আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, দেশে ফ্যাসিবাদ যেন কোনোভাবেই পুনর্বাসিত না হয় এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় আমরা যেন নিজেরাও ফ্যাসিস্ট হয়ে না উঠি, তা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরি করা জরুরি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল শেরাটনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর উদ্যোগে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিভা বিকাশে ইনস্টিটিউটের দীর্ঘদিনের কার্যক্রমের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, অন্ধকে আলো দেখানোর চেয়ে মহৎ কাজ আর নেই। প্রতিষ্ঠানটি নীরবে নিভৃতে একদল মানুষকে স্বাবলম্বী করে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে সাহায্য করছে। তিন বছর আগে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের এই কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করায় তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান এবং তাদের অধিকারের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন।
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের ভয়াবহ স্মৃতিচারণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে পাখির মতো গুলি করে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে প্রাণঘাতী হামলার শিকার হতে হয়েছে। এই নৃশংসতায় প্রায় ৩০০ মানুষ হাত, পা কিংবা মাথা হারিয়ে চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, মানুষের মতো মুখাবয়ব নিয়ে যারা রাতের অন্ধকারে ক্রসফায়ারের নামে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেছে, তাদের অনেকের স্বজন এখনো নিখোঁজ।
যারা এখনো ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন, তাদের উদ্দেশে আসাদুজ্জামান বলেন, আপনারা চোখ খুলুন। নাগরিক হিসেবে সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এটি আপনাদের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভুল হতে পারে, তবে সেই ভুল সংশোধন করে সামনে এগিয়ে যাওয়াই প্রকৃত দেশপ্রেম। শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার কাজে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এমন একটি বাংলাদেশের পথে হাঁটতে হবে যেখানে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে। যারা ফ্যাসিস্টদের খুন-খারাপি দেখছেন না, তাদের অন্তর চক্ষু খোলার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আসুন আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে দেশ গড়ার কাজে মনোনিবেশ করি।
উল্লেখ্য, এ বছর প্রতিযোগিতার প্রতিপাদ্য ছিল ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা’। সারা দেশ থেকে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক শিক্ষার্থীরা কোরআন তেলাওয়াত, হামদ-নাত ও রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ফয়েজ আহমেদ, ইনস্টিটিউটের সভাপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম নুরউদ্দিন খান, ইরান দূতাবাসের প্রথম কাউন্সেলর এসরাফিল আমিরি গোর্জাদ্দিনি, ঢাকা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান এরশাদ ফয়েজ এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হক।
Leave a Reply