২ থেকে ১৩টি, বামপন্থী ডেমোক্র্যাটস ৯ থেকে ১০টি এবং ওতজমা ইয়েহুদিত ৬ থেকে ৭টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গাদি আইজেনকট দাবি করেছেন, এই ফলাফল নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি জনগণের অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ। তবে বিরোধী শিবিরের জন্য বড় সংকট হলো, তাদের মধ্যে অধিকাংশ দলই আরব নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা নিয়ে বিভক্ত। ইয়িসরাইল বেইতেনু নেতা আভিগদর লিবারম্যান এবং বি’ইয়াচাদ নেতা নাফতালি বেনেট আরব দলগুলোর ওপর নির্ভর না করার অবস্থান অটল রেখেছেন। তবে ডেমোক্র্যাটস নেতা ইয়ার গোলান ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ দেখিয়েছেন। ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট বুথফেরত জরিপের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই ফল নেতানিয়াহু ও ৭ অক্টোবরের হামলার সময় ক্ষমতায় থাকা সরকারের প্রতি জনগণের অনাস্থার প্রতিফলন। এ ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু ও আইজেনকট—দুজনই প্রেসিডেন্টের কাছে সরকার গঠনের সুযোগ চাইতে পারেন।
ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগকে এখন সরকার গঠনের জন্য এমন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিতে হবে যার প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যদি কোনো পক্ষই সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়, তবে ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মতো আবারও নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন সরকার দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যেও ইসরায়েল দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার মুখে পড়েছিল।
এবারের নির্বাচনে গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে ৭৭ শতাংশের বেশি নাগরিক তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। তবে বুথফেরত জরিপ চূড়ান্ত ফলাফল নয়, তাই চূড়ান্ত হিসাব আসার পর রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েই গেছে। আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশের আগপর্যন্ত ইসরাইলের ক্ষমতার মসনদে কে বসবেন, তা নিশ্চিত করে বলা অসম্ভব। তিনি বলেন, চূড়ান্ত ফল একই রকম হলে এটি ইসরাইলের দায়িত্বশীল জায়নবাদী সংখ্যাগরিষ্ঠের বিজয় হবে।
সূত্র: যুগান্তর























