ঢাকা ০৯:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

দৌলতপুরে ২৪টি অবৈধ ইটভাটায় অবাধে পোড়ানো হচ্ছে জ্বালানী কাঠ

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া )থেকে আহাদ নয়ন
  • আপডেট সময় : ১০:৫৪:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩ ৩২৬ বার পড়া হয়েছে

দৌলতপুরে ২৪টি অবৈধ ইটভাটায় অবাধে পোড়ানো হচ্ছে জ্বালানী কাঠ

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ২৪টি অবৈধ ইটভাটায় দেদারসে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী ইট পোড়াতে কয়লা ব্যবহারে সরকারী নির্দেশ থাকলেও তা না মেনে যত্রতত্র ইটভাটা স্থাপন করে ব্যবহার করা হচ্ছে জ্বালালী কাঠ বা কাঠের গুড়ি।

এতে করে পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি উজার হচ্ছে গাছ। এছাড়া ৩-৪ ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে তা ভাটায় ব্যবহার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এতে জমির উর্বরতা কমে চাষাবাদের উপযোগিতা হারাচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, দৌলতপুর উপজেলার ২৪টি ইটভাটার সবই অবৈধ।কোনটিরই পরিবেশের ছাড়পত্র নেই।

প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দায়সারা কিছু অভিযান পরিচালনা করা হলেও ভাটাগুলো বন্ধে স্থায়ী কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়না। মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি করে বছরের পর বছর কিভাবে এসব অবৈধ ইটভাটা পরিচালিত হচ্ছে তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে।

কয়েকটি ইটভাটা ঘুরে দেখা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার সদরের এক কিলোমাটারের মধ্যে স্বরুপপুর, মানিকদিয়াড় ও সাদীপুর গ্রামের আবাসিক এলাকায় ও স্কুল কলেজের গা ঘেসে গড়ে উঠেছে ৮টি ইটভাটা।

বিদ্যালয়, দৌলতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও সরকারী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজের পাশেই আরো ৮টি ইটভাটা। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও হাসপাতালের রোগীরা ভাটার বিষাক্ত পরিবেশের মধ্যেই থাকতে হচ্ছে।

এছাড়াও উপজেলার কল্যানপুর, ডাংমড়কা, রিফায়েতপুর, চকদৌলতপুর, ঝাউদিয়া, সংগ্রামপুর, বড়গাংদিয়া, বোয়ালিয়া ও প্রাগপুর এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ইটভাটা রয়েছে।

ভাটাগুলোতে হাজার হাজার মন গাছের গুড়ির স্তপ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ১২০ ফুট উচু স্থায়ী চিমনির সরকারী নির্দেশনা থাকলেও এসব ইটভাটার চুল্লিগুলোতে ১২০ ফুটের পরিবর্তে কোন কোন ভাটায় ৩০ থেকে ৭০ ফুট চিমনী। এছাড়াও রয়েছে ২০ ফুটের ড্রাম চিমনিও।

ইটভাটা পোড়ানো শ্রমিক ও কাঠ সরকারহকারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি মৌসুমে প্রায় ছয় মাস ইটভাটাগুলো চলে। একটি ইটভাটায় দৈনিক ৩৫০-৪০০ মন কাঠ প্রয়োজন হয়।সে হিসেবে প্রতি মৌসুমে এসব ইটভাটায় পেটে যাচ্ছে ১৫ থেকে ১৭ লক্ষ মন কাঠ পোড়ানো হচ্ছে।

ইটভাটায় কাঠ সরবারহের জন্য রয়েছে বেশ কিছু ব্যবসায়ী। তারা কুষ্টিয়া সহ আশেপাশের জেলা মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, যশোর থেকে কাঠ নিয়ে এসে উপজেলার বিভিন্ন ভাটা মালিকদের কাছে বিক্রি করা করেন। অসাধু ভাটা মালিকরা জ্বালানী হিসেবে দেদারছে এসব কাঠের ব্যবহার করছেন।

এদিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার তিন ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় নেয়া হচ্ছে। ইট তেরীর কাজে ব্যবহৃত মাটি জমির উপরের স্তরের হওয়ায় দিন দিন জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে।

প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রন আইন (২০১৩, সংশোধিত-২০১৯) অনুযায়ী, কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে নেয়া ও ইটভাটায় জ্বালানী হিসেবে কাঠ পোড়ানো দন্ডনীয় অপরাধ এবং আবাসিক এলাকার ৩ কিলোমিটারের মধ্যে ও কৃষি জমিতে ভাটা তৈরী করা যাবে না।

কিন্তু এসবের কোনটায় মানা হচ্ছে না। প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে কিভাবে এসব কর্মকান্ড চলছে তা নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে নানা গুঞ্জন রয়েছে। মৌসুমে দু’একটি লোক দেখানো অভিযানের মাধ্যমে ভাটাগুলো থেকে নাম মাত্র জরিমানা আদায় করেই ক্ষান্ত প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর।

বছরের পর বছর এসব অবৈধ ভাটা চললেও এগুলো নিয়ন্ত্রন বা বন্ধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ কেন নেয়া হয় না সে বিষয়ে এলাকার সচেতন মহলের প্রশ্ন রয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম তুহিন বলেন, হাসপাতালেল পাশে অনেকগুলো ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে।

যা রোগিদের জন্য ভুবই মারাত্বক হতে পারে। ইটভাটাগুলো থেকে নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট, ব্রঙ্কাইটিস, সাইনোসাইটিস, ফুসফুসের ক্যানসার, শিশুদের নিউমোনিয়াসহ নানা রোগ দেখা দিচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দরকার।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কুষ্টিয়া কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আতাউর রহমান বলেন, সরকারী বিধি অনুযায়ী ভাটা পরিচালনা করার জন্য জেলার সকল ভাটা মালিককে চিঠি দেয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যে ভাটাগুলোতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি অবৈধ ভাটায় অভিযান চালানো হবে।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল জব্বার বলেন, ইতিমধ্যে কয়েকটি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ফসলি জমির টপ সয়েল কাটা ও পরিবহন যেন না হয় সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে টপ সয়েল কাটার অভিযোগে একাধিক জমির মালিককে জরিমানা ও মাটি কাটার যন্ত্র ও পরিবহন কাজে ব্যবহৃত ট্রলি আটক করার পাশাপাশি অভিযান অব্যাহত আছে ।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দৌলতপুরে ২৪টি অবৈধ ইটভাটায় অবাধে পোড়ানো হচ্ছে জ্বালানী কাঠ

আপডেট সময় : ১০:৫৪:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ২৪টি অবৈধ ইটভাটায় দেদারসে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী ইট পোড়াতে কয়লা ব্যবহারে সরকারী নির্দেশ থাকলেও তা না মেনে যত্রতত্র ইটভাটা স্থাপন করে ব্যবহার করা হচ্ছে জ্বালালী কাঠ বা কাঠের গুড়ি।

এতে করে পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি উজার হচ্ছে গাছ। এছাড়া ৩-৪ ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে তা ভাটায় ব্যবহার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এতে জমির উর্বরতা কমে চাষাবাদের উপযোগিতা হারাচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, দৌলতপুর উপজেলার ২৪টি ইটভাটার সবই অবৈধ।কোনটিরই পরিবেশের ছাড়পত্র নেই।

প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দায়সারা কিছু অভিযান পরিচালনা করা হলেও ভাটাগুলো বন্ধে স্থায়ী কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়না। মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি করে বছরের পর বছর কিভাবে এসব অবৈধ ইটভাটা পরিচালিত হচ্ছে তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে।

কয়েকটি ইটভাটা ঘুরে দেখা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার সদরের এক কিলোমাটারের মধ্যে স্বরুপপুর, মানিকদিয়াড় ও সাদীপুর গ্রামের আবাসিক এলাকায় ও স্কুল কলেজের গা ঘেসে গড়ে উঠেছে ৮টি ইটভাটা।

বিদ্যালয়, দৌলতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও সরকারী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজের পাশেই আরো ৮টি ইটভাটা। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও হাসপাতালের রোগীরা ভাটার বিষাক্ত পরিবেশের মধ্যেই থাকতে হচ্ছে।

এছাড়াও উপজেলার কল্যানপুর, ডাংমড়কা, রিফায়েতপুর, চকদৌলতপুর, ঝাউদিয়া, সংগ্রামপুর, বড়গাংদিয়া, বোয়ালিয়া ও প্রাগপুর এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ইটভাটা রয়েছে।

ভাটাগুলোতে হাজার হাজার মন গাছের গুড়ির স্তপ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ১২০ ফুট উচু স্থায়ী চিমনির সরকারী নির্দেশনা থাকলেও এসব ইটভাটার চুল্লিগুলোতে ১২০ ফুটের পরিবর্তে কোন কোন ভাটায় ৩০ থেকে ৭০ ফুট চিমনী। এছাড়াও রয়েছে ২০ ফুটের ড্রাম চিমনিও।

ইটভাটা পোড়ানো শ্রমিক ও কাঠ সরকারহকারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি মৌসুমে প্রায় ছয় মাস ইটভাটাগুলো চলে। একটি ইটভাটায় দৈনিক ৩৫০-৪০০ মন কাঠ প্রয়োজন হয়।সে হিসেবে প্রতি মৌসুমে এসব ইটভাটায় পেটে যাচ্ছে ১৫ থেকে ১৭ লক্ষ মন কাঠ পোড়ানো হচ্ছে।

ইটভাটায় কাঠ সরবারহের জন্য রয়েছে বেশ কিছু ব্যবসায়ী। তারা কুষ্টিয়া সহ আশেপাশের জেলা মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, যশোর থেকে কাঠ নিয়ে এসে উপজেলার বিভিন্ন ভাটা মালিকদের কাছে বিক্রি করা করেন। অসাধু ভাটা মালিকরা জ্বালানী হিসেবে দেদারছে এসব কাঠের ব্যবহার করছেন।

এদিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার তিন ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় নেয়া হচ্ছে। ইট তেরীর কাজে ব্যবহৃত মাটি জমির উপরের স্তরের হওয়ায় দিন দিন জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে।

প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রন আইন (২০১৩, সংশোধিত-২০১৯) অনুযায়ী, কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে নেয়া ও ইটভাটায় জ্বালানী হিসেবে কাঠ পোড়ানো দন্ডনীয় অপরাধ এবং আবাসিক এলাকার ৩ কিলোমিটারের মধ্যে ও কৃষি জমিতে ভাটা তৈরী করা যাবে না।

কিন্তু এসবের কোনটায় মানা হচ্ছে না। প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে কিভাবে এসব কর্মকান্ড চলছে তা নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে নানা গুঞ্জন রয়েছে। মৌসুমে দু’একটি লোক দেখানো অভিযানের মাধ্যমে ভাটাগুলো থেকে নাম মাত্র জরিমানা আদায় করেই ক্ষান্ত প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর।

বছরের পর বছর এসব অবৈধ ভাটা চললেও এগুলো নিয়ন্ত্রন বা বন্ধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ কেন নেয়া হয় না সে বিষয়ে এলাকার সচেতন মহলের প্রশ্ন রয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম তুহিন বলেন, হাসপাতালেল পাশে অনেকগুলো ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে।

যা রোগিদের জন্য ভুবই মারাত্বক হতে পারে। ইটভাটাগুলো থেকে নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট, ব্রঙ্কাইটিস, সাইনোসাইটিস, ফুসফুসের ক্যানসার, শিশুদের নিউমোনিয়াসহ নানা রোগ দেখা দিচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দরকার।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কুষ্টিয়া কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আতাউর রহমান বলেন, সরকারী বিধি অনুযায়ী ভাটা পরিচালনা করার জন্য জেলার সকল ভাটা মালিককে চিঠি দেয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যে ভাটাগুলোতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি অবৈধ ভাটায় অভিযান চালানো হবে।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল জব্বার বলেন, ইতিমধ্যে কয়েকটি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ফসলি জমির টপ সয়েল কাটা ও পরিবহন যেন না হয় সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে টপ সয়েল কাটার অভিযোগে একাধিক জমির মালিককে জরিমানা ও মাটি কাটার যন্ত্র ও পরিবহন কাজে ব্যবহৃত ট্রলি আটক করার পাশাপাশি অভিযান অব্যাহত আছে ।

 

 

Facebook Comments Box