ঢাকা ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

বেনাপোলে পণ্য খালাসে বিভ্রান্তি: তদন্তের আগেই শেড ইনচার্জ ক্লোজ

যশোর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:৪৬:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে

বেনাপোলে পণ্য খালাসে বিভ্রান্তি: তদন্তের আগেই শেড ইনচার্জ ক্লোজ

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

বেনাপোলে পণ্য খালাসে বিভ্রান্তি: তদন্তের আগেই শেড ইনচার্জ ক্লোজ

 

 

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরের ২৯ নম্বর শেড থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে তিনটি ট্রাকে পণ্য বের করে নেওয়ার একটি অভিযোগ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগের মূল বিষয়বস্তু ছিল, রাতের আঁধারে ৪৪৪ প্যাকেজের একটি ভারতীয় পণ্য চালান শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বন্দর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার আগেই দুই শেড ইনচার্জকে প্রশাসনিকভাবে ক্লোজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠেছে।

পড়ুন>>ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী, দুই দশকের উপস্থিতির পর

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরের ২৯ নম্বর শেড থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্যবোঝাই তিনটি ট্রাক বেরিয়ে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার আগেই দুই শেড ইনচার্জকে ‘ক্লোজ’ করার অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২৯ নম্বর শেডে ৫ ও ৮ সেপ্টেম্বর দুটি পৃথক পণ্য চালান জমা হয়েছিল। এর মধ্যে ৫ সেপ্টেম্বর মেসার্স সাদীয়া এন্টারপ্রাইজের আমদানিকৃত ৪৫৫ প্যাকেজের সিন্থেটিক ফেব্রিক্সের একটি চালান বন্দরে আসে (ম্যানিফেস্ট নম্বর ৫৪৩৩৮, বিল অব এন্ট্রি নম্বর ৬০৬১৪)।

 

পড়ুন>>দৌলতপুরে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া ও শুল্ক পরিশোধ শেষে ৮ সেপ্টেম্বর রাতে চালানটি বৈধভাবে বন্দর থেকে খালাস করা হয়। পণ্যগুলো তিনটি ট্রাকে (যশোর-ট-১১৩১৩৩, ঢাকা মেট্রো-ট-২০৮৩৪৯ ও ঢাকা মেট্রো-ট-৭৪৭১) করে বের করার সময় যাবতীয় গেটপাস ও নথিপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছিল।

 

এই চালানটির মোট খালাস মূল্য ছিল ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ৭৪৫ টাকা। চালানটির ম্যানিফেস্ট নম্বর ৫৪৩৩৮, তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এবং বিল অব এন্ট্রি নম্বর ৬০৬১৪, তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬। বন্দর মাশুল বাবদও অর্থ পরিশোধ করা হয়।

অন্যদিকে, ৮ সেপ্টেম্বর একই শেডে ‘সানজিদা ইন্টারন্যাশনাল’ আমদানিকারকের ৪৪৪ প্যাকেজের (ওজন ২২ হাজার ৪ কেজি) সিন্থেটিক ফেব্রিক্সের আরেকটি চালান আসে। ভারতের এই চালানের ম্যানিফেস্ট নম্বর ছিল ৫৪৮১১ এবং এর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টও ছিল প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল। একই শেডে কাছাকাছি সময়ে দুটি প্রায় সমজাতীয় চালান থাকায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন>>শার্শায় ২৬টি স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক

সরেজমিন তদন্তে দেখা যায়, ৪৪৪ প্যাকেজের ওই চালানটি অক্ষত অবস্থায় ২৯ নম্বর শেডেই সংরক্ষিত আছে। অর্থাৎ, পণ্য সরানোর বিষয়টি ছিল একটি ভুল বোঝাবুঝি মাত্র।

শেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সফিকুল ইসলাম ও রিপন দাস জানিয়েছেন, ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই পুরো বিষয়টি জটিল হয়েছে। তাদের দাবি, কোনো ধরনের চুলচেরা বিশ্লেষণ বা নথিপত্র যাচাইয়ের আগেই তাড়াহুড়ো করে তাদের ক্লোজ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবেই তাদের ক্লোজ করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হবে বলে তিনি জানান।

সূত্রমতে, একই শেডে কর্মরত কাস্টমসের দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) তরিকুল ও সহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো বড় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; তাদের কেবল জন প্রশাসনে সংযুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, তথ্যগত বিভ্রান্তির কারণে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়। প্রকৃত ঘটনা উন্মোচনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের নথিপত্র ও দায়িত্বের যথাযথ পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বেনাপোলে পণ্য খালাসে বিভ্রান্তি: তদন্তের আগেই শেড ইনচার্জ ক্লোজ

আপডেট সময় : ০২:৪৬:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

বেনাপোলে পণ্য খালাসে বিভ্রান্তি: তদন্তের আগেই শেড ইনচার্জ ক্লোজ

 

 

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরের ২৯ নম্বর শেড থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে তিনটি ট্রাকে পণ্য বের করে নেওয়ার একটি অভিযোগ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগের মূল বিষয়বস্তু ছিল, রাতের আঁধারে ৪৪৪ প্যাকেজের একটি ভারতীয় পণ্য চালান শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বন্দর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার আগেই দুই শেড ইনচার্জকে প্রশাসনিকভাবে ক্লোজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠেছে।

পড়ুন>>ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী, দুই দশকের উপস্থিতির পর

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরের ২৯ নম্বর শেড থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্যবোঝাই তিনটি ট্রাক বেরিয়ে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার আগেই দুই শেড ইনচার্জকে ‘ক্লোজ’ করার অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২৯ নম্বর শেডে ৫ ও ৮ সেপ্টেম্বর দুটি পৃথক পণ্য চালান জমা হয়েছিল। এর মধ্যে ৫ সেপ্টেম্বর মেসার্স সাদীয়া এন্টারপ্রাইজের আমদানিকৃত ৪৫৫ প্যাকেজের সিন্থেটিক ফেব্রিক্সের একটি চালান বন্দরে আসে (ম্যানিফেস্ট নম্বর ৫৪৩৩৮, বিল অব এন্ট্রি নম্বর ৬০৬১৪)।

 

পড়ুন>>দৌলতপুরে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া ও শুল্ক পরিশোধ শেষে ৮ সেপ্টেম্বর রাতে চালানটি বৈধভাবে বন্দর থেকে খালাস করা হয়। পণ্যগুলো তিনটি ট্রাকে (যশোর-ট-১১৩১৩৩, ঢাকা মেট্রো-ট-২০৮৩৪৯ ও ঢাকা মেট্রো-ট-৭৪৭১) করে বের করার সময় যাবতীয় গেটপাস ও নথিপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছিল।

 

এই চালানটির মোট খালাস মূল্য ছিল ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ৭৪৫ টাকা। চালানটির ম্যানিফেস্ট নম্বর ৫৪৩৩৮, তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এবং বিল অব এন্ট্রি নম্বর ৬০৬১৪, তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬। বন্দর মাশুল বাবদও অর্থ পরিশোধ করা হয়।

অন্যদিকে, ৮ সেপ্টেম্বর একই শেডে ‘সানজিদা ইন্টারন্যাশনাল’ আমদানিকারকের ৪৪৪ প্যাকেজের (ওজন ২২ হাজার ৪ কেজি) সিন্থেটিক ফেব্রিক্সের আরেকটি চালান আসে। ভারতের এই চালানের ম্যানিফেস্ট নম্বর ছিল ৫৪৮১১ এবং এর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টও ছিল প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল। একই শেডে কাছাকাছি সময়ে দুটি প্রায় সমজাতীয় চালান থাকায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন>>শার্শায় ২৬টি স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক

সরেজমিন তদন্তে দেখা যায়, ৪৪৪ প্যাকেজের ওই চালানটি অক্ষত অবস্থায় ২৯ নম্বর শেডেই সংরক্ষিত আছে। অর্থাৎ, পণ্য সরানোর বিষয়টি ছিল একটি ভুল বোঝাবুঝি মাত্র।

শেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সফিকুল ইসলাম ও রিপন দাস জানিয়েছেন, ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই পুরো বিষয়টি জটিল হয়েছে। তাদের দাবি, কোনো ধরনের চুলচেরা বিশ্লেষণ বা নথিপত্র যাচাইয়ের আগেই তাড়াহুড়ো করে তাদের ক্লোজ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবেই তাদের ক্লোজ করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হবে বলে তিনি জানান।

সূত্রমতে, একই শেডে কর্মরত কাস্টমসের দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) তরিকুল ও সহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো বড় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; তাদের কেবল জন প্রশাসনে সংযুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, তথ্যগত বিভ্রান্তির কারণে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়। প্রকৃত ঘটনা উন্মোচনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের নথিপত্র ও দায়িত্বের যথাযথ পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

Facebook Comments Box