সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড
- আপডেট সময় : ০৭:০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে চললেও ঢাকা কেন এ বিষয়ে আগে থেকে অবগত হতে পারেনি, তা নিয়ে এখন নানা মহলে আলোচনা চলছে। গত ১৪ই অক্টোবর সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে সৌদি প্রেস এজেন্সি এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে। নিহত দুই বাংলাদেশির নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি (সিঁথি) আক্তার। খবরটি জানার পর ১৫ই অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশ কন্স্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বিস্তারিত জানতে কূটনৈতিক পত্র পাঠায় এবং ১৮ই অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ বিন আবিয়ার সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে। এরপরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ কেন কাজে লাগানো গেল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অথচ দেশটিতে প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০শে সেপ্টেম্বর সৌদি কর্তৃপক্ষ জেদ্দায় বাংলাদেশ কন্স্যুলেটে বন্দিদের একটি তালিকা পাঠিয়েছিল, যেখানে এই দুজনের নাম ছিল। তালিকায় নজরুলের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ এবং সুইটির বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগের কথা থাকলেও তাদের সাজার তথ্য ছিল না। বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির স্বীকার করেছেন যে, তথ্য আদান-প্রদান ও কূটনৈতিক যোগাযোগে ঘাটতি ছিল। তিনি বলেন, অপরাধের ধরন উল্লেখ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতাশাজনক এবং এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। সোমবার জেদ্দায় সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার সাথে বৈঠকেও বাংলাদেশের কূটনীতিকরা কেন আগে জানানো হয়নি সেই প্রশ্ন তোলেন, তবে সেখান থেকে এখনো কোনো সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে শিগগিরই বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।
বন্দিদের তালিকা পাওয়ার পর মিশনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালের ১লা আগস্ট নজরুল ইসলাম এবং পরদিন সুইটি আক্তারকে আটক করা হয়েছিল। নজরুলের পরিবার জানিয়েছে, তারা গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানলেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরটি গণমাধ্যমের মাধ্যমেই জানতে পারে। এদিকে কন্স্যুলেটের ১৮ই অক্টোবরের একটি গোপনীয় স্মারকলিপি থেকে জানা যায়, পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তার জন্য জেদ্দায় কন্স্যুলেটের সাথে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, সৌদি আদালতে দোভাষীর ব্যবস্থা থাকলেও আসামিরা নিজেদের পছন্দের কাউকে বেছে নিতে পারেন না এবং দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সাথে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কারণের সম্পর্ক নিয়েও অস্পষ্টতা রয়েছে। তার সঙ্গে সপ্তাহে একবার পরিবারের সদস্যদের কথা হতো। সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যেও অসঙ্গতি: বাংলাদেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে সৌদি পক্ষ জানিয়েছে, ২০২৩ সালের আগস্টে গ্রেপ্তারের পর দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের দূতাবাস কিংবা কন্স্যুলেটকে কিছু জানায়নি।
সৌদি আরবের বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের মিশনকে লিখিতভাবে জানানোর নিয়ম রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মিশনকে আদৌ কিছু জানানো হয়েছিল কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচার চলাকালে দোভাষী হিসেবে বাংলাদেশিরা ভূমিকা রাখলেও মিশন কেন সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিল, তা রহস্যজনক। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, নিম্ন আদালতে সাজার পর ১৩ জন বিচারকের একটি আপিল প্যানেল মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং নিয়ম মেনেই তা কার্যকর করা হয়েছে। মামলার অবস্থা, আদালতের কার্যক্রম, দণ্ডের ধরন এবং আপিলের সুযোগ সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ রাখাও কন্স্যুলার দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিদেশে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক গুরুতর অপরাধে আটক হলে কেবল বন্দি তালিকায় নাম থাকা যথেষ্ট নয়, বরং মামলার অগ্রগতি ও আইনি সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা মিশনের দায়িত্ব। বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি থাকলে আইনি পরামর্শ, দোভাষী এবং পরিবারের সাথে যোগাযোগের ব্যবস্থা করা অত্যাবশ্যক। নজরুল ও সুইটির ক্ষেত্রে এসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেনি।
দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সাথে বন্দি হস্তান্তর চুক্তি করার প্রয়োজনীয়তা আলোচনায় থাকলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। যদিও ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসা বিন ইউসুফ আল-দুহাইলানের সাথে বৈঠকের পর বিচার বিভাগের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতাবিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, কিন্তু তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে বাংলাদেশের বন্দি হস্তান্তর চুক্তি থাকলেও সৌদি আরবের সাথে এমন চুক্তির অনুপস্থিতি বিদেশে বিপদে পড়া নাগরিকদের আইনি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সৌদি আরবের সঙ্গে বন্দি হস্তান্তর চুক্তি নেই বাংলাদেশের: স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সৌদি আরবের সঙ্গে বন্দি হস্তান্তর চুক্তি করেনি বাংলাদেশ। ভারতের সঙ্গে ২০১০ সালে এবং আমিরাতের সঙ্গে ২০১৪ সালে এ চুক্তি হয়।
সূত্র: মানবজমিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























