সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য পাথর আমদানি বন্ধ
- আপডেট সময় : ১০:৪৮:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবস্থিত দেশের ১৮তম সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর আমদানি অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ
সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য পাথর আমদানি বন্ধ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবস্থিত দেশের ১৮তম সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর আমদানি অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থলবন্দরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। অন্যদিকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থলবন্দরের ওয়্যার হাউজ ফাঁকা পড়ে আছে। বন্দরে কোন ভারতীয় ট্রাকের দেখা মেলেনি। অলস পড়ে আছে পাথর ভাঙার বেল্ট মিশিন গুলো। অধিকাংশ ডিপো পাথর শূন্য। ট্রাক টার্মিনাল খালি পড়ে আছে।
পড়ুন>>ভারতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে মোদি সরকারের ওপর চাপ
স্থলবন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিদিন গড়ে ১২০টির মতো ভারতীয় ট্রাক পাথর নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করতো। কিন্তু গত ৪ দিনে একটি ট্রাকও বাংলাদেশে আসেনি। এতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি করা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বেশ কিছু দিন থেকে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা যে পাথর দিচ্ছে তা গুনগত মানের দিক থেকে অত্যান্ত খারাপ।
এছাড়াও রিভার স্টোন বোল্ডার না দিয়ে দিচ্ছে ছোট পাথর। যা অটোক্রাশ মেশিনের মাধ্যমে ভাঙালে অনেক ছোট হয়ে যাচ্ছে। এতে পাথরের স্বাভাবিক মাপের সাথে না মেলায় কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাথর কিনতে চাচ্ছে না।
পড়ুন>>চাপের মুখেও কেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরাচ্ছে না মোদি সরকার
স্থলবন্দরের আমদানিকারকদের অভিযোগ, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা হঠাৎ পাথরের দাম বৃদ্ধি করেছে। এর আগে প্রতি টন রিভার স্টোন ১১ ডলার দাম ছিলো। যা বাংলাদেশে আসা পর্যন্ত খরচ হতো ১ হাজার ২৮০ টাকা থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। বর্তমানে সেই পাথরের দাম বাড়িয়ে ১৩.৫ ডলার করেছে। তাতে বাংলাদেশে আসা পর্যন্ত খরচ লাগতেছে ১ হাজার ৬৭০ টাকা।
এছাড়াও ভারত থেকে যে পাথর আমদানি করা হয় তা সরাসরি খনি থেকে ট্রাকে লোড করায় পাথরের সঙ্গে মাটি ও বালি পরিমাণ বেশি থাকায় পাথর ভাঙার পর মান খারাপ হচ্ছে।
ভারতের ব্যবসায়ীরা একতরফাভাবে দাম বৃদ্ধি ও নিম্নমানের পাথর সর্বরাহের কারণে ব্যবসায়ীরা গত ১৮ জুলাই (শনিবার) থেকে সোনাহাট স্থলবন্দরে অনির্দিষ্ট কালের জন্য পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন।
স্থলবন্দরের পাথর লোড আনলোড শ্রমিক হাশেম আলী ও আছর উদ্দিন জানালেন নিয়মিত কাজ না থাকায় কষ্টে আছেন তারা।
আরও পড়ুন>>অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিকল্পনা, আগস্টে তফসিল
ফরিদুল ইসলাম নামের এক ট্রাকচালক জানান, বন্দরে ভারত থেকে পাথর আনছেন না ব্যবসায়ীরা। আয় রোজগার কমে গেছে। কষ্টে আছেন পরিবার নিয়ে।
স্থলবন্দরের কমিশন এজেন্ট (ব্যবসায়ী) শুক্কুর আলী ও নুরুল ইসলাম জানান, আমরা প্রতিদিন গড়ে ১৫ ট্রাক মাল পাঠাতাম দেশের বিভিন্ন জেলায়। কিন্তু বন্দরে পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় গত ৫ দিনে কোন ট্রাক বাইরে পাঠাতে পারিনি।
সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি রফতানি কারক সমিতির সহ সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মাসুম জানালেন, ভারতের ব্যবসায়ীরা বর্তমানে যে পাথর দিচ্ছেন তা অত্যন্ত নিম্নমানের। এই পাথর দিয়ে কাজের মান খারাপ হওয়ায় কোন ঠিকাদার পাথর কিনতে চাচ্ছে না।
আরও পড়ুন>>জুলাইয়ের ২১ দিনে রেমিট্যান্স এলো প্রায় ২৫ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা
স্থলবন্দরের আমদানি রফতানি কারক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন ব্যাপারী জানান, ভারত থেকে চাহিদামত পাথর না পাওয়ায় এবং পাথরের মান খারাপ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই সাময়িকভাবে ভারত থেকে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে।
সোনাহাট স্থলবন্দর সহকারী পরিচাল আমিনুল হক জানান, দু’দেশের আমদানি ও রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীদের কারণে সোনাহাট স্থলবন্দর পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























