ঢাকা ১০:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের সতর্কবার্তা দিল কাতার পাঁচ দফা দাবিতে রামেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের ভিসা অব্যাহতি নিয়ে কম্বোডিয়া-ক্রোয়েশিয়ার চুক্তি প্রধানমন্ত্রী: ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: গোপনীয় নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য নরসিংদীর রায়পুরায় নিখোঁজের ঘটনায় বাড়ছে জনমনে উদ্বেগ সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নেত্রকোনায় সাংবাদিক হত্যা ও দোয়ারাবাজারে হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ভূরুঙ্গামারীতে বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে জখম, জ্ঞান ফেরেনি নুর মোহাম্মদের ডিসেম্বরে ইউএনও এবং জানুয়ারিতে ডিসি সম্মেলন আয়োজনের উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রী: ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম শহরের জে এম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নাগরিক হিসেবে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ধর্মীয় পরিচয় বা সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু বিভাজনের ভিত্তিতে কারো অধিকার খর্ব করার সুযোগ নেই। সব ধর্মের মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির মাধ্যমেই একটি শান্তিময় ও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তারেক রহমান বলেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান—ধর্ম যার যার নিজস্ব বিশ্বাসের জায়গা, কিন্তু জাতীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে সবাই আমরা বাংলাদেশি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ের গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষের মূল লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা। এসব ঐতিহাসিক লড়াইয়ে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ এক কাতারে শামিল হয়েছিল এবং কেউ কারো ধর্মীয় পরিচয়কে কখনো বিচার্য বিষয় করে তোলেনি।

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, সে সময় গুলিবিদ্ধ বা আহত মানুষের চিকিৎসার সময় তাদের ধর্ম পরিচয় জানতে চাওয়া হয়নি। একইভাবে মুক্তিযুদ্ধেও ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষ দেশমাতৃকার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়ের কোনো স্থান নেই। তিনি নিজের উদাহরণ দিয়ে বলেন, দীর্ঘ সময় বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকাকালীন তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও সেখানে অন্য পরিচয়ে ছিলেন, যা প্রমাণ করে নাগরিক হিসেবে পরিচয়টিই বড়। তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে জানান, রাজনৈতিক কারণে তাকে দীর্ঘদিন লন্ডনে থাকতে হয়েছে। তাই একজন নাগরিকের ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো পার্থক্য করা যাবে না। যারা মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানে জীবন দিয়েছেন, তাদের স্বপ্ন ছিল এমন একটি দেশ যেখানে মানুষ নির্বিঘ্নে ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে পারবে। এই স্বপ্ন পূরণে প্রতিটি ধর্মাবলম্বীর সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, আপনার সহযোগিতা ছাড়া সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গঠন করা অসম্ভব।

অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং জেলা প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের জনপ্রতিনিধি ও নেতারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রধানমন্ত্রী: ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে

আপডেট সময় : ০৮:৩৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম শহরের জে এম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নাগরিক হিসেবে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ধর্মীয় পরিচয় বা সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু বিভাজনের ভিত্তিতে কারো অধিকার খর্ব করার সুযোগ নেই। সব ধর্মের মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির মাধ্যমেই একটি শান্তিময় ও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তারেক রহমান বলেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান—ধর্ম যার যার নিজস্ব বিশ্বাসের জায়গা, কিন্তু জাতীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে সবাই আমরা বাংলাদেশি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ের গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষের মূল লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা। এসব ঐতিহাসিক লড়াইয়ে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ এক কাতারে শামিল হয়েছিল এবং কেউ কারো ধর্মীয় পরিচয়কে কখনো বিচার্য বিষয় করে তোলেনি।

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, সে সময় গুলিবিদ্ধ বা আহত মানুষের চিকিৎসার সময় তাদের ধর্ম পরিচয় জানতে চাওয়া হয়নি। একইভাবে মুক্তিযুদ্ধেও ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষ দেশমাতৃকার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়ের কোনো স্থান নেই। তিনি নিজের উদাহরণ দিয়ে বলেন, দীর্ঘ সময় বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকাকালীন তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও সেখানে অন্য পরিচয়ে ছিলেন, যা প্রমাণ করে নাগরিক হিসেবে পরিচয়টিই বড়। তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে জানান, রাজনৈতিক কারণে তাকে দীর্ঘদিন লন্ডনে থাকতে হয়েছে। তাই একজন নাগরিকের ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো পার্থক্য করা যাবে না। যারা মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানে জীবন দিয়েছেন, তাদের স্বপ্ন ছিল এমন একটি দেশ যেখানে মানুষ নির্বিঘ্নে ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে পারবে। এই স্বপ্ন পূরণে প্রতিটি ধর্মাবলম্বীর সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, আপনার সহযোগিতা ছাড়া সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গঠন করা অসম্ভব।

অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং জেলা প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের জনপ্রতিনিধি ও নেতারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

Facebook Comments Box